ঢাকা ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সাতকানিয়ায় বন্যার্তদের মাঝে সিস্টেম গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ Logo একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কোনো চেষ্টা নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা, আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা দিবি’ Logo বরিশালের দুর্গম জঙ্গলে সেনা মহড়ায় প্রধানমন্ত্রী Logo নতুন মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরার সাবেক এমপি সেঁজুতি Logo প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বদলাল কুমিল্লার এইচএসসি কেন্দ্র Logo জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বন্যার্তদের পাশে জসিম উদ্দিন আহমেদ Logo সিআইপিএস এশিয়া অ্যাওয়ার্ডে চার স্বীকৃতি পেল বাংলালিংক Logo সুনামগঞ্জে বন্যার আশঙ্কা বেড়েছে: সুরমা-কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপরে, নতুন সতর্কতা Logo যে রেকর্ড গড়লেই মেসির ক্যারিয়ারে থাকবে না কোনো অপূর্ণতা

যে রেকর্ড গড়লেই মেসির ক্যারিয়ারে থাকবে না কোনো অপূর্ণতা

লিওনেল মেসি

লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে অর্জনের তালিকা এতটাই সমৃদ্ধ যে নতুন কোনো রেকর্ড যোগ করা এখন অনেকের কাছেই বাড়তি অর্জন মনে হতে পারে। তবে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন একটি রেকর্ড এখনও অক্ষত রয়েছে, যেটি স্পর্শ করতে পারলে মেসির ক্যারিয়ারে আর কোনো অপূর্ণতা খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। সেই রেকর্ডটি হলো এক আসরে সর্বোচ্চ গোল করার কীর্তি, যা এখনও ধরে রেখেছেন ফরাসি কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইন।

ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসরে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তিনি করেছেন আটটি গোল। একই সংখ্যক গোল রয়েছে ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের নামেও। দুই দলেরই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় অন্তত আরও একটি ম্যাচ এবং সর্বোচ্চ দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে।

মেসির গোলযাত্রা শুরু হয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের জয় এনে দেন তিনি। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জর্ডানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমেও একটি গোল করেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

নকআউট পর্বেও ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন মেসি। শেষ ষোলো ও কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ খেলে দুটি গোল করেছেন তিনি। শুধু সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে গোলের দেখা পাননি। তবুও আট গোল নিয়ে এখনও গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষ সারিতেই অবস্থান করছেন তিনি।

অন্যদিকে এমবাপ্পেও সমান তালে এগিয়ে চলেছেন। গ্রুপ পর্বে নরওয়ের বিপক্ষে গোল না পেলেও সেনেগাল ও ইরাকের বিপক্ষে দুটি করে গোল করেন তিনি। এরপর নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোতেও গোলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মোট আট গোল পূর্ণ করেছেন ফরাসি এই স্ট্রাইকার।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি গড়েছিলেন জাস্ট ফন্টেইন। ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে তিনি একাই করেছিলেন ১৩ গোল। সেই আসরে দুটি হ্যাটট্রিকও করেছিলেন ফন্টেইন। গ্রুপ পর্বে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে তিনটি, যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে দুটি এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে একটি গোল করেন তিনি।

শুধু গ্রুপ পর্ব নয়, নকআউট পর্বেও ছিল তার দাপট। কোয়ার্টার ফাইনালে দুটি এবং সেমিফাইনালে একটি গোল করার পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে চার গোল করেন ফন্টেইন। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সে ফ্রান্স ৬-৩ গোলের জয় পায় এবং জন্ম নেয় ইতিহাসের অন্যতম দুর্লভ একটি রেকর্ড।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মেসি ও এমবাপ্পে দুজনেরই গোল সংখ্যা আট। ফলে ফন্টেইনের ১৩ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করতে তাদের আরও পাঁচ গোল করতে হবে। আর নতুন রেকর্ড গড়তে প্রয়োজন হবে অন্তত ছয়টি গোল। হাতে সর্বোচ্চ দুটি ম্যাচ থাকায় কাজটি মোটেও সহজ নয়।

ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহ্যামও এখনও আলোচনায় আছেন। তাদের গোল সংখ্যা ছয় করে। তবে রেকর্ড ভাঙতে হলে বাকি ম্যাচগুলোতে অসাধারণ কিছু করতে হবে তাদের। বাস্তবতা বলছে, এই মুহূর্তে মেসি ও এমবাপ্পেই সবচেয়ে বড় দাবিদার।

ফুটবল ইতিহাসে কিছু রেকর্ড সময়ের সঙ্গে আরও মহিমান্বিত হয়ে ওঠে। জাস্ট ফন্টেইনের ১৩ গোলের কীর্তিও তেমনই একটি অর্জন। তবে যদি মেসি কিংবা এমবাপ্পে শেষ দুই ম্যাচে গোলের ঝড় তুলতে পারেন, তাহলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হতে পারে। বিশেষ করে মেসির ক্ষেত্রে এই রেকর্ড স্পর্শ বা ভাঙা তার কিংবদন্তি ক্যারিয়ারকে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতকানিয়ায় বন্যার্তদের মাঝে সিস্টেম গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ

যে রেকর্ড গড়লেই মেসির ক্যারিয়ারে থাকবে না কোনো অপূর্ণতা

Update Time : ০৫:৩৩:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে অর্জনের তালিকা এতটাই সমৃদ্ধ যে নতুন কোনো রেকর্ড যোগ করা এখন অনেকের কাছেই বাড়তি অর্জন মনে হতে পারে। তবে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন একটি রেকর্ড এখনও অক্ষত রয়েছে, যেটি স্পর্শ করতে পারলে মেসির ক্যারিয়ারে আর কোনো অপূর্ণতা খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। সেই রেকর্ডটি হলো এক আসরে সর্বোচ্চ গোল করার কীর্তি, যা এখনও ধরে রেখেছেন ফরাসি কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইন।

ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসরে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তিনি করেছেন আটটি গোল। একই সংখ্যক গোল রয়েছে ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের নামেও। দুই দলেরই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় অন্তত আরও একটি ম্যাচ এবং সর্বোচ্চ দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে।

মেসির গোলযাত্রা শুরু হয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের জয় এনে দেন তিনি। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জর্ডানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমেও একটি গোল করেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপ কি ফিফার, নাকি ট্রাম্পের?

নকআউট পর্বেও ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন মেসি। শেষ ষোলো ও কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ খেলে দুটি গোল করেছেন তিনি। শুধু সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে গোলের দেখা পাননি। তবুও আট গোল নিয়ে এখনও গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষ সারিতেই অবস্থান করছেন তিনি।

অন্যদিকে এমবাপ্পেও সমান তালে এগিয়ে চলেছেন। গ্রুপ পর্বে নরওয়ের বিপক্ষে গোল না পেলেও সেনেগাল ও ইরাকের বিপক্ষে দুটি করে গোল করেন তিনি। এরপর নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোতেও গোলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মোট আট গোল পূর্ণ করেছেন ফরাসি এই স্ট্রাইকার।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপের প্রথম বা দ্বিতীয় ম্যাচেই ফিরতে পারেন নেইমার

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি গড়েছিলেন জাস্ট ফন্টেইন। ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে তিনি একাই করেছিলেন ১৩ গোল। সেই আসরে দুটি হ্যাটট্রিকও করেছিলেন ফন্টেইন। গ্রুপ পর্বে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে তিনটি, যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে দুটি এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে একটি গোল করেন তিনি।

শুধু গ্রুপ পর্ব নয়, নকআউট পর্বেও ছিল তার দাপট। কোয়ার্টার ফাইনালে দুটি এবং সেমিফাইনালে একটি গোল করার পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে চার গোল করেন ফন্টেইন। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সে ফ্রান্স ৬-৩ গোলের জয় পায় এবং জন্ম নেয় ইতিহাসের অন্যতম দুর্লভ একটি রেকর্ড।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মেসি ও এমবাপ্পে দুজনেরই গোল সংখ্যা আট। ফলে ফন্টেইনের ১৩ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করতে তাদের আরও পাঁচ গোল করতে হবে। আর নতুন রেকর্ড গড়তে প্রয়োজন হবে অন্তত ছয়টি গোল। হাতে সর্বোচ্চ দুটি ম্যাচ থাকায় কাজটি মোটেও সহজ নয়।

আরও পড়ুন  ক্ষমতা ধরে রাখতে গোপন তৎপরতা? ইনফান্তিনোকে নিয়ে তোলপাড়

ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহ্যামও এখনও আলোচনায় আছেন। তাদের গোল সংখ্যা ছয় করে। তবে রেকর্ড ভাঙতে হলে বাকি ম্যাচগুলোতে অসাধারণ কিছু করতে হবে তাদের। বাস্তবতা বলছে, এই মুহূর্তে মেসি ও এমবাপ্পেই সবচেয়ে বড় দাবিদার।

ফুটবল ইতিহাসে কিছু রেকর্ড সময়ের সঙ্গে আরও মহিমান্বিত হয়ে ওঠে। জাস্ট ফন্টেইনের ১৩ গোলের কীর্তিও তেমনই একটি অর্জন। তবে যদি মেসি কিংবা এমবাপ্পে শেষ দুই ম্যাচে গোলের ঝড় তুলতে পারেন, তাহলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হতে পারে। বিশেষ করে মেসির ক্ষেত্রে এই রেকর্ড স্পর্শ বা ভাঙা তার কিংবদন্তি ক্যারিয়ারকে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।