চীন-রাশিয়া যৌথ সামরিক মহড়া আগামী ৬ জুলাই থেকে চীনের উপকূলীয় শহর চিংদাওয়ের জলসীমা ও আকাশসীমায় শুরু হচ্ছে। চীন ও রাশিয়ার নৌবাহিনী যৌথভাবে এই বার্ষিক সামরিক মহড়ায় অংশ নেবে।
রোববার চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মহড়া শেষে উভয় দেশের কিছু নৌযান প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট এলাকায় যৌথ সামুদ্রিক টহলে অংশ নেবে। এই উদ্যোগ দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।
বেইজিংয়ের দাবি, এটি একটি নিয়মিত বার্ষিক মহড়া। এর উদ্দেশ্য যৌথভাবে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, মহড়ায় অংশ নিতে দেশটির প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের একটি ক্রুজার, একটি কর্ভেট, একটি ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন এবং একটি উদ্ধারকারী জাহাজ ইতোমধ্যে চিংদাও উপকূলে পৌঁছেছে।
৬ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত চলা এই চীন-রাশিয়া যৌথ সামরিক মহড়া দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ধারাবাহিকতার অংশ। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের যৌথ মহড়া সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত সমন্বয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও রাশিয়া নিয়মিতভাবে স্থল, নৌ ও আকাশপথে যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে দুই দেশ তাদের সামরিক সক্ষমতা, সমন্বিত অভিযান পরিচালনার দক্ষতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের মহড়া কেবল সামরিক প্রস্তুতির অংশ নয়, বরং কৌশলগত বার্তাও বহন করে। প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সমুদ্রপথে যৌথ কার্যক্রম পরিচালনায় এ ধরনের অনুশীলন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মহড়া কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে নয়। বরং এটি বার্ষিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয়েছে।
রাশিয়ার অংশগ্রহণকারী নৌবহরের উপস্থিতির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী ১৩ জুলাই মহড়া শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সমুদ্র এলাকায় যৌথ টহল কার্যক্রম পরিচালনা করবে উভয় দেশের নৌবাহিনী।





























