রেংমিটচা ভাষা এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে সংকটাপন্ন ভাষাগুলোর একটি। বান্দরবানের ম্রো জনগোষ্ঠীর এই ভাষায় বর্তমানে মাত্র দুজন মানুষ সাবলীলভাবে কথা বলতে পারেন। একসময় কয়েকটি পাহাড়ি পাড়ায় প্রচলিত এই ভাষা আজ বিলুপ্তির একেবারে শেষ ধাপে পৌঁছে গেছে।সম্প্রতি ভাষাটির একজন সাবলীল বক্তা মারা যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়েছে। বর্তমানে দুই ভাই ছাড়া আর কেউ অনর্গল রেংমিটচা ভাষা বলতে পারেন না। আরও কয়েকজন ভাষাটি আংশিক বুঝলেও দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করেন না। ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষাটি পৌঁছানোর সুযোগও কমে যাচ্ছে।
গবেষকদের মতে, অতীতে গুটিবসন্ত ও কলেরার মতো মহামারিতে রেংমিটচাভাষী মানুষের সংখ্যা দ্রুত কমে যায়। পরে তারা ম্রো জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বসবাস শুরু করলে ধীরে ধীরে নিজেদের ভাষার বদলে ম্রো ভাষা ব্যবহার করতে থাকেন। পারিবারিক চর্চা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রেংমিটচা ভাষা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আর ছড়িয়ে পড়েনি।ভাষাবিজ্ঞানীরা বলছেন, কোনো ভাষা টিকে থাকতে হলে পরিবারে নিয়মিত ব্যবহার জরুরি। কিন্তু বর্তমানে রেংমিটচা ভাষা জানা ব্যক্তিরা নিজেদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও অন্য ভাষায় কথা বলেন। এ কারণেই ভাষাটি প্রায় হারিয়ে যাওয়ার অবস্থায় পৌঁছেছে।

- রেংমিটচা ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারেন এখন মাত্র দুজন। ছবি: সংগৃহীত
গবেষকরা মনে করেন, ভাষাটিকে রক্ষা করতে হলে দ্রুত শব্দভান্ডার সংগ্রহ, উচ্চারণ রেকর্ড, লিখিত রূপ তৈরি এবং শিশু-কিশোরদের শেখানোর উদ্যোগ নিতে হবে। বিশ্বের অনেক বিলুপ্তপ্রায় ভাষা এভাবেই নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। তাই রেংমিটচা ভাষা সংরক্ষণেও একই ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।বাংলাদেশের ভাষাগত বৈচিত্র্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। তাই রেংমিটচা ভাষা শুধু একটি জনগোষ্ঠীর ভাষা নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিরও মূল্যবান সম্পদ। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে হয়তো ভাষাটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।



























