ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গুগলের জেমিনি নিয়ে নতুন উদ্বেগ, পরীক্ষার সময় ঢুকে পড়ল আসল সিস্টেমে Logo সফল মানুষের সকালের নাশতায় কী থাকে, জানুন তাদের পছন্দ Logo অপ্রতিম হত্যা যেভাবে ঘটেছে, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বের হলো বিস্তারিত Logo বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে ভারত, শতবর্ষে বড় ম্যাচ আয়োজনের ভাবনা বিসিসিআইয়ের Logo শীতলপাটি দিয়ে স্যান্ডেল বানিয়ে চমক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষার্থীর Logo জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান Logo আজমুল হত্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা Logo বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় আধুনিক কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ Logo অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন, বিচার দাবি স্বজনদের Logo ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়েছিল

গরম পানি কি সর্দি-কাশি সারায়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

সর্দি-কাশি হলে সঠিক যত্ন ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। ছবি: সংগৃহীত

গরম পানি সর্দি-কাশি সারাতে পারে এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই প্রচলিত। ঠান্ডা লাগলেই কেউ গরম পানি পান করেন, আবার কেউ বারবার চা, স্যুপ বা ভাপ নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে প্রশ্ন হলো, গরম পানি কি সত্যিই সর্দি-কাশি ভালো করে, নাকি এটি শুধু সাময়িক স্বস্তি দেয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সর্দি-কাশি হলে খুব গরম পানি নয়, বরং ঈষদুষ্ণ পানি পান করাই বেশি উপকারী। ঠান্ডা লাগার সময় শরীর ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। এ সময় গলায় প্রদাহ, নাক বন্ধ, কাশি ও শ্লেষ্মা জমার মতো সমস্যা দেখা দেয়। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শ্লেষ্মা আরও ঘন হয়ে যায়, ফলে অস্বস্তি বাড়তে পারে।

ঈষদুষ্ণ পানি শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে এবং গলার শুষ্কতা ও অস্বস্তি কিছুটা কমাতে পারে। পাশাপাশি নাকের ভেতরের শ্লেষ্মা পাতলা হওয়ায় শ্বাস নিতে কিছুটা স্বস্তি মেলে। তবে অতিরিক্ত গরম পানি পান করা ঠিক নয়। এতে মুখ ও গলার সংবেদনশীল টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমনকি জ্বালাপোড়াও সৃষ্টি হতে পারে।

দ্রুত সুস্থ হতে চাইলে শুধু গরম পানির ওপর নির্ভর না করে আরও কিছু অভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। যেমন দিনজুড়ে পর্যাপ্ত ঈষদুষ্ণ পানি পান করা, কুসুম গরম লবণপানি দিয়ে গার্গল করা, ভেষজ চা বা মধু মিশ্রিত হালকা গরম পানি পান করা এবং প্রয়োজনে গরম পানির ভাপ নেওয়া। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীরকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।

খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। হালকা ও পুষ্টিকর খাবার, যেমন শাকসবজি, মাছ বা মুরগির পাতলা ঝোল এবং ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। এসব খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও তরল সরবরাহ করে, যা অসুস্থতার সময় উপকারী।

সবশেষে মনে রাখা দরকার, গরম পানি সর্দি-কাশি পুরোপুরি সারিয়ে তোলে না। এটি কেবল গলার অস্বস্তি কমাতে এবং শরীরকে আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে। যদি জ্বর কয়েক দিন ধরে থাকে, শ্বাসকষ্ট, তীব্র গলা ব্যথা বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

জনপ্রিয় সংবাদ

গুগলের জেমিনি নিয়ে নতুন উদ্বেগ, পরীক্ষার সময় ঢুকে পড়ল আসল সিস্টেমে

গরম পানি কি সর্দি-কাশি সারায়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

Update Time : ১১:৩৪:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

গরম পানি সর্দি-কাশি সারাতে পারে এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই প্রচলিত। ঠান্ডা লাগলেই কেউ গরম পানি পান করেন, আবার কেউ বারবার চা, স্যুপ বা ভাপ নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে প্রশ্ন হলো, গরম পানি কি সত্যিই সর্দি-কাশি ভালো করে, নাকি এটি শুধু সাময়িক স্বস্তি দেয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সর্দি-কাশি হলে খুব গরম পানি নয়, বরং ঈষদুষ্ণ পানি পান করাই বেশি উপকারী। ঠান্ডা লাগার সময় শরীর ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। এ সময় গলায় প্রদাহ, নাক বন্ধ, কাশি ও শ্লেষ্মা জমার মতো সমস্যা দেখা দেয়। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শ্লেষ্মা আরও ঘন হয়ে যায়, ফলে অস্বস্তি বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন  ঘামের দুর্গন্ধে নাজেহাল? এই ৫টি ঘরোয়া উপায়েই সারাদিন থাকবেন একদম ফ্রেশ!

ঈষদুষ্ণ পানি শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে এবং গলার শুষ্কতা ও অস্বস্তি কিছুটা কমাতে পারে। পাশাপাশি নাকের ভেতরের শ্লেষ্মা পাতলা হওয়ায় শ্বাস নিতে কিছুটা স্বস্তি মেলে। তবে অতিরিক্ত গরম পানি পান করা ঠিক নয়। এতে মুখ ও গলার সংবেদনশীল টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমনকি জ্বালাপোড়াও সৃষ্টি হতে পারে।

দ্রুত সুস্থ হতে চাইলে শুধু গরম পানির ওপর নির্ভর না করে আরও কিছু অভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। যেমন দিনজুড়ে পর্যাপ্ত ঈষদুষ্ণ পানি পান করা, কুসুম গরম লবণপানি দিয়ে গার্গল করা, ভেষজ চা বা মধু মিশ্রিত হালকা গরম পানি পান করা এবং প্রয়োজনে গরম পানির ভাপ নেওয়া। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীরকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন  সন্তানের অবাধ্য কথাবার্তা সামলানোর উপায়

খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। হালকা ও পুষ্টিকর খাবার, যেমন শাকসবজি, মাছ বা মুরগির পাতলা ঝোল এবং ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। এসব খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও তরল সরবরাহ করে, যা অসুস্থতার সময় উপকারী।

সবশেষে মনে রাখা দরকার, গরম পানি সর্দি-কাশি পুরোপুরি সারিয়ে তোলে না। এটি কেবল গলার অস্বস্তি কমাতে এবং শরীরকে আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে। যদি জ্বর কয়েক দিন ধরে থাকে, শ্বাসকষ্ট, তীব্র গলা ব্যথা বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

আরও পড়ুন  ঘরেই বানান রেস্তোরাঁর মতো মুচমুচে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই