রাজশাহীতে বাস চলাচল আবারও স্বাভাবিক হয়েছে। প্রায় ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত সোয়া ৯টা থেকে রাজশাহীর সব রুটে বাস চলাচল পুনরায় শুরু হয়। রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের কারণে বাস চলাচল বন্ধ ছিল। পরে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সমঝোতা হওয়ায় শ্রমিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
সন্ধ্যায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার নূর আলম সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে শ্রমিক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নির্বাচন কমিটি নিয়ে শ্রমিকদের উত্থাপিত কয়েকটি বিষয় আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচন কমিটিতে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল থাকবেন না। এই সিদ্ধান্তের পর আন্দোলনরত শ্রমিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন এবং বাস চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেন।
এ ছাড়া নির্বাচনকালীন আহ্বায়ক কমিটিতে শ্রমিকদের দুই পক্ষ—‘পাখি গ্রুপ’ ও ‘মোমিন গ্রুপ’ থেকে চারজন করে মোট আটজন সদস্য রাখার সিদ্ধান্ত হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন ঘিরে চলমান অচলাবস্থা কিছুটা কাটবে।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সদস্যরা কয়েক মাস ধরে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় ইউনিয়নের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মধ্যে বিভক্তিও দেখা দেয়।
চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল নির্বাচন দাবিকারী শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ওই সময় বাস টার্মিনাল এলাকায় সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন এবং এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশন রফিকুল ইসলাম পাখিকে সভাপতি করে নতুন কমিটি ঘোষণা করলে সাধারণ শ্রমিকদের একটি অংশ তা প্রত্যাখ্যান করে। তাদের দাবি ছিল, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে।
গত মে মাসেও একই দাবিতে কয়েক দফা বাস ধর্মঘট পালন করেন শ্রমিকরা। সে সময় জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ঈদের পর নির্বাচন আয়োজনের আশ্বাস দেওয়া হলে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এ বিষয়ে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিটি গঠনের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে শ্রমিকদের একাংশ সেই প্রস্তাবে সম্মত না হয়ে বাস চলাচল বন্ধ করেন। তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ধর্মঘটের কারণে একদিন ধরে রাজশাহী থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। অনেকেই বিকল্প পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করেন। রাত থেকে বাস চলাচল শুরু হওয়ায় টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে দেখা যায় এবং স্বাভাবিক পরিবহন ব্যবস্থা ফিরতে শুরু করে।
শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, সমঝোতা অনুযায়ী দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলে নতুন করে কর্মসূচির প্রয়োজন হবে না। তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হবে।




























