ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চীনের ক্ষোভ, ‘প্রয়োজনীয় জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা Logo ডাক অধিদপ্তরের সব কার্যালয় ও ডাকঘর এখন তামাকমুক্ত Logo জেন-জি ভাষা: ভারতের সংসদে ভাইরাল ট্রেন্ডের চমকপ্রদ ব্যবহার ২০২৬ Logo Claude চ্যাট প্রাইভেসি: কীভাবে ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রাখবেন Logo ফিফার নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘিরে বিতর্ক, সদস্যদের ৪ কোটি ডলারের প্রস্তাব Logo প্রাচীন মানুষের পদচিহ্নে মিলল ১৪ লাখ বছরের পুরোনো নতুন তথ্য Logo জাপানের জনসংখ্যা ১২ কোটির নিচে: উদ্বেগ বাড়াচ্ছে জন্মহার সংকট Logo জরুরি আপডেট: গভীর নিম্নচাপ দুর্বল, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল Logo সেদ্ধ ডিম নাকি ভাজি, ওজন কমাতে কোনটি বেশি কার্যকর? Logo চন্দনাইশে দুর্গাপূজা ২০২৬: মন্দিরের তালিকা উপজেলা প্রশাসনের কাছে প্রদান

ডাক অধিদপ্তরের সব কার্যালয় ও ডাকঘর এখন তামাকমুক্ত

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৪৮:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৪

ডাক অধিদপ্তরের আওতাধীন সব কার্যালয় ও ডাকঘরকে তামাকমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের নিরাপদ রাখতে দেশের ডাক অধিদপ্তরের আওতাধীন সব কার্যালয় ও ডাকঘরকে সম্পূর্ণ তামাকমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে ধূমপান ও সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার, বিক্রি এবং ক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) ডাক অধিদপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত ‘টেকসই তামাক নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগ’ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য খাতের প্রতিনিধি এবং তামাকবিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ডাক অধিদপ্তর জানায়, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০২৬) অনুযায়ী জনসাধারণের ব্যবহৃত স্থানে ধূমপান আইনত নিষিদ্ধ। সেই আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই ডাক বিভাগের সব অফিস ও ডাকঘরে কঠোরভাবে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশের প্রায় ১০ হাজার ডাকঘরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আরও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশে কাজ করতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রতিদিন বিভিন্ন ডাকসেবা নিতে আসা বিপুলসংখ্যক মানুষও পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পাবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমি। তিনি বলেন, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু একজন ব্যবহারকারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি পরিবার, কর্মক্ষেত্র, পরিবেশ এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ডাক অধিদপ্তরের এই উদ্যোগ অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি ইতিবাচক উদাহরণ হতে পারে। কর্মস্থলকে তামাকমুক্ত রাখা হলে কর্মীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে এবং সেবার পরিবেশও আরও উন্নত হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস ২০১৭)-এর হিসেবে দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। অন্যদিকে টোব্যাকো অ্যাটলাস ২০২৫ বলছে, তামাকজনিত রোগে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এবং আরও বহু মানুষ স্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন।

ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, তামাকমুক্ত প্রতিষ্ঠান ঘোষণা কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি সুস্থ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ সরকারি সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চীনের ক্ষোভ, ‘প্রয়োজনীয় জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা

ডাক অধিদপ্তরের সব কার্যালয় ও ডাকঘর এখন তামাকমুক্ত

Update Time : ১১:৪৮:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের নিরাপদ রাখতে দেশের ডাক অধিদপ্তরের আওতাধীন সব কার্যালয় ও ডাকঘরকে সম্পূর্ণ তামাকমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে ধূমপান ও সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার, বিক্রি এবং ক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) ডাক অধিদপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত ‘টেকসই তামাক নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগ’ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য খাতের প্রতিনিধি এবং তামাকবিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন  তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরছে, জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ: আইনমন্ত্রী

ডাক অধিদপ্তর জানায়, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০২৬) অনুযায়ী জনসাধারণের ব্যবহৃত স্থানে ধূমপান আইনত নিষিদ্ধ। সেই আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই ডাক বিভাগের সব অফিস ও ডাকঘরে কঠোরভাবে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশের প্রায় ১০ হাজার ডাকঘরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আরও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশে কাজ করতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রতিদিন বিভিন্ন ডাকসেবা নিতে আসা বিপুলসংখ্যক মানুষও পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পাবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমি। তিনি বলেন, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু একজন ব্যবহারকারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি পরিবার, কর্মক্ষেত্র, পরিবেশ এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

আরও পড়ুন  কালশী বাউনিয়াবাদ বস্তিতে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস

তিনি আরও বলেন, ডাক অধিদপ্তরের এই উদ্যোগ অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি ইতিবাচক উদাহরণ হতে পারে। কর্মস্থলকে তামাকমুক্ত রাখা হলে কর্মীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে এবং সেবার পরিবেশও আরও উন্নত হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস ২০১৭)-এর হিসেবে দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। অন্যদিকে টোব্যাকো অ্যাটলাস ২০২৫ বলছে, তামাকজনিত রোগে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এবং আরও বহু মানুষ স্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন।

আরও পড়ুন  সেন্টমার্টিন নিয়ে সিদ্ধান্ত বহাল, জানালেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু

ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, তামাকমুক্ত প্রতিষ্ঠান ঘোষণা কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি সুস্থ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ সরকারি সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।