সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবন ভাঙার সময় হঠাৎ ছাদ ধসে পড়ে অন্তত ছয়জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে উপজেলার ৭২ নম্বর পূর্ব কৈখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবন অপসারণের কাজ চলাকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছিল। ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রমিকরা ভবনটি ভাঙার কাজ করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই শ্রমিকরা ভবনের ছাদ ও দেয়াল অপসারণের কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে ভবনের উপরের অংশ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই পুরো ছাদের একটি বড় অংশ ধসে যায়। এতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন শ্রমিক। ঘটনাস্থলে থাকা অন্য শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
খবর পেয়ে শ্যামনগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সহায়তা করে এবং ভবনের বাকি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ কিনা তা পরিদর্শন করে। পরে আহতদের দ্রুত শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান জানান, আহত ছয়জনের মধ্যে দুজনের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। অন্য চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
আহত শ্রমিকরা হলেন—খুলনার কয়রা উপজেলার রানা আহম্মেদ (২৪), জয়নাল আবেদীন (৩৩), মো. জুবায়ের হোসেন (২০), মফিজুল ইসলাম (৩৫), ইদ্রিস আলী (৩৮) এবং সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার মো. আলাউদ্দিন (৪২)।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কালাম উল্লাহ বলেন, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সরকারি নিয়ম মেনে ভবনটি নিলামে বিক্রি করা হয় এবং ক্রেতা প্রতিষ্ঠান নিজ দায়িত্বে ভবন ভাঙার কাজ করছিল। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ভবন ভাঙার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল না। অধিকাংশ শ্রমিকের শরীরে সুরক্ষাব্যবস্থা হিসেবে হেলমেট, সেফটি বেল্ট বা অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছিল না বলেও দাবি করেন তারা। তাদের মতে, নিরাপত্তা নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো।
এদিকে দুর্ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের আশপাশে সাধারণ মানুষের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভবন ভাঙার কাজে কোনো ধরনের অবহেলা বা নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সরকারি ভবন অপসারণের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।



























