ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বয়সের বাধা নেই, কম খরচে বাউবিতে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:০৬:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৭

বয়সের বাধা নেই, কম খরচে বাউবিতে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স

চাকরি, সংসার বা দীর্ঘদিন পড়াশোনার বাইরে থাকার কারণে অনেকেরই উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায়। তবে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ করে দিচ্ছে। কম খরচ, নমনীয় শিক্ষাব্যবস্থা এবং বয়সের কোনো ঊর্ধ্বসীমা না থাকায় ব্যাচেলর ও মাস্টার্সে ভর্তির জন্য এটি এখনো অন্যতম জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান।

১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দেশের একমাত্র দূরশিক্ষাভিত্তিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। গাজীপুরে এর মূল ক্যাম্পাস হলেও ১২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র, ৬৩টি উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র এবং সারা দেশে প্রায় দেড় হাজার স্টাডি সেন্টারের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে তিন লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।

বাউবির শিক্ষা কার্যক্রম সাতটি একাডেমিক স্কুলের অধীনে পরিচালিত হয়। এসব স্কুলে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ব্যবসা, কৃষি, আইন, সমাজবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা নিজের আগ্রহ ও পেশাগত প্রয়োজন অনুযায়ী বিষয় নির্বাচন করতে পারেন।

স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে রয়েছে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) এবং ফুড সায়েন্স অ্যান্ড নিউট্রিশন বিষয়ে অনার্স। পাশাপাশি মাস্টার অব পাবলিক হেলথ (এমপিএইচ) এবং মাস্টার অব ডিজঅ্যাবিলিটি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন (এমডিএমআর) করার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা আধুনিক ল্যাবে ব্যবহারিক শিক্ষাও গ্রহণ করতে পারেন।

ওপেন স্কুলে এসএসসি ও এইচএসসি ছাড়াও ব্যবসায় শিক্ষায় বিবিএস, বিবিএ, এমবিএ, মাস্টার ইন ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড ক্রিমিনাল জাস্টিস, মাস্টার অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এবং মাস্টার অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের মতো প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পাশাপাশি বাড়তি সময় নিয়েও অনেক প্রোগ্রাম সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়।

স্কুল অব বিজনেসে কর্মজীবীদের জন্য রয়েছে বিবিএ, এমবিএ, প্রফেশনাল এমবিএ (পিএমবিএ) এবং কমনওয়েলথ এক্সিকিউটিভ এমবিএ/এমপিএ প্রোগ্রাম। এছাড়া কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন স্কুলে কৃষিবিজ্ঞান, টেকসই কৃষি, মৃত্তিকা বিজ্ঞান, পোলট্রি সায়েন্স এবং সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে।

আইন বিষয়ে আগ্রহীদের জন্য বাউবির স্কুল অব ল-তে চার বছর মেয়াদি এলএলবি এবং মাস্টার অব ল (এলএলএম) প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখান থেকে ডিগ্রি অর্জন করে অনেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন আদালতে আইন পেশায় সফলভাবে কাজ করছেন।

বাউবির অন্যতম বড় সুবিধা হলো নমনীয় ভর্তি নীতি। অধিকাংশ প্রোগ্রামে বয়সের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই। প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেই ভর্তি হওয়া যায়। কিছু প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষা বা মৌখিক পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি সহজ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখানে মাসিক টিউশন ফি দিতে হয় না। কোর্স বা সেমিস্টারভিত্তিক নির্ধারিত ফি একবার পরিশোধ করলেই ভর্তি সম্পন্ন হয়। বই, আইডি কার্ড ও কিছু সেবার জন্য অতিরিক্ত ফি নেওয়া হয় না। আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ফি মওকুফের সুবিধাও রয়েছে।

বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, কর্মজীবী, গৃহিণী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, সৌদি আরব ও ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে বাউবির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও দেশে স্টাডি সেন্টার সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চা শিল্প উন্নয়ন: বড় সহায়তার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বয়সের বাধা নেই, কম খরচে বাউবিতে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স

Update Time : ০৩:০৬:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

চাকরি, সংসার বা দীর্ঘদিন পড়াশোনার বাইরে থাকার কারণে অনেকেরই উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায়। তবে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ করে দিচ্ছে। কম খরচ, নমনীয় শিক্ষাব্যবস্থা এবং বয়সের কোনো ঊর্ধ্বসীমা না থাকায় ব্যাচেলর ও মাস্টার্সে ভর্তির জন্য এটি এখনো অন্যতম জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান।

১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দেশের একমাত্র দূরশিক্ষাভিত্তিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। গাজীপুরে এর মূল ক্যাম্পাস হলেও ১২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র, ৬৩টি উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র এবং সারা দেশে প্রায় দেড় হাজার স্টাডি সেন্টারের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে তিন লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।

বাউবির শিক্ষা কার্যক্রম সাতটি একাডেমিক স্কুলের অধীনে পরিচালিত হয়। এসব স্কুলে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ব্যবসা, কৃষি, আইন, সমাজবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা নিজের আগ্রহ ও পেশাগত প্রয়োজন অনুযায়ী বিষয় নির্বাচন করতে পারেন।

স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে রয়েছে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) এবং ফুড সায়েন্স অ্যান্ড নিউট্রিশন বিষয়ে অনার্স। পাশাপাশি মাস্টার অব পাবলিক হেলথ (এমপিএইচ) এবং মাস্টার অব ডিজঅ্যাবিলিটি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন (এমডিএমআর) করার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা আধুনিক ল্যাবে ব্যবহারিক শিক্ষাও গ্রহণ করতে পারেন।

ওপেন স্কুলে এসএসসি ও এইচএসসি ছাড়াও ব্যবসায় শিক্ষায় বিবিএস, বিবিএ, এমবিএ, মাস্টার ইন ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড ক্রিমিনাল জাস্টিস, মাস্টার অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এবং মাস্টার অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের মতো প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পাশাপাশি বাড়তি সময় নিয়েও অনেক প্রোগ্রাম সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়।

স্কুল অব বিজনেসে কর্মজীবীদের জন্য রয়েছে বিবিএ, এমবিএ, প্রফেশনাল এমবিএ (পিএমবিএ) এবং কমনওয়েলথ এক্সিকিউটিভ এমবিএ/এমপিএ প্রোগ্রাম। এছাড়া কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন স্কুলে কৃষিবিজ্ঞান, টেকসই কৃষি, মৃত্তিকা বিজ্ঞান, পোলট্রি সায়েন্স এবং সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে।

আইন বিষয়ে আগ্রহীদের জন্য বাউবির স্কুল অব ল-তে চার বছর মেয়াদি এলএলবি এবং মাস্টার অব ল (এলএলএম) প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখান থেকে ডিগ্রি অর্জন করে অনেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন আদালতে আইন পেশায় সফলভাবে কাজ করছেন।

বাউবির অন্যতম বড় সুবিধা হলো নমনীয় ভর্তি নীতি। অধিকাংশ প্রোগ্রামে বয়সের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই। প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেই ভর্তি হওয়া যায়। কিছু প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষা বা মৌখিক পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি সহজ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখানে মাসিক টিউশন ফি দিতে হয় না। কোর্স বা সেমিস্টারভিত্তিক নির্ধারিত ফি একবার পরিশোধ করলেই ভর্তি সম্পন্ন হয়। বই, আইডি কার্ড ও কিছু সেবার জন্য অতিরিক্ত ফি নেওয়া হয় না। আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ফি মওকুফের সুবিধাও রয়েছে।

বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, কর্মজীবী, গৃহিণী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, সৌদি আরব ও ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে বাউবির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও দেশে স্টাডি সেন্টার সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।