বাংলাদেশ ইংল্যান্ড টেস্ট ২০২৭ ঘিরে এসেছে দারুণ সুখবর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) নিশ্চিত করেছে, ২০২৭ সালের ২৮ মে ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে একমাত্র টেস্ট ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। প্রায় দেড় দশক পর ইংল্যান্ডের মাটিতে আবারও লাল বলের ক্রিকেটে নামবে টাইগাররা।
সবশেষ ২০১০ সালে ইংল্যান্ড সফর করেছিল বাংলাদেশ। সেই সফরেও লর্ডসে একটি টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও আর ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলার সুযোগ হয়নি। অবশেষে ২০২৭ সালে আবারও ক্রিকেটের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ভেন্যু লর্ডসে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল, যা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য নিঃসন্দেহে আনন্দের খবর।
দুই দলের টেস্ট ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ১০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের একমাত্র জয়টি আসে ২০১৬ সালে মিরপুরে, যেখানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল টাইগাররা। সেই স্মৃতি এখনও বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়। এবার লর্ডসে নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
বর্তমানে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। আগামী মাসেই ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে দলটি। সেই সফরের পর এক বছরের ব্যবধানে ইংল্যান্ড সফর বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বিদেশের মাটিতে নিয়মিত খেলা বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শুধু পুরুষ দলই নয়, ২০২৭ সালে ইংল্যান্ড সফরে যাবে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দলও। তারা তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে। টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো হবে নর্দাম্পটন, টনটন ও উস্টারে। এরপর ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে হোভ, কেন্টারবেরি ও চেমসফোর্ডে। ফলে ২০২৭ সালে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেট লড়াই হবে দুই দলেই।
লর্ডসে বাংলাদেশের এই টেস্ট শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং দেশের ক্রিকেটের জন্য বড় একটি সুযোগ। বিশ্বের অন্যতম ঐতিহাসিক ক্রিকেট ভেন্যুতে ভালো পারফরম্যান্স করলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে। এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের অপেক্ষা, টাইগাররা কি লর্ডসের মাঠে নতুন ইতিহাস লিখতে পারবে?


























