ঢাকা ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

রুশ বাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত কিশোরগঞ্জের তরুণ রিয়াদ রশিদ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • ৫১৩

রুশ বাহিনীর হয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়া কিশোরগঞ্জের তরুণ রিয়াদ রশিদ। ছবি: সংগৃহীত

রিয়াদ রশিদ নামের কিশোরগঞ্জের এক তরুণ রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন। পরিবারের দাবি, তাঁর মরদেহ এখনো উদ্ধার হয়নি। কিশোরগঞ্জের তরুণ রিয়াদ রশিদ রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। যুদ্ধ চলাকালে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে পরিবারকে জানিয়েছেন তাঁর সহযোদ্ধা বন্ধু। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন রিয়াদ রশিদ। তিনি স্থানীয়ভাবে শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের তরুণ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি তিনি আগে কাউকে জানাননি। তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবার এখন গভীর শোকে ভেঙে পড়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে রিয়াদের মৃত্যুর সংবাদ পরিবারকে জানান তাঁর বন্ধু লিমন দত্ত। নরসিংদীর বাসিন্দা লিমন দত্তও রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে একই ক্যাম্পে ছিলেন। তিনি জানান, গত ২ মে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় দুই বাংলাদেশি ও এক নাইজেরিয়ান সেনাসদস্য নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন।

লিমন দত্ত নিজেও হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি রাশিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। হামলায় তাঁর একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলেও পরিবারকে জানিয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি রিয়াদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।পরিবার জানায়, পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে রিয়াদ ছিলেন চতুর্থ। ২০২৪ সালের অক্টোবরে চাকরির উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় যান তিনি। পরে গত ৭ এপ্রিল রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তাঁর ব্যাচ নম্বর ছিল ৭৩৫। পরিবারের ধারণা, আর্থিক সংকট ও ভালো ভবিষ্যতের আশায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

রিয়াদ রশিদ
ড্রোন হামলায় নিহত কিশোরগঞ্জের তরুণ রিয়াদ রশিদ

রিয়াদের চাচাতো ভাই জহিরুল ইসলাম জানান, ২৮ এপ্রিল পরিবারের সঙ্গে রিয়াদের শেষবার কথা হয়েছিল। তখন তিনি ভালো আছেন বলেই জানিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই আসে মৃত্যুর খবর। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, এখনো তাঁর মরদেহের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ড্রোন হামলায় মরদেহ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রিয়াদের বাবা আবদুর রশিদ একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। ছেলের মৃত্যুর খবরে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। তিনি বলেন, ছেলে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি তাঁকে জানায়নি। জানলে কখনোই যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে দিতেন না। এখন ছেলের মরদেহও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, যা একজন বাবার জন্য অসহনীয় কষ্ট।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জাফরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, রিয়াদ এলাকার অত্যন্ত ভদ্র ও সম্ভাবনাময় তরুণ ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পাশে সরকারের দাঁড়ানো উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছে এবং পারিবারিক সূত্রে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়া থেকে কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের বিদেশি বাহিনীতে যোগ দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে। বাংলাদেশ থেকেও কিছু তরুণ বিভিন্নভাবে সেখানে যুক্ত হচ্ছেন বলে জানা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে চাকরি বা উচ্চ আয়ের আশায় অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।রিয়াদ রশিদের মৃত্যু সেই বাস্তবতারই একটি করুণ উদাহরণ। পরিবারের সদস্যরা এখন শুধু তাঁর মরদেহ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

রুশ বাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত কিশোরগঞ্জের তরুণ রিয়াদ রশিদ

Update Time : ১২:০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

রিয়াদ রশিদ নামের কিশোরগঞ্জের এক তরুণ রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন। পরিবারের দাবি, তাঁর মরদেহ এখনো উদ্ধার হয়নি। কিশোরগঞ্জের তরুণ রিয়াদ রশিদ রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। যুদ্ধ চলাকালে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে পরিবারকে জানিয়েছেন তাঁর সহযোদ্ধা বন্ধু। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন রিয়াদ রশিদ। তিনি স্থানীয়ভাবে শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের তরুণ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি তিনি আগে কাউকে জানাননি। তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবার এখন গভীর শোকে ভেঙে পড়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে রিয়াদের মৃত্যুর সংবাদ পরিবারকে জানান তাঁর বন্ধু লিমন দত্ত। নরসিংদীর বাসিন্দা লিমন দত্তও রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে একই ক্যাম্পে ছিলেন। তিনি জানান, গত ২ মে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় দুই বাংলাদেশি ও এক নাইজেরিয়ান সেনাসদস্য নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন।

আরও পড়ুন  মালয়েশিয়ায় নারীদের হয়রানির অভিযোগে বাংলাদেশির বিরুদ্ধে কঠোর রায়

লিমন দত্ত নিজেও হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি রাশিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। হামলায় তাঁর একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলেও পরিবারকে জানিয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি রিয়াদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।পরিবার জানায়, পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে রিয়াদ ছিলেন চতুর্থ। ২০২৪ সালের অক্টোবরে চাকরির উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় যান তিনি। পরে গত ৭ এপ্রিল রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তাঁর ব্যাচ নম্বর ছিল ৭৩৫। পরিবারের ধারণা, আর্থিক সংকট ও ভালো ভবিষ্যতের আশায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন  ফিলিস্তিনিদের গায়েব করছে ইসরাইল, গাজায় নতুন আতঙ্ক
রিয়াদ রশিদ
ড্রোন হামলায় নিহত কিশোরগঞ্জের তরুণ রিয়াদ রশিদ

রিয়াদের চাচাতো ভাই জহিরুল ইসলাম জানান, ২৮ এপ্রিল পরিবারের সঙ্গে রিয়াদের শেষবার কথা হয়েছিল। তখন তিনি ভালো আছেন বলেই জানিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই আসে মৃত্যুর খবর। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, এখনো তাঁর মরদেহের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ড্রোন হামলায় মরদেহ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রিয়াদের বাবা আবদুর রশিদ একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। ছেলের মৃত্যুর খবরে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। তিনি বলেন, ছেলে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি তাঁকে জানায়নি। জানলে কখনোই যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে দিতেন না। এখন ছেলের মরদেহও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, যা একজন বাবার জন্য অসহনীয় কষ্ট।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জাফরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, রিয়াদ এলাকার অত্যন্ত ভদ্র ও সম্ভাবনাময় তরুণ ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পাশে সরকারের দাঁড়ানো উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছে এবং পারিবারিক সূত্রে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়া থেকে কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন  ট্রাম্প কি নেতানিয়াহুর প্রভাবের জিম্মি?

বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের বিদেশি বাহিনীতে যোগ দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে। বাংলাদেশ থেকেও কিছু তরুণ বিভিন্নভাবে সেখানে যুক্ত হচ্ছেন বলে জানা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে চাকরি বা উচ্চ আয়ের আশায় অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।রিয়াদ রশিদের মৃত্যু সেই বাস্তবতারই একটি করুণ উদাহরণ। পরিবারের সদস্যরা এখন শুধু তাঁর মরদেহ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।