ঢাকা ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গাজী সালাউদ্দিন অব্যাহতি: চমকপ্রদ সিদ্ধান্তে আবারও কড়া পদক্ষেপ এনসিপির Logo গুরুত্বপূর্ণ বার্তা: জনগণের বিভাজন চক্রান্ত ঠেকাতে তথ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঢাকা পরিদর্শন: নগর তদারকির ৭ গুরুত্বপূর্ণ দিক Logo গরম পানি কি সর্দি-কাশি সারায়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা Logo শিক্ষিকার নামের বানান ভুল করায় শিক্ষার্থীকে ৩০০ বার লেখার শাস্তি Logo জুলাই শহীদ রিতার কবর জিয়ারত করলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী Logo নিজে গাড়ি চালিয়ে ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী Logo আর্জেন্টাইন গোলরক্ষককে দলে ভেড়াতে চাচ্ছে ম্যানসিটি Logo ভিন্নমতকে যখন হুমকি মনে করা হয় : পাকিস্তানের ইতিহাস দক্ষিণ এশিয়ার জন্য শিক্ষণীয় Logo নরসিংদীতে লটকনের বাম্পার ফলন, ১৪৬ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা

গরম পানি কি সর্দি-কাশি সারায়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

সর্দি-কাশি হলে সঠিক যত্ন ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। ছবি: সংগৃহীত

গরম পানি সর্দি-কাশি সারাতে পারে এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই প্রচলিত। ঠান্ডা লাগলেই কেউ গরম পানি পান করেন, আবার কেউ বারবার চা, স্যুপ বা ভাপ নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে প্রশ্ন হলো, গরম পানি কি সত্যিই সর্দি-কাশি ভালো করে, নাকি এটি শুধু সাময়িক স্বস্তি দেয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সর্দি-কাশি হলে খুব গরম পানি নয়, বরং ঈষদুষ্ণ পানি পান করাই বেশি উপকারী। ঠান্ডা লাগার সময় শরীর ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। এ সময় গলায় প্রদাহ, নাক বন্ধ, কাশি ও শ্লেষ্মা জমার মতো সমস্যা দেখা দেয়। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শ্লেষ্মা আরও ঘন হয়ে যায়, ফলে অস্বস্তি বাড়তে পারে।

ঈষদুষ্ণ পানি শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে এবং গলার শুষ্কতা ও অস্বস্তি কিছুটা কমাতে পারে। পাশাপাশি নাকের ভেতরের শ্লেষ্মা পাতলা হওয়ায় শ্বাস নিতে কিছুটা স্বস্তি মেলে। তবে অতিরিক্ত গরম পানি পান করা ঠিক নয়। এতে মুখ ও গলার সংবেদনশীল টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমনকি জ্বালাপোড়াও সৃষ্টি হতে পারে।

দ্রুত সুস্থ হতে চাইলে শুধু গরম পানির ওপর নির্ভর না করে আরও কিছু অভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। যেমন দিনজুড়ে পর্যাপ্ত ঈষদুষ্ণ পানি পান করা, কুসুম গরম লবণপানি দিয়ে গার্গল করা, ভেষজ চা বা মধু মিশ্রিত হালকা গরম পানি পান করা এবং প্রয়োজনে গরম পানির ভাপ নেওয়া। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীরকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।

খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। হালকা ও পুষ্টিকর খাবার, যেমন শাকসবজি, মাছ বা মুরগির পাতলা ঝোল এবং ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। এসব খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও তরল সরবরাহ করে, যা অসুস্থতার সময় উপকারী।

সবশেষে মনে রাখা দরকার, গরম পানি সর্দি-কাশি পুরোপুরি সারিয়ে তোলে না। এটি কেবল গলার অস্বস্তি কমাতে এবং শরীরকে আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে। যদি জ্বর কয়েক দিন ধরে থাকে, শ্বাসকষ্ট, তীব্র গলা ব্যথা বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

গাজী সালাউদ্দিন অব্যাহতি: চমকপ্রদ সিদ্ধান্তে আবারও কড়া পদক্ষেপ এনসিপির

গরম পানি কি সর্দি-কাশি সারায়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

Update Time : ১১:৩৪:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

গরম পানি সর্দি-কাশি সারাতে পারে এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই প্রচলিত। ঠান্ডা লাগলেই কেউ গরম পানি পান করেন, আবার কেউ বারবার চা, স্যুপ বা ভাপ নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে প্রশ্ন হলো, গরম পানি কি সত্যিই সর্দি-কাশি ভালো করে, নাকি এটি শুধু সাময়িক স্বস্তি দেয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সর্দি-কাশি হলে খুব গরম পানি নয়, বরং ঈষদুষ্ণ পানি পান করাই বেশি উপকারী। ঠান্ডা লাগার সময় শরীর ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। এ সময় গলায় প্রদাহ, নাক বন্ধ, কাশি ও শ্লেষ্মা জমার মতো সমস্যা দেখা দেয়। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শ্লেষ্মা আরও ঘন হয়ে যায়, ফলে অস্বস্তি বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন  বর্ষায় ছাদবাগানের যত্ন নেবেন যেভাবে, জানুন সহজ উপায়

ঈষদুষ্ণ পানি শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে এবং গলার শুষ্কতা ও অস্বস্তি কিছুটা কমাতে পারে। পাশাপাশি নাকের ভেতরের শ্লেষ্মা পাতলা হওয়ায় শ্বাস নিতে কিছুটা স্বস্তি মেলে। তবে অতিরিক্ত গরম পানি পান করা ঠিক নয়। এতে মুখ ও গলার সংবেদনশীল টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমনকি জ্বালাপোড়াও সৃষ্টি হতে পারে।

দ্রুত সুস্থ হতে চাইলে শুধু গরম পানির ওপর নির্ভর না করে আরও কিছু অভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। যেমন দিনজুড়ে পর্যাপ্ত ঈষদুষ্ণ পানি পান করা, কুসুম গরম লবণপানি দিয়ে গার্গল করা, ভেষজ চা বা মধু মিশ্রিত হালকা গরম পানি পান করা এবং প্রয়োজনে গরম পানির ভাপ নেওয়া। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীরকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন  ৪৫ দিন কলা খেলে কী ঘটে শরীরে?

খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। হালকা ও পুষ্টিকর খাবার, যেমন শাকসবজি, মাছ বা মুরগির পাতলা ঝোল এবং ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। এসব খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও তরল সরবরাহ করে, যা অসুস্থতার সময় উপকারী।

সবশেষে মনে রাখা দরকার, গরম পানি সর্দি-কাশি পুরোপুরি সারিয়ে তোলে না। এটি কেবল গলার অস্বস্তি কমাতে এবং শরীরকে আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে। যদি জ্বর কয়েক দিন ধরে থাকে, শ্বাসকষ্ট, তীব্র গলা ব্যথা বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

আরও পড়ুন  ঠান্ডা পানীয় বেশি খেলেই কি শরীর ঠান্ডা থাকে? সত্যটা জানুন