হোয়াইক্যং ইউনিয়ন হামলা ঘিরে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়নের সীমানা নির্ধারণ ও বিভক্তিকরণ নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা চলাকালে একদল ব্যক্তি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান শাহজালাল চৌধুরীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।বৃহস্পতিবার দুপুরের পর কানজরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সেখানে সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভায় ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ সীমানা ও ওয়ার্ড বিন্যাস নিয়ে আলোচনা চলছিল। একপর্যায়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি পক্ষ ইউনিয়ন বিভক্তির বিরোধিতা করে স্লোগান দিতে শুরু করে। পরে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে কিছু লোক পরিষদ কার্যালয়ে ঢুকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ভাঙচুর চালায়। এতে দরজা, জানালা ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন আহত হন।আহতদের মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান শাহজালাল চৌধুরীও রয়েছেন। তিনি জানান, সভা চলাকালে আকস্মিকভাবে হামলা শুরু হয় এবং উপস্থিত অনেকেই আত্মরক্ষার জন্য নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. তাহেরও জানান, হামলার কারণে সভা বন্ধ হয়ে যায় এবং পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
অন্যদিকে ইউনিয়ন বিভক্তির বিরোধিতাকারীরা দাবি করেছেন, নতুন করে সীমানা নির্ধারণ হলে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, হোল্ডিং নম্বরসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে সাধারণ মানুষকে জটিলতার মুখে পড়তে হবে। তাই তাঁরা বিভক্তির বিরোধিতা করতে সভাস্থলে গিয়েছিলেন। তবে ভাঙচুরের সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তারা দায় অস্বীকার করেছেন।ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলার প্রতিবাদে টেকনাফ-কক্সবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের কানজরপাড়া এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। যদিও হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ হয়নি।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে সব পক্ষের মতামত বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার সত্যতা উদঘাটন হবে এবং ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



























