তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের নাম, পরিচয় ও ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একাধিক ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও পেজ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এসব ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে মন্ত্রীর নামে অনুমোদনহীন বক্তব্য, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং ভুয়া কনটেন্ট ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও পেজের মাধ্যমে প্রচারিত কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস বা শেয়ার না করার অনুরোধ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি করা একাধিক ভুয়া ফেসবুক আইডি ও পেজ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সরকারি বিষয়ে বিভ্রান্তিকর পোস্ট প্রকাশ করা হচ্ছে। এসব পোস্ট দেখে অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং এগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, জহির উদ্দিন স্বপনের নামে মাত্র একটি ভেরিফায়েড (ব্লু-ব্যাজ) ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এই ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট ছাড়া অন্য কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা বা অনুমোদন নেই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য প্রচার করা শুধু অনৈতিক নয়, এটি দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করে এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরির ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে, কোনো তথ্য শেয়ার বা বিশ্বাস করার আগে অবশ্যই সেটি সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র বা ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত হয়েছে কি না তা যাচাই করতে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া পোস্ট, ছবি বা ভিডিও যাচাই না করে প্রচার না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এছাড়া কেউ যদি তথ্যমন্ত্রীর নামে পরিচালিত কোনো ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বা পেজ দেখতে পান, তাহলে তা দ্রুত ফেসবুকের Report অপশনের মাধ্যমে রিপোর্ট করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা বা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে পরিচয় চুরি (Identity Theft) এবং ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট তৈরি করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঘটনা বিশ্বজুড়েই বেড়েছে। তাই সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি বা জনপরিচিত ব্যক্তিদের নামে প্রকাশিত যেকোনো তথ্যের ক্ষেত্রে ভেরিফায়েড উৎস নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সেগুলো অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জনগণের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে, যাতে ভুয়া তথ্য ও গুজব প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।



























