ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

মানবতার পাশে দাঁড়ানোর নাম—জাকির হোসেন

মানুষের পাশে থাকাই তাঁর অঙ্গীকার।ছবি: সংগৃহীত

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলাবদ্ধতা কিংবা যেকোনো সংকটের সময় একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে তার কাজের মাধ্যমে। এমন সময় অনেকেই নিজের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যকে প্রাধান্য দেন। আবার কেউ কেউ ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে মানুষের পাশে দাঁড়ান। ঠিক তেমনই একটি নাম এমডি জাকির হোসেন, শহর কুতুব শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের মালিক, যিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

চারদিকে যখন দুর্যোগে বিপর্যস্ত মানুষের আহাজারি, তখন তিনি চাইলে নিজের পরিবার নিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে নিরাপদে সময় কাটাতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেই পথ বেছে নেননি। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি ঘরে বসে থাকেননি। মানুষের কষ্ট তাঁকে বিচলিত করেছে, আর সেই তাগিদ থেকেই তিনি নেমে এসেছেন সাধারণ মানুষের মাঝে।

জাকির হোসেনের সমাজসেবা
মানবিক উদ্যোগে প্রশংসিত জাকির হোসেন।ছবি: সংগৃহীত

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তিনি কোনো সরকারি কর্মকর্তা নন, কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবীর দায়িত্বশীল ব্যক্তি নন এবং কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতার অধিকারীও নন। তবুও তিনি নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং নিজস্ব অর্থায়নে অসহায় মানুষের জন্য খাদ্য, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার ব্যবস্থা করেছেন। কারণ তাঁর কাছে মানবসেবাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

সমাজে অনেক সময় দেখা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে মানুষ যে সহযোগিতা প্রত্যাশা করে, বাস্তবে তা সবসময় পাওয়া যায় না। সংকটের সময় সাধারণ মানুষ অপেক্ষা করে কারও সহায়তার জন্য। সেই মুহূর্তে একজন সচেতন ও মানবিক মানুষ যদি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসেন, তাহলে সেটিই হয়ে ওঠে প্রকৃত নেতৃত্বের উদাহরণ।

এমডি জাকির হোসেনের এই উদ্যোগ কেবল কিছু মানুষের হাতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি সমাজের অন্য বিত্তবান ও সক্ষম ব্যক্তিদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণা। একজন মানুষ চাইলে একাই পরিবর্তনের সূচনা করতে পারেন—তার বাস্তব উদাহরণ তিনি।

সমাজের মানুষের সহায়তায় জাকির হোসেন
মানবিক দায়িত্ব পালন করছেন জাকির হোসেন।ছবি: সংগৃহীত

মানবিকতার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো, এটি কোনো পদ-পদবী, পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে না। একজন মানুষের ভালো কাজই তাকে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে দেয়। আজ যারা তাঁর এই উদ্যোগ দেখছেন, তারা বুঝতে পারছেন যে মানুষের পাশে দাঁড়াতে বড় কোনো ক্ষমতার প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন হয় একটি মানবিক হৃদয় এবং আন্তরিক ইচ্ছাশক্তির।

বর্তমান সময়ে সমাজে বিভেদ, প্রতিযোগিতা ও ব্যক্তিস্বার্থের চর্চা যত বাড়ছে, ঠিক ততটাই প্রয়োজন এমন মানবিক উদ্যোগের। কারণ একটি সমাজ তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তার মানুষ বিপদের সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ায়। এমডি জাকির হোসেন সেই দায়িত্ববোধ থেকেই মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

তাঁর এই কাজ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। তবে একই সঙ্গে এটিও মনে রাখা প্রয়োজন যে সমাজের উন্নয়ন একটি সম্মিলিত দায়িত্ব। শুধু একজন ব্যক্তির ওপর সব দায়িত্ব বর্তায় না। সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই দুর্যোগ মোকাবিলা আরও কার্যকর হতে পারে।

ত্রাণ বিতরণে মানবিক সহায়তা
নিজস্ব অর্থায়নে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত

আজ প্রশ্ন একটাই—আমরা কি শুধু দূর থেকে সমালোচনা করব, নাকি যারাই নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তাদের উৎসাহিত করব? একজন ভালো কাজ করলে তাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সেই কাজ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়াও আমাদের সামাজিক দায়িত্ব।

মানুষের দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়ানো কখনো ছোট কাজ নয়। এটি মানবতার সবচেয়ে বড় পরিচয়। এমডি জাকির হোসেন তাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী সেই দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকুক এবং সমাজের আরও অনেক মানুষ যেন এমন মানবিক কাজে উদ্বুদ্ধ হন—এটাই সবার প্রত্যাশা।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিহত জাহেদ পিচ্চি জাহেদ নয়, তবে পুলিশের নথিতে রয়েছে তার নামেও একাধিক মামলা

মানবতার পাশে দাঁড়ানোর নাম—জাকির হোসেন

Update Time : ০৮:১১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলাবদ্ধতা কিংবা যেকোনো সংকটের সময় একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে তার কাজের মাধ্যমে। এমন সময় অনেকেই নিজের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যকে প্রাধান্য দেন। আবার কেউ কেউ ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে মানুষের পাশে দাঁড়ান। ঠিক তেমনই একটি নাম এমডি জাকির হোসেন, শহর কুতুব শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের মালিক, যিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

চারদিকে যখন দুর্যোগে বিপর্যস্ত মানুষের আহাজারি, তখন তিনি চাইলে নিজের পরিবার নিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে নিরাপদে সময় কাটাতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেই পথ বেছে নেননি। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি ঘরে বসে থাকেননি। মানুষের কষ্ট তাঁকে বিচলিত করেছে, আর সেই তাগিদ থেকেই তিনি নেমে এসেছেন সাধারণ মানুষের মাঝে।

জাকির হোসেনের সমাজসেবা
মানবিক উদ্যোগে প্রশংসিত জাকির হোসেন।ছবি: সংগৃহীত

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তিনি কোনো সরকারি কর্মকর্তা নন, কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবীর দায়িত্বশীল ব্যক্তি নন এবং কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতার অধিকারীও নন। তবুও তিনি নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং নিজস্ব অর্থায়নে অসহায় মানুষের জন্য খাদ্য, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার ব্যবস্থা করেছেন। কারণ তাঁর কাছে মানবসেবাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে সবচেয়ে বেশি, কেন বাড়ছে উদ্বেগ?

সমাজে অনেক সময় দেখা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে মানুষ যে সহযোগিতা প্রত্যাশা করে, বাস্তবে তা সবসময় পাওয়া যায় না। সংকটের সময় সাধারণ মানুষ অপেক্ষা করে কারও সহায়তার জন্য। সেই মুহূর্তে একজন সচেতন ও মানবিক মানুষ যদি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসেন, তাহলে সেটিই হয়ে ওঠে প্রকৃত নেতৃত্বের উদাহরণ।

এমডি জাকির হোসেনের এই উদ্যোগ কেবল কিছু মানুষের হাতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি সমাজের অন্য বিত্তবান ও সক্ষম ব্যক্তিদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণা। একজন মানুষ চাইলে একাই পরিবর্তনের সূচনা করতে পারেন—তার বাস্তব উদাহরণ তিনি।

আরও পড়ুন  ভয়াবহ বিষ খাদ্যে : নিরাপদ খাবারে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি |
সমাজের মানুষের সহায়তায় জাকির হোসেন
মানবিক দায়িত্ব পালন করছেন জাকির হোসেন।ছবি: সংগৃহীত

মানবিকতার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো, এটি কোনো পদ-পদবী, পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে না। একজন মানুষের ভালো কাজই তাকে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে দেয়। আজ যারা তাঁর এই উদ্যোগ দেখছেন, তারা বুঝতে পারছেন যে মানুষের পাশে দাঁড়াতে বড় কোনো ক্ষমতার প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন হয় একটি মানবিক হৃদয় এবং আন্তরিক ইচ্ছাশক্তির।

বর্তমান সময়ে সমাজে বিভেদ, প্রতিযোগিতা ও ব্যক্তিস্বার্থের চর্চা যত বাড়ছে, ঠিক ততটাই প্রয়োজন এমন মানবিক উদ্যোগের। কারণ একটি সমাজ তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তার মানুষ বিপদের সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ায়। এমডি জাকির হোসেন সেই দায়িত্ববোধ থেকেই মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

তাঁর এই কাজ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। তবে একই সঙ্গে এটিও মনে রাখা প্রয়োজন যে সমাজের উন্নয়ন একটি সম্মিলিত দায়িত্ব। শুধু একজন ব্যক্তির ওপর সব দায়িত্ব বর্তায় না। সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই দুর্যোগ মোকাবিলা আরও কার্যকর হতে পারে।

আরও পড়ুন  জন্মহার কমাতে সরকারের জোরালো উদ্যোগ
ত্রাণ বিতরণে মানবিক সহায়তা
নিজস্ব অর্থায়নে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত

আজ প্রশ্ন একটাই—আমরা কি শুধু দূর থেকে সমালোচনা করব, নাকি যারাই নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তাদের উৎসাহিত করব? একজন ভালো কাজ করলে তাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সেই কাজ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়াও আমাদের সামাজিক দায়িত্ব।

মানুষের দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়ানো কখনো ছোট কাজ নয়। এটি মানবতার সবচেয়ে বড় পরিচয়। এমডি জাকির হোসেন তাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী সেই দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকুক এবং সমাজের আরও অনেক মানুষ যেন এমন মানবিক কাজে উদ্বুদ্ধ হন—এটাই সবার প্রত্যাশা।