যুক্তরাজ্যের পিটারবরোর কাছের মুর ফার্মে একসঙ্গে ৬টি বার্ন আউল ছানার সন্ধান মিলেছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরে এটি সবচেয়ে বড় বার্ন আউল পরিবারের অন্যতম। সম্প্রতি একাধিক অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারটির জন্য এই বিরল ঘটনা যেন নতুন আশার বার্তা নিয়ে এসেছে।
পিটারবরো সিটি কাউন্সিলের বার্ন আউল পুনরুদ্ধার প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ সাইমন ডাডহিল জানান, ২০২৬ সালে তিনি ২৬০টিরও বেশি বার্ন আউল ছানাকে শনাক্তকরণ রিং পরিয়েছেন। তবে একটি বাসায় একসঙ্গে ৬টি ছানা পাওয়া এ বছরের প্রথম ঘটনা এবং এটি অত্যন্ত বিরল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতিটি ছানার পায়ে ব্রিটিশ ট্রাস্ট ফর অরনিথোলজির (BTO) বিশেষ নম্বরযুক্ত ধাতব রিং পরানো হয়েছে। এসব রিংয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে তাদের চলাচল, বেঁচে থাকা এবং প্রজনন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
মুর ফার্মের মালিক জুডিথ জ্যাকবস জানান, গত বছর খামারে একটি বার্ন আউল ছানাও দেখা যায়নি। তবে এ বছর তিনটি স্ত্রী ও তিনটি পুরুষ ছানার জন্ম হয়েছে। তিনি বলেন, খামারের আশপাশে নিরাপদ শিকারের পথ তৈরি করায় পেঁচাগুলো এখন ব্যস্ত সড়ক এড়িয়ে সহজেই খাবার সংগ্রহ করতে পারছে, যা তাদের প্রজননে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, গত কয়েক বছরে পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাবে অনেক পূর্ণবয়স্ক বার্ন আউল বাসা তৈরি করলেও ডিম দেয়নি। কিন্তু চলতি বছরে খাদ্যের প্রাপ্যতা বেড়ে যাওয়ায় তাদের সফল প্রজননের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও ক্যামব্রিজশায়ারের সব এলাকায় একই রকম ফলাফল দেখা যায়নি।
সম্প্রতি মুর ফার্মে ছয়বার সন্দেহজনক অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। এমন কঠিন সময়ের মধ্যেই একসঙ্গে ৬টি বার্ন আউল ছানার জন্ম খামারের মালিক ও সংরক্ষণকর্মীদের মুখে হাসি ফিরিয়ে এনেছে। তাদের আশা, এই নতুন প্রজন্ম ভবিষ্যতে বার্ন আউলের সংখ্যা বাড়াতে এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





























