ঢাকা ০১:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo টিস্যু কালচার চারা, দুর্দান্ত প্রযুক্তিতে বদলাচ্ছে বাণিজ্যিক কৃষি Logo রুনা লায়লার কনসার্ট এবার শুধু সংগীতের আসর নয়,একটি মানবিক উদ্যোগ। Logo ইরান যুদ্ধের খরচে চাপে পেন্টাগন, ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার ব্যয়ের দাবি Logo স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি, আজ থেকে কার্যকর নতুন দর Logo ডলার রেট আজ: কত টাকায় মিলছে ডলার-ইউরো-রুপি? Logo ১৪ বছরের অভিনয় জীবনের সেরা স্বীকৃতি পেলেন ইয়ামি গৌতম Logo বিকালে বাবার দাফন শেষে রাতে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থী Logo অলিভ অয়েল কেন স্বাস্থ্যকর? জেনে নিন ব্যবহার ও সংরক্ষণের নিয়ম Logo নিয়মিত তরমুজ খেলে কী হয়? জানুন শরীরের ৭টি উপকারিতা Logo ডিম সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম: ফ্রিজে কতদিন নিরাপদ থাকে?

বিকালে বাবার দাফন শেষে রাতে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থী

বাবাকে হারানোর শোক নিয়েই পরীক্ষার প্রস্তুতি ইকনের। ছবি: সংগৃহীত

ইকনের সংগ্রাম এখন বাগেরহাটসহ সারা দেশের মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে। বাবাকে হারানোর গভীর শোকের মধ্যেও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াননি এই এইচএসসি পরীক্ষার্থী। বিকেলে বাবার দাফন সম্পন্ন করার পর রাতেই খণ্ডকালীন চাকরির ডিউটিতে যোগ দেন। আর পরদিন সকালে অংশ নেন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায়। কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তাঁর এই অদম্য মানসিক শক্তি ও দায়িত্ববোধ অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ মেডিকেল স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা ইকন স্থানীয় খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া। সকাল ৬টার দিকে তাঁকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে গোপালগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাফিল দাড়িয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসারের খরচ চালাতেন। বড় ছেলে ইমন একসময় বাবাকে কাজে সহযোগিতা করলেও সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ফলে পরিবারের দায়িত্ব অনেকটাই এসে পড়ে ছোট ছেলে ইকনের কাঁধে। পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের ব্যয় মেটাতে তিনি বাগেরহাট শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে রাতের শিফটে খণ্ডকালীন চাকরি করেন।

বাবার দাফন শেষ হওয়ার পরও দায়িত্ব থেকে বিরত থাকেননি ইকন। মঙ্গলবার রাতেই তিনি কর্মস্থলে ফিরে যান এবং রাতের শিফটে দায়িত্ব পালন করেন। পরদিন ছিল তাঁর এইচএসসি পরীক্ষার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের পরীক্ষা। শোক, ক্লান্তি ও মানসিক চাপ সত্ত্বেও ভবিষ্যতের কথা ভেবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাঁর এই দৃঢ়তা স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, ইকনের জীবনসংগ্রাম আজকের তরুণদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের মধ্যেও দায়িত্ব পালন এবং শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা তাঁর চরিত্রের দৃঢ়তার পরিচয় দেয়। পরিবারের কঠিন পরিস্থিতি, বড় ভাইয়ের অসুস্থতা এবং আর্থিক সংকটের মাঝেও তিনি আশা ছাড়েননি।

বর্তমানে ইকনের পরিবার কঠিন সময় পার করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর ও তাঁর পরিবারের জন্য দোয়া কামনা করেছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, এমন মেধাবী ও দায়িত্বশীল শিক্ষার্থীর পাশে সমাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাঁড়ানো উচিত, যাতে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

টিস্যু কালচার চারা, দুর্দান্ত প্রযুক্তিতে বদলাচ্ছে বাণিজ্যিক কৃষি

বিকালে বাবার দাফন শেষে রাতে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থী

Update Time : ১১:০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ইকনের সংগ্রাম এখন বাগেরহাটসহ সারা দেশের মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে। বাবাকে হারানোর গভীর শোকের মধ্যেও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াননি এই এইচএসসি পরীক্ষার্থী। বিকেলে বাবার দাফন সম্পন্ন করার পর রাতেই খণ্ডকালীন চাকরির ডিউটিতে যোগ দেন। আর পরদিন সকালে অংশ নেন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায়। কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তাঁর এই অদম্য মানসিক শক্তি ও দায়িত্ববোধ অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ মেডিকেল স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা ইকন স্থানীয় খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া। সকাল ৬টার দিকে তাঁকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে গোপালগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুন  ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানে উত্তাল চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড চত্বর

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাফিল দাড়িয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসারের খরচ চালাতেন। বড় ছেলে ইমন একসময় বাবাকে কাজে সহযোগিতা করলেও সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ফলে পরিবারের দায়িত্ব অনেকটাই এসে পড়ে ছোট ছেলে ইকনের কাঁধে। পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের ব্যয় মেটাতে তিনি বাগেরহাট শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে রাতের শিফটে খণ্ডকালীন চাকরি করেন।

আরও পড়ুন  নারায়ণগঞ্জে ট্রেন চালকের সতকর্তায় রক্ষা পেল ট্রাক

বাবার দাফন শেষ হওয়ার পরও দায়িত্ব থেকে বিরত থাকেননি ইকন। মঙ্গলবার রাতেই তিনি কর্মস্থলে ফিরে যান এবং রাতের শিফটে দায়িত্ব পালন করেন। পরদিন ছিল তাঁর এইচএসসি পরীক্ষার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের পরীক্ষা। শোক, ক্লান্তি ও মানসিক চাপ সত্ত্বেও ভবিষ্যতের কথা ভেবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাঁর এই দৃঢ়তা স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, ইকনের জীবনসংগ্রাম আজকের তরুণদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের মধ্যেও দায়িত্ব পালন এবং শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা তাঁর চরিত্রের দৃঢ়তার পরিচয় দেয়। পরিবারের কঠিন পরিস্থিতি, বড় ভাইয়ের অসুস্থতা এবং আর্থিক সংকটের মাঝেও তিনি আশা ছাড়েননি।

আরও পড়ুন  বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮, সাত জেলায় বন্যা

বর্তমানে ইকনের পরিবার কঠিন সময় পার করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর ও তাঁর পরিবারের জন্য দোয়া কামনা করেছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, এমন মেধাবী ও দায়িত্বশীল শিক্ষার্থীর পাশে সমাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাঁড়ানো উচিত, যাতে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন।