ঢাকা জেলা দক্ষিণ ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, জাল টাকা তৈরি, সংরক্ষণ, বহন ও বাজারজাত করার সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় জাল নোট ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের পর গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল শনিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের চুনকুটিয়া মাঠসংলগ্ন ভূতের গলি এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তিকে জাল টাকা লেনদেনের সময় আটক করা হয়। তাদের দেহ তল্লাশি করে মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য হিসেবে কাজ করছিলেন। তারা রাজধানী ঢাকা, কেরানীগঞ্জ এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় জাল টাকা সরবরাহ করতেন। তদন্তের স্বার্থে চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া জাল নোটগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে এসব নোট কোথায় তৈরি হয়েছে, কীভাবে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছিল এবং এর পেছনে আর কারা জড়িত—সেসব বিষয়েও তদন্ত চলছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ঈদ, পূজা, বড় উৎসব কিংবা ব্যস্ত বাণিজ্যিক মৌসুমকে কেন্দ্র করে জাল টাকার চক্রগুলো বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাই ব্যবসায়ী, দোকানদার এবং সাধারণ মানুষকে টাকা গ্রহণের সময় নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, জাল টাকা লেনদেন বা বাজারজাত করার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও প্রচলিত অন্যান্য আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জাল টাকা সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত নিকটস্থ থানা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।



























