ঢাকা ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জিম্বাবুয়ে বনাম বাংলাদেশ: ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হারলো টাইগাররা Logo ফল প্রকাশের আগেই ওয়েবসাইটে আপলোড, কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার সুপারিশ Logo যৌন নিপীড়ন মামলায় ট্রাম্পের বড় ধাক্কা, ৫০ লাখ ডলার দিতে নির্দেশ Logo সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ তালিকা থেকে সরানোর ঘোষণা ট্রাম্পের Logo অন্তর্বর্তী সরকারের সেই বিতর্কিত প্রকল্প বাতিল Logo মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও যে ৭ খাবার আপনি নিরাপদে খেতে পারবেন Logo ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ফরেন ল্যাংগুয়েজ সেন্টারের উদ্বোধন Logo উড়ন্ত বিমানে হঠাৎ দরজা খুলে ঝাঁপ দিলেন আর্জেন্টাইন পাইলট Logo ৫১ বছরে কনকর্ড: বাংলাদেশের অবকাঠামো ও আধুনিকায়নের গৌরবময় পথচলা Logo বাংলাদেশে আসছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী

রাজনগরে পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর বাঁধ তলিয়ে পানিবন্দি হাজারো মানুষ

মনু নদীর পানি বেড়ে রাজনগরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। ছবি: সংগৃহীত

রাজনগরে বন্যা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। উজানের ভারী বর্ষণ এবং ভারতের পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ অংশ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিশেষ করে কামারচাক ইউনিয়নের টুপিরমহল এলাকায় বাঁধের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় আশপাশের গ্রামগুলো দ্রুত প্লাবিত হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কামারচাক ও টেংরা ইউনিয়নসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকার হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক বাড়িঘরে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি উঠেছে। কোথাও কোথাও রান্নাঘর, গোয়ালঘর এবং বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। শতাধিক পরিবার নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, আবার অনেকেই উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মনু নদীর পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বাঁধের দুর্বল অংশগুলোতে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা ফেলে বাঁধের ফাটল মেরামতের কাজ চলছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক ও এলাকাবাসীও এ কাজে অংশ নিয়েছেন। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার জানান, প্রশাসন গত রাত থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে বাঁধ রক্ষার কাজ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্র চালু এবং ত্রাণ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে নিম্নাঞ্চলের কৃষিজমিতেও পানি জমতে শুরু করেছে। আমন ধানের বীজতলা, শাকসবজির ক্ষেত এবং মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বলছেন, সড়কে পানি ওঠায় বাজারে পণ্য পরিবহনে সমস্যা তৈরি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতেও ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাস সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে মনু নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। তাই নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রশাসন সবাইকে গুজবে কান না দিয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ এবং জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জিম্বাবুয়ে বনাম বাংলাদেশ: ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হারলো টাইগাররা

রাজনগরে পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর বাঁধ তলিয়ে পানিবন্দি হাজারো মানুষ

Update Time : ১০:১৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

রাজনগরে বন্যা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। উজানের ভারী বর্ষণ এবং ভারতের পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ অংশ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিশেষ করে কামারচাক ইউনিয়নের টুপিরমহল এলাকায় বাঁধের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় আশপাশের গ্রামগুলো দ্রুত প্লাবিত হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কামারচাক ও টেংরা ইউনিয়নসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকার হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক বাড়িঘরে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি উঠেছে। কোথাও কোথাও রান্নাঘর, গোয়ালঘর এবং বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। শতাধিক পরিবার নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, আবার অনেকেই উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।

আরও পড়ুন  উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা: সাত নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, আবহাওয়া সতর্কতা জারি

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মনু নদীর পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বাঁধের দুর্বল অংশগুলোতে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা ফেলে বাঁধের ফাটল মেরামতের কাজ চলছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক ও এলাকাবাসীও এ কাজে অংশ নিয়েছেন। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  নেত্রকোণায় বজ্রপাতে মৃত্যু: ৩ প্রাণহানির বিস্তারিত তথ্য

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার জানান, প্রশাসন গত রাত থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে বাঁধ রক্ষার কাজ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্র চালু এবং ত্রাণ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে নিম্নাঞ্চলের কৃষিজমিতেও পানি জমতে শুরু করেছে। আমন ধানের বীজতলা, শাকসবজির ক্ষেত এবং মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বলছেন, সড়কে পানি ওঠায় বাজারে পণ্য পরিবহনে সমস্যা তৈরি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতেও ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

আরও পড়ুন  সকালেই ১৯ জেলায় ঝড়ের আশঙ্কা, ৮০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া

আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাস সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে মনু নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। তাই নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রশাসন সবাইকে গুজবে কান না দিয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ এবং জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে।