রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৩১ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৫। এ সময় তার এক সহযোগী কৌশলে পালিয়ে গেলেও বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব-৫ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজশাহী সদর কোম্পানির একটি বিশেষ দল মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করে ৩১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় উপজেলার বাকশৈল গ্রামের মৃত কিতাব আলীর ছেলে মো. মুকুল ওরফে কালু (৪০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তার সহযোগী, ট্রাকচালক মো. রাজু মিয়া (২০), আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার মুকুল স্বীকার করেছেন যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক সহযোগী রাজু মিয়ার সঙ্গে সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন জেলা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে মোহনপুরসহ আশপাশের এলাকায় সরবরাহ ও বিক্রি করে আসছিলেন।
তার ভাষ্যমতে, উদ্ধার হওয়া ৩১ কেজি গাঁজাও বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদক সংগ্রহ, পরিবহন ও সরবরাহের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না এবং গাঁজার চালানটি কোথা থেকে আনা হয়েছিল ও কোথায় সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ ছাড়া পলাতক সহযোগী রাজু মিয়াকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
র্যাব-৫ জানায়, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক এনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক চোরাচালান, পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
র্যাবের ভাষ্য, মাদকের বিস্তার রোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি বা চক্রের মাদক সংশ্লিষ্ট তথ্য থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া ৩১ কেজি গাঁজা জব্দ তালিকাভুক্ত করে আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার মুকুল এবং পলাতক রাজু মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোহনপুর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
আইন অনুযায়ী তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। পাশাপাশি মাদক পাচার ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে র্যাব।
র্যাব-৫ জানিয়েছে, রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলে মাদক নির্মূলে তাদের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকেও ধ্বংস করে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগ—দুই ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
র্যাব-৫ জানায়, কয়েকদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পর তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
পালিয়ে যাওয়া সহযোগী রাজু মিয়াকে গ্রেপ্তারে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। র্যাব জানিয়েছে, তার অবস্থান শনাক্তে তথ্যপ্রযুক্তির পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যও ব্যবহার করা হচ্ছে। দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে বাহিনীটি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিনি কার কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করতেন, কীভাবে পরিবহন করা হতো এবং কোন কোন এলাকায় সরবরাহ করা হতো—এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে এই চক্রের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী গাঁজা সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তাই মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা র্যাবের এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মাদক ব্যবসা বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হলে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
র্যাব-৫ জানিয়েছে, মাদক চোরাচালান, মজুত, পরিবহন কিংবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সীমান্তবর্তী এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে মাদকসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য গোপনীয়ভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে র্যাব।
র্যাবের দাবি, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং জনসচেতনতা—এই তিনটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া গাঁজা পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং তদন্ত শেষে মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।



























