লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে অর্জনের তালিকা এতটাই সমৃদ্ধ যে নতুন কোনো রেকর্ড যোগ করা এখন অনেকের কাছেই বাড়তি অর্জন মনে হতে পারে। তবে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন একটি রেকর্ড এখনও অক্ষত রয়েছে, যেটি স্পর্শ করতে পারলে মেসির ক্যারিয়ারে আর কোনো অপূর্ণতা খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। সেই রেকর্ডটি হলো এক আসরে সর্বোচ্চ গোল করার কীর্তি, যা এখনও ধরে রেখেছেন ফরাসি কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইন।
ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসরে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তিনি করেছেন আটটি গোল। একই সংখ্যক গোল রয়েছে ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের নামেও। দুই দলেরই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় অন্তত আরও একটি ম্যাচ এবং সর্বোচ্চ দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে।
মেসির গোলযাত্রা শুরু হয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের জয় এনে দেন তিনি। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জর্ডানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমেও একটি গোল করেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
নকআউট পর্বেও ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন মেসি। শেষ ষোলো ও কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ খেলে দুটি গোল করেছেন তিনি। শুধু সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে গোলের দেখা পাননি। তবুও আট গোল নিয়ে এখনও গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষ সারিতেই অবস্থান করছেন তিনি।
অন্যদিকে এমবাপ্পেও সমান তালে এগিয়ে চলেছেন। গ্রুপ পর্বে নরওয়ের বিপক্ষে গোল না পেলেও সেনেগাল ও ইরাকের বিপক্ষে দুটি করে গোল করেন তিনি। এরপর নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোতেও গোলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মোট আট গোল পূর্ণ করেছেন ফরাসি এই স্ট্রাইকার।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি গড়েছিলেন জাস্ট ফন্টেইন। ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে তিনি একাই করেছিলেন ১৩ গোল। সেই আসরে দুটি হ্যাটট্রিকও করেছিলেন ফন্টেইন। গ্রুপ পর্বে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে তিনটি, যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে দুটি এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে একটি গোল করেন তিনি।
শুধু গ্রুপ পর্ব নয়, নকআউট পর্বেও ছিল তার দাপট। কোয়ার্টার ফাইনালে দুটি এবং সেমিফাইনালে একটি গোল করার পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে চার গোল করেন ফন্টেইন। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সে ফ্রান্স ৬-৩ গোলের জয় পায় এবং জন্ম নেয় ইতিহাসের অন্যতম দুর্লভ একটি রেকর্ড।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মেসি ও এমবাপ্পে দুজনেরই গোল সংখ্যা আট। ফলে ফন্টেইনের ১৩ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করতে তাদের আরও পাঁচ গোল করতে হবে। আর নতুন রেকর্ড গড়তে প্রয়োজন হবে অন্তত ছয়টি গোল। হাতে সর্বোচ্চ দুটি ম্যাচ থাকায় কাজটি মোটেও সহজ নয়।
ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহ্যামও এখনও আলোচনায় আছেন। তাদের গোল সংখ্যা ছয় করে। তবে রেকর্ড ভাঙতে হলে বাকি ম্যাচগুলোতে অসাধারণ কিছু করতে হবে তাদের। বাস্তবতা বলছে, এই মুহূর্তে মেসি ও এমবাপ্পেই সবচেয়ে বড় দাবিদার।
ফুটবল ইতিহাসে কিছু রেকর্ড সময়ের সঙ্গে আরও মহিমান্বিত হয়ে ওঠে। জাস্ট ফন্টেইনের ১৩ গোলের কীর্তিও তেমনই একটি অর্জন। তবে যদি মেসি কিংবা এমবাপ্পে শেষ দুই ম্যাচে গোলের ঝড় তুলতে পারেন, তাহলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হতে পারে। বিশেষ করে মেসির ক্ষেত্রে এই রেকর্ড স্পর্শ বা ভাঙা তার কিংবদন্তি ক্যারিয়ারকে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।



























