অবৈধ ভিওআইপি কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনকে আর্থিক জরিমানা করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। প্রতিষ্ঠানটিকে ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বিটিআরসির পক্ষ থেকে গ্রামীণফোনকে দেওয়া নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার দাবি, নিজস্ব নেটওয়ার্কে অবৈধ কল প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়েছে অপারেটরটি।
নোটিশে বলা হয়েছে, গ্রামীণফোনের এই ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, সেলুলার মোবাইল সার্ভিসেস গাইডলাইন এবং লাইসেন্সের বিভিন্ন শর্ত লঙ্ঘন হয়েছে।
বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অবৈধ ভিওআইপি কার্যক্রমে ব্যবহৃত বেশ কিছু সিম উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার একটি মামলার অভিযানে ১৬৪টি এবং চট্টগ্রামের হালিশহর থানার আরেকটি মামলায় ২০টি সিম জব্দ করা হয়।
জব্দ করা এসব সিমে অবৈধ ভিওআইপি কার্যক্রম পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি। সংস্থাটির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি অবৈধ সিমের জন্য ১০ হাজার টাকা হারে জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসাবে মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
এর আগেও গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে অবৈধ ভিওআইপি কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৩ সালে এক অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির ১ হাজার ৬৪০টি সিম উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া ২০২২ সালেও অবৈধ ভিওআইপি ব্যবহারের কারণে গ্রামীণফোনকে ৯৯ লাখ ৬২৫ টাকা জরিমানা করেছিল বিটিআরসি।
টেলিযোগাযোগ খাতে অবৈধ ভিওআইপি দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কল নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালনা করা হলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাতে পারে।
বিটিআরসি জানিয়েছে, অবৈধ কল কার্যক্রম বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মোবাইল অপারেটরগুলোকে নিজস্ব নেটওয়ার্কে প্রতারণামূলক কার্যক্রম ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গ্রাহকদের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করতে টেলিকম খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে অবৈধ ভিওআইপি প্রতিরোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি।



























