ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হিলি স্থলবন্দর আমদানি বাণিজ্যে ভাটা, রাজস্ব আদায় কমেছে

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:০৬:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • ৫৩৭

আগের তুলনায় হিলি বন্দরে প্রতিদিন অনেক কম পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করছে। ছবি: সংগৃহীত

হিলি স্থলবন্দর আমদানি বাণিজ্যে বড় ধরনের মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। একসময় দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত এই স্থলবন্দর এখন অনেকটাই ফাঁকা। আগে প্রতিদিন ভারত থেকে শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২০ থেকে ২৫টিতে। এতে যেমন ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন, তেমনি সরকারের রাজস্ব আদায়েও বড় প্রভাব পড়ছে।

বন্দরের ট্রানশিপমেন্ট ইয়ার্ডে আগে সারি সারি ভারতীয় ট্রাক দেখা যেত। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা নিয়মিত পণ্য কিনতে আসতেন। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র বদলে গেছে। আমদানিকারকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বন্দরে আগের প্রাণচাঞ্চল্য নেই। পণ্য ওঠানামার কাজ কমে যাওয়ায় শত শত শ্রমিকও কর্মসংকটের মুখে পড়েছেন।

আমদানিকারকদের মতে, ডলারের উচ্চ বিনিময় হার এবং ভারতে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয় অনেক বেড়েছে। ফলে আগের মতো লাভ করা সম্ভব হচ্ছে না। লোকসান এড়াতে অনেক ব্যবসায়ী এলসি খোলা কমিয়ে দিয়েছেন কিংবা সাময়িকভাবে আমদানি কার্যক্রম সীমিত করেছেন। এছাড়া পণ্য খালাসের বিভিন্ন জটিলতাও ব্যবসার গতি কমিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুধু ব্যবসায়ী নয়, এই মন্দার প্রভাব পড়েছে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও তাদের কর্মচারীদের ওপরও। কাজের পরিমাণ কমে যাওয়ায় অনেকেই নিয়মিত আয় হারিয়েছেন। বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবহন, গুদাম ও অন্যান্য সেবাখাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ফলে পুরো বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

হিলি কাস্টমসের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এলসি খোলার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানি হ্রাস পাওয়ায় সরকারের রাজস্ব সংগ্রহও কমে গেছে। বিদায়ী অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ১ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। তবে আদায় হয়েছে মাত্র ৫৯৮ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় সাড়ে ৪৪৮ কোটি টাকা কম।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্যবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বন্দরের কার্যক্রম আরও সহজ করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। অন্যথায় আমদানি বাণিজ্যের এই দীর্ঘমেয়াদি মন্দা শুধু ব্যবসায়ী নয়, শ্রমিক, পরিবহন খাত এবং সরকারের রাজস্ব আয়ের ওপরও আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হিলি স্থলবন্দর আমদানি বাণিজ্যে ভাটা, রাজস্ব আদায় কমেছে

Update Time : ১০:০৬:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

হিলি স্থলবন্দর আমদানি বাণিজ্যে বড় ধরনের মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। একসময় দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত এই স্থলবন্দর এখন অনেকটাই ফাঁকা। আগে প্রতিদিন ভারত থেকে শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২০ থেকে ২৫টিতে। এতে যেমন ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন, তেমনি সরকারের রাজস্ব আদায়েও বড় প্রভাব পড়ছে।

বন্দরের ট্রানশিপমেন্ট ইয়ার্ডে আগে সারি সারি ভারতীয় ট্রাক দেখা যেত। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা নিয়মিত পণ্য কিনতে আসতেন। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র বদলে গেছে। আমদানিকারকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বন্দরে আগের প্রাণচাঞ্চল্য নেই। পণ্য ওঠানামার কাজ কমে যাওয়ায় শত শত শ্রমিকও কর্মসংকটের মুখে পড়েছেন।

আরও পড়ুন  করের আওতা বাড়ানো ও বিনিয়োগবান্ধব সংস্কারের তাগিদ ফরেন চেম্বারের!

আমদানিকারকদের মতে, ডলারের উচ্চ বিনিময় হার এবং ভারতে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয় অনেক বেড়েছে। ফলে আগের মতো লাভ করা সম্ভব হচ্ছে না। লোকসান এড়াতে অনেক ব্যবসায়ী এলসি খোলা কমিয়ে দিয়েছেন কিংবা সাময়িকভাবে আমদানি কার্যক্রম সীমিত করেছেন। এছাড়া পণ্য খালাসের বিভিন্ন জটিলতাও ব্যবসার গতি কমিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুধু ব্যবসায়ী নয়, এই মন্দার প্রভাব পড়েছে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও তাদের কর্মচারীদের ওপরও। কাজের পরিমাণ কমে যাওয়ায় অনেকেই নিয়মিত আয় হারিয়েছেন। বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবহন, গুদাম ও অন্যান্য সেবাখাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ফলে পুরো বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন  ভারতে পাটপণ্যে রপ্তানিতে নতুন শঙ্কা,অ্যান্টি–ডাম্পিংশুল্ক বহাল!

হিলি কাস্টমসের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এলসি খোলার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানি হ্রাস পাওয়ায় সরকারের রাজস্ব সংগ্রহও কমে গেছে। বিদায়ী অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ১ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। তবে আদায় হয়েছে মাত্র ৫৯৮ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় সাড়ে ৪৪৮ কোটি টাকা কম।

আরও পড়ুন  উৎসে কর তদারকি: হয়রানি না করার আহ্বান ঢাকা চেম্বারের, এনবিআরের নতুন নির্দেশনা

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্যবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বন্দরের কার্যক্রম আরও সহজ করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। অন্যথায় আমদানি বাণিজ্যের এই দীর্ঘমেয়াদি মন্দা শুধু ব্যবসায়ী নয়, শ্রমিক, পরিবহন খাত এবং সরকারের রাজস্ব আয়ের ওপরও আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।