ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo অমিতাভ বচ্চন সুস্থ: চমকপ্রদ ব্যাখ্যায় দূর হলো অস্ত্রোপচারের গুঞ্জন Logo অনলাইনে আয়কর রিটার্ন আজ থেকে, জেনে নিন পুরো প্রক্রিয়া Logo তাহসান খান ফিরছেন: দারুণ নতুন মিউজিক শোতে চমক Logo এলডিসি উত্তরণ: বাংলাদেশের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জাতিসংঘে, বড় অগ্রগতির সুপারিশ Logo টিচ ইউ আ লেসন: দুর্দান্ত কোরিয়ান সিরিজে নতুন চমক Logo কে হবেন বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি? Logo অবশেষে প্রেমিকাকে বিয়ে করলেন ইউটিউবার ‘মিস্টার বিস্ট’ Logo চন্দনাইশে বন্যাদুর্গত রংমিস্ত্রিদের পাশে বাংলাদেশ রংমিস্ত্রি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ Logo জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য ফাঁস: প্রতারণার নতুন কৌশল সামনে Logo এস আলম গ্রুপ অর্থ পাচার, বিএফআইইউ প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

এলডিসি উত্তরণ: বাংলাদেশের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জাতিসংঘে, বড় অগ্রগতির সুপারিশ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৬:২৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৮

এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর সুপারিশ করেছে ইকোসক। ছবি: সংগৃহীত

এলডিসি উত্তরণ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রগতি হয়েছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) বাংলাদেশ ও নেপালের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কাছে পাঠানোর সুপারিশ করেছে।

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ইকোসকের বৈঠকে সদস্যরাষ্ট্রগুলো সর্বসম্মতিক্রমে এই সুপারিশ অনুমোদন করে। এর ফলে এখন বিষয়টি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিবেচনায় যাবে। সেখানে অনুমোদন মিললে বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের আগে অতিরিক্ত তিন বছরের প্রস্তুতির সুযোগ পাবে।

বৈঠকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন। তাঁর মতে, প্রস্তুতির এই সময় দেশের প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়ন এবং এলডিসি-পরবর্তী অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নিজেকে আরও শক্তভাবে প্রস্তুত করার সুযোগ তৈরি করবে।

এর আগে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) বাংলাদেশ ও নেপালের আবেদন পর্যালোচনা করে বিষয়টি সাধারণ পরিষদে বিবেচনার সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই ইকোসক আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি সাধারণ পরিষদের কাছে পাঠিয়েছে। বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, ২৪ নভেম্বর ২০২৬-এর আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সরকার সময় বাড়ানোর পক্ষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে সামষ্টিক অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করা, চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার সম্পন্ন করা এবং স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজির (এসটিএস) অধীনে বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি শেষ করা। সরকারের মতে, অতিরিক্ত সময় দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

সরকার আরও উল্লেখ করেছে, গত কয়েক বছরে একের পর এক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি ব্যাহত হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক জ্বালানি ও খাদ্যবাজারের অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা প্রস্তুতির ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে দেশের আর্থিক খাতের অনিয়ম, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং রোহিঙ্গা সংকটও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে এলডিসি তালিকাভুক্ত হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে শুল্কমুক্ত রপ্তানিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সুবিধা ভোগ করে আসছে। ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি—এই তিনটি সূচকেই সফলভাবে উত্তীর্ণ হয় বাংলাদেশ। এরপর দেশটির এলডিসি থেকে উত্তরণের সুপারিশ করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সাধারণ পরিষদ সময় বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করে, তাহলে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সংস্কার আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে। পাশাপাশি রপ্তানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখা, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করার জন্যও অতিরিক্ত সময় কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অমিতাভ বচ্চন সুস্থ: চমকপ্রদ ব্যাখ্যায় দূর হলো অস্ত্রোপচারের গুঞ্জন

এলডিসি উত্তরণ: বাংলাদেশের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জাতিসংঘে, বড় অগ্রগতির সুপারিশ

Update Time : ০৬:২৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

এলডিসি উত্তরণ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রগতি হয়েছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) বাংলাদেশ ও নেপালের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কাছে পাঠানোর সুপারিশ করেছে।

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ইকোসকের বৈঠকে সদস্যরাষ্ট্রগুলো সর্বসম্মতিক্রমে এই সুপারিশ অনুমোদন করে। এর ফলে এখন বিষয়টি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিবেচনায় যাবে। সেখানে অনুমোদন মিললে বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের আগে অতিরিক্ত তিন বছরের প্রস্তুতির সুযোগ পাবে।

বৈঠকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন। তাঁর মতে, প্রস্তুতির এই সময় দেশের প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়ন এবং এলডিসি-পরবর্তী অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নিজেকে আরও শক্তভাবে প্রস্তুত করার সুযোগ তৈরি করবে।

আরও পড়ুন  কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে জাতিসংঘে পাকিস্তানের নতুন দাবি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

এর আগে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) বাংলাদেশ ও নেপালের আবেদন পর্যালোচনা করে বিষয়টি সাধারণ পরিষদে বিবেচনার সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই ইকোসক আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি সাধারণ পরিষদের কাছে পাঠিয়েছে। বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, ২৪ নভেম্বর ২০২৬-এর আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সরকার সময় বাড়ানোর পক্ষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে সামষ্টিক অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করা, চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার সম্পন্ন করা এবং স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজির (এসটিএস) অধীনে বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি শেষ করা। সরকারের মতে, অতিরিক্ত সময় দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

আরও পড়ুন  সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন এমডি হলেন আবেদুর রহমান সিকদার

সরকার আরও উল্লেখ করেছে, গত কয়েক বছরে একের পর এক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি ব্যাহত হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক জ্বালানি ও খাদ্যবাজারের অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা প্রস্তুতির ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে দেশের আর্থিক খাতের অনিয়ম, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং রোহিঙ্গা সংকটও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন  টানা বৃষ্টিপাত ও বন্যার প্রভাবে কক্সবাজার পর্যটন শিল্পে ১শ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি

বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে এলডিসি তালিকাভুক্ত হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে শুল্কমুক্ত রপ্তানিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সুবিধা ভোগ করে আসছে। ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি—এই তিনটি সূচকেই সফলভাবে উত্তীর্ণ হয় বাংলাদেশ। এরপর দেশটির এলডিসি থেকে উত্তরণের সুপারিশ করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সাধারণ পরিষদ সময় বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করে, তাহলে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সংস্কার আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে। পাশাপাশি রপ্তানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখা, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করার জন্যও অতিরিক্ত সময় কাজে লাগানো সম্ভব হবে।