ঢাকা ১১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo স্ক্যাল্পের যত্নে ইতালিয়ান হেয়ার ওয়াশিং মেথডের ৫ সহজ কৌশল Logo পাকিস্তান ক্রিকেট ১০ বছর পিছিয়ে গেছে: সাঈদ আজমল Logo বেনজীর আহমেদকে ফেরাতে ইউএইর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি গ্রেপ্তার Logo বাঁধনকে নিয়ে ফারুকীর ক্ষোভ, প্রশ্ন তুললেন সরকার ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন নিয়ে Logo জ্ঞান ও সংলাপের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে হবে : ঢাবি উপাচার্য Logo জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন খলিলুর রহমান Logo ইসরায়েলি বসতিতে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা, কী বলছে যুক্তরাষ্ট্র? Logo গণতন্ত্রের মূল শক্তি হচ্ছে গণমাধ্যম : রাষ্ট্রপতি Logo খাগড়াছড়িতে বাংলাদেশ রংমিস্ত্রি শ্রমিক ফেডারেশনের ২য় বর্ষপূর্তি, নতুন কমিটি ঘোষণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

মোদির বাসভবনের সামনে থেকে আটক রাহুল, প্রিয়াঙ্কা ও অখিলেশ!

ধরনা থেকে আটক রাহুল গান্ধী। ছবি: সংগৃহীত

নয়াদিল্লির ৭ লোক কল্যাণ মার্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে ধরনায় বসা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও অখিলেশ যাদবসহ বিরোধীদের শীর্ষ নেতাদের আটক করেছে পুলিশ। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে আজ বিকেলে তাঁরা এই আচমকা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। আটক নেতাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

গতকাল ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ভারতের সংসদ অভিমুখে যাত্রা করলে তাঁদের ওপর পুলিশি হামলা চালানো হয়। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শীর্ষ নেতারা পথে নামেন। খবর পেয়ে দ্রুতই বিপুলসংখ্যক কংগ্রেস কর্মী-সমর্থক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী নানা তীব্র স্লোগান দিতে থাকেন।

হঠাৎ এই ধরনার খবরে নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে প্রবল চাঞ্চল্য তৈরি হয় এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভ চলাকালেই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব সেখানে গিয়ে বিরোধী নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। সরকার পক্ষ থেকে বুধবার সংসদে এ বিষয়ে আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হলেও আন্দোলনকারী নেতারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকেন।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ পোস্ট দিয়ে রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় দেশবাসীকে এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার অপরাধে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। তবে বিজেপি নেতাদের দাবি, এই ধরনের আচমকা আন্দোলনের কারণে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত ও হুমকির মুখে পড়েছে।

বিরোধীদের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ খণ্ডন করে বলা হয় যে, তাঁদের এই প্রতিবাদ ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক। রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে এবং আন্দোলনকর্মী যোগেন্দ্র যাদবকেও রাজপথে সুর মেলাতে দেখা যায়। মূলত লোকসভার স্পিকারের কাছে আলোচনার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পেয়েই বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র শীর্ষ নেতারা এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই দিল্লি পুলিশ একাধিক গাড়ি নিয়ে এসে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং অবস্থানরত নেতাদের সরাতে থাকে। প্রায় ঘণ্টাখানেক কথা বলার পর অবশেষে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাহুল গান্ধীসহ প্রধান নেতাদের আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। এই ঘটনার পর পুরো নয়াদিল্লিজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো দেশজুড়ে নতুন কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ক্যাল্পের যত্নে ইতালিয়ান হেয়ার ওয়াশিং মেথডের ৫ সহজ কৌশল

মোদির বাসভবনের সামনে থেকে আটক রাহুল, প্রিয়াঙ্কা ও অখিলেশ!

Update Time : ০৯:০৩:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

নয়াদিল্লির ৭ লোক কল্যাণ মার্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে ধরনায় বসা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও অখিলেশ যাদবসহ বিরোধীদের শীর্ষ নেতাদের আটক করেছে পুলিশ। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে আজ বিকেলে তাঁরা এই আচমকা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। আটক নেতাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

গতকাল ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ভারতের সংসদ অভিমুখে যাত্রা করলে তাঁদের ওপর পুলিশি হামলা চালানো হয়। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শীর্ষ নেতারা পথে নামেন। খবর পেয়ে দ্রুতই বিপুলসংখ্যক কংগ্রেস কর্মী-সমর্থক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী নানা তীব্র স্লোগান দিতে থাকেন।

আরও পড়ুন  ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক ‘তেলাপোকাদের’, কেন প্রত্যাখ্যাত হলো বৈঠক?

হঠাৎ এই ধরনার খবরে নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে প্রবল চাঞ্চল্য তৈরি হয় এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভ চলাকালেই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব সেখানে গিয়ে বিরোধী নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। সরকার পক্ষ থেকে বুধবার সংসদে এ বিষয়ে আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হলেও আন্দোলনকারী নেতারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকেন।

আরও পড়ুন  ইরান আলোচনার শর্ত: নৌ অবরোধ না উঠলে অনড় তেহরান

বিক্ষোভের একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ পোস্ট দিয়ে রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় দেশবাসীকে এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার অপরাধে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। তবে বিজেপি নেতাদের দাবি, এই ধরনের আচমকা আন্দোলনের কারণে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত ও হুমকির মুখে পড়েছে।

বিরোধীদের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ খণ্ডন করে বলা হয় যে, তাঁদের এই প্রতিবাদ ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক। রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে এবং আন্দোলনকর্মী যোগেন্দ্র যাদবকেও রাজপথে সুর মেলাতে দেখা যায়। মূলত লোকসভার স্পিকারের কাছে আলোচনার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পেয়েই বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র শীর্ষ নেতারা এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন  উড়ন্ত বিমানে হঠাৎ দরজা খুলে ঝাঁপ দিলেন আর্জেন্টাইন পাইলট

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই দিল্লি পুলিশ একাধিক গাড়ি নিয়ে এসে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং অবস্থানরত নেতাদের সরাতে থাকে। প্রায় ঘণ্টাখানেক কথা বলার পর অবশেষে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাহুল গান্ধীসহ প্রধান নেতাদের আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। এই ঘটনার পর পুরো নয়াদিল্লিজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো দেশজুড়ে নতুন কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে।