ঢাকা ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রানওয়ে বাড়াতে সরছে ১৩৬ বছরের ঐতিহাসিক মসজিদ

দমদম বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থিত ১৩৬ বছরের পুরোনো গৌরীপুর জামে মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থিত ১৩৬ বছরের পুরোনো গৌরীপুর জামে মসজিদ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে শনিবার থেকে মসজিদে সাধারণ মানুষের প্রবেশ এবং নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায় সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়দের কাছে ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামে পরিচিত এই ঐতিহাসিক উপাসনালয় বহু বছর ধরে এলাকাবাসীর ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমান অবস্থানে মসজিদটি থাকায় দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ দীর্ঘদিন ধরে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বড় উড়োজাহাজের নিরাপদ ওঠানামা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, প্রধান রানওয়ের সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণের সময় বিকল্প রানওয়ে ব্যবহারে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হয়। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী রানওয়ের চারপাশে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা অঞ্চল বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। সেই কারণেই রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই মসজিদ স্থানান্তর নিয়ে আলোচনা চলছিল। সম্প্রতি প্রশাসন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির মধ্যে একাধিক বৈঠকের পর বিষয়টি নতুন গতি পায়। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মসজিদ এলাকা পরিদর্শন করেন এবং বিমানবন্দর নিরাপত্তা কমিটিও পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করে।

এতদিন বিরাটি মোড়ের দিক থেকে বিমানবন্দরের তিন নম্বর ফটক দিয়ে পরিচয়পত্র দেখিয়ে সাধারণ মানুষ মসজিদে প্রবেশ করতে পারতেন। সেখান থেকে বিমানবন্দরের ভেতরে প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মসজিদে যেতে হতো। তবে শনিবার থেকে সেই বিশেষ প্রবেশের অনুমতি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা জোরদার করতে ফটকের সামনে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া যাতে কেউ বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারেন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ নিরাপত্তাজনিত কারণে নেওয়া হয়েছে।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার স্বার্থে তারা কোনো বাধা সৃষ্টি করতে চান না। তবে স্থানান্তরের সময় মসজিদের ধর্মীয় মর্যাদা, ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং স্থাপত্যের ঐতিহ্য যেন অক্ষুণ্ন থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মসজিদ কমিটিকে বিমানবন্দরের বাইরে আরও বড় ও আধুনিক একটি নতুন মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। নতুন স্থানে সব ধরনের ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার সুযোগ থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মসজিদটির সঙ্গে দীর্ঘদিনের আবেগ ও ঐতিহ্যের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন। তবুও অধিকাংশের মত, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার প্রয়োজন বিবেচনায় আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করা উচিত। প্রশাসন জানিয়েছে, স্থানান্তরের সময়সূচি, নতুন মসজিদ নির্মাণ এবং ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রানওয়ে বাড়াতে সরছে ১৩৬ বছরের ঐতিহাসিক মসজিদ

Update Time : ১২:০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থিত ১৩৬ বছরের পুরোনো গৌরীপুর জামে মসজিদ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে শনিবার থেকে মসজিদে সাধারণ মানুষের প্রবেশ এবং নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায় সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়দের কাছে ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামে পরিচিত এই ঐতিহাসিক উপাসনালয় বহু বছর ধরে এলাকাবাসীর ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমান অবস্থানে মসজিদটি থাকায় দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ দীর্ঘদিন ধরে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বড় উড়োজাহাজের নিরাপদ ওঠানামা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, প্রধান রানওয়ের সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণের সময় বিকল্প রানওয়ে ব্যবহারে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হয়। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী রানওয়ের চারপাশে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা অঞ্চল বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। সেই কারণেই রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই মসজিদ স্থানান্তর নিয়ে আলোচনা চলছিল। সম্প্রতি প্রশাসন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির মধ্যে একাধিক বৈঠকের পর বিষয়টি নতুন গতি পায়। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মসজিদ এলাকা পরিদর্শন করেন এবং বিমানবন্দর নিরাপত্তা কমিটিও পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করে।

এতদিন বিরাটি মোড়ের দিক থেকে বিমানবন্দরের তিন নম্বর ফটক দিয়ে পরিচয়পত্র দেখিয়ে সাধারণ মানুষ মসজিদে প্রবেশ করতে পারতেন। সেখান থেকে বিমানবন্দরের ভেতরে প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মসজিদে যেতে হতো। তবে শনিবার থেকে সেই বিশেষ প্রবেশের অনুমতি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা জোরদার করতে ফটকের সামনে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া যাতে কেউ বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারেন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ নিরাপত্তাজনিত কারণে নেওয়া হয়েছে।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার স্বার্থে তারা কোনো বাধা সৃষ্টি করতে চান না। তবে স্থানান্তরের সময় মসজিদের ধর্মীয় মর্যাদা, ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং স্থাপত্যের ঐতিহ্য যেন অক্ষুণ্ন থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মসজিদ কমিটিকে বিমানবন্দরের বাইরে আরও বড় ও আধুনিক একটি নতুন মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। নতুন স্থানে সব ধরনের ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার সুযোগ থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মসজিদটির সঙ্গে দীর্ঘদিনের আবেগ ও ঐতিহ্যের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন। তবুও অধিকাংশের মত, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার প্রয়োজন বিবেচনায় আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করা উচিত। প্রশাসন জানিয়েছে, স্থানান্তরের সময়সূচি, নতুন মসজিদ নির্মাণ এবং ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।