মাস্তুল সিনেমা আজ দেশের দর্শকদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। নদী, জাহাজ এবং বন্দরনির্ভর মানুষের জীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ব্যতিক্রমধর্মী চলচ্চিত্রটি প্রথম ধাপে রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের মোট পাঁচটি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা পাওয়ার পর এবার দেশের দর্শকদের সামনে এসেছে সিনেমাটি।
নির্মাতা মোহাম্মদ নূরুজ্জামান জানান, বসুন্ধরা স্টার সিনেপ্লেক্সে প্রতিদিন দুটি শো অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া যমুনা ব্লকবাস্টার, লায়ন্স সিনেমা, সিনেস্কোপ এবং স্টার সিনেপ্লেক্স নারায়ণগঞ্জ শাখাতেও নিয়মিত প্রদর্শনী থাকবে। ফলে রাজধানী ও আশপাশের দর্শকরা সহজেই সিনেমাটি উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।
মাস্তুল সিনেমা-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে একটি জ্বালানিবাহী তেলের ট্যাংকারে কর্মরত বৃদ্ধ পাচক মকবুল এবং বন্দর এলাকার পথশিশু নূরাকে ঘিরে। দুই ভিন্ন প্রজন্মের মানুষের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে মানবিকতা, নিঃসঙ্গতা, সংগ্রাম, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতা। বাস্তবধর্মী গল্পই সিনেমাটিকে অন্য চলচ্চিত্র থেকে আলাদা করেছে।
মকবুল চরিত্রে অভিনয় করেছেন গুণী অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রে রয়েছেন দীপক সুমন, আমিনুর রহমান মুকুল, আরিফ হাসানসহ আরও অনেক শিল্পী। প্রত্যেকেই নিজ নিজ চরিত্রে বাস্তবসম্মত অভিনয় করে সিনেমাটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন।
দেশে মুক্তির আগেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করেছে মাস্তুল সিনেমা। গত বছর ৪৭তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয় সিনেমাটি। সেখানে এটি ‘স্পেশাল মেনশন’ সম্মাননা অর্জন করে, যা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়েছে সিনেমাটি।
সম্প্রতি ঢাকার রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীতেও চলচ্চিত্রটি প্রশংসিত হয়। চলচ্চিত্র, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা সিনেমাটির গল্প, নির্মাণশৈলী এবং অভিনয়ের প্রশংসা করেন। তাদের মতে, এটি বাংলাদেশের বিকল্পধারার চলচ্চিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
বর্তমানে দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীরা বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি ভিন্নধর্মী গল্পের সিনেমাও দেখতে আগ্রহী। সেই জায়গা থেকেই মাস্তুল সিনেমা দর্শকদের কাছে আলাদা প্রত্যাশা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং শক্তিশালী কাহিনির কারণে সিনেমাটি দেশের দর্শকদের কাছেও ইতিবাচক সাড়া পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





























