ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পেট ভরে খেয়েও কেন আবার ক্ষুধা? জানুন ৪ কারণ Logo বাংলাদেশের উন্নয়নে জাতিসংঘের আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় সরকার Logo সৌরজগতের বাইরে বহির্গ্রহ থেকে রেডিও সংকেত শনাক্ত Logo মাত্র ৭ দিনে মনোযোগ বাড়াবেন যেভাবে, জানুন সহজ কৌশল Logo দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এমপি জসীমের নেতৃত্বে চন্দনাইশে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ Logo নতুন উপজেলায় সাতকানিয়ার ৬ ইউনিয়নের সাথে দোহাজারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে: এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদ Logo চন্দনাইশে গাছবাড়ীয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বাস উপহারের ঘোষণা এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদের Logo ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন পেল বিকাশ-রবিসহ চার প্রতিষ্ঠান Logo সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে ঘুষ, আদালতে দুই কর্মচারীর জবানবন্দি Logo মরিয়মের মৃত্যু মামলায় গাজী নজরুল ফের ৪ দিনের রিমান্ডে

লজ্জাবতী গাছ স্পর্শ করলে কুঁকড়ে যায় কেন?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:০০:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৪৩

স্পর্শে পাতা গুটিয়ে ফেলা লজ্জাবতী গাছ। ছবি: সংগৃহীত।

লজ্জাবতী গাছ এমন একটি উদ্ভিদ, যার পাতায় হালকা স্পর্শ লাগলেই মুহূর্তের মধ্যে তা কুঁকড়ে যায়। অনেকেই মনে করেন, গাছটি যেন লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে। বাস্তবে এটি কোনো অনুভূতির প্রকাশ নয়, বরং আত্মরক্ষার একটি প্রাকৃতিক কৌশল।

​লজ্জাবতী গাছের কাণ্ড ও পাতাগুলো খুবই নরম এবং স্পর্শ-সংবেদনশীল। কোনো মানুষ, প্রাণী বা অন্য বস্তুর স্পর্শ লাগলে গাছের ভেতরে দ্রুত একটি সংকেত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর পাতার কোষে থাকা পানি পাশের কোষে সরে যেতে শুরু করে।

পাতার এই দ্রুত প্রতিক্রিয়ার পেছনে মূলত এক ধরনের বৈদ্যুতিক ও রাসায়নিক সংকেত কাজ করে। বিজ্ঞানীরা একে প্রাণীদের স্নায়ুতন্ত্রের সাথে তুলনা করেন। স্পর্শের পরপরই পাতার কোষ থেকে পটাসিয়াম আয়ন দ্রুত বেরিয়ে যায়। আর এই আয়নের পরিবর্তনের কারণেই পানি এক কোষ থেকে অন্য কোষে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হয়।

এই পানির স্থানান্তরের কারণে পাতার কোষ সাময়িকভাবে স্ফীতি বা শক্তি হারায়। ফলে পাতাগুলো ঢিলে হয়ে ভাঁজ হয়ে যায় বা কুঁকড়ে পড়ে। এতে গাছটি ছোট ও নিস্তেজ দেখায়, যা অনেক সময় তৃণভোজী প্রাণীদের কাছে এটিকে কম আকর্ষণীয় করে তোলে। এভাবেই লজ্জাবতী গাছ সম্ভাব্য বিপদ থেকে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে।

শুধু মানুষের স্পর্শ নয়, প্রবল বাতাস, অতিরিক্ত উত্তাপ কিংবা ভারী বৃষ্টির আঘাত পেলেও গাছটি একইভাবে সাড়া দেয়। রাতের বেলায় আলো কমে গেলেও এর পাতাগুলো নিজে থেকেই গুটিয়ে যায়। পাতা দ্রুত গুটিয়ে ফেলার কারণে ক্ষতিকর পোকামাকড় এর ওপর সহজে বসতে বা ডিম পাড়তে পারে না, যা এর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

কিছু সময় পর যখন আর কোনো বিপদের সংকেত থাকে না, তখন কোষে আবার পানি ফিরে আসে। ধীরে ধীরে পাতাগুলো আগের মতো খুলে যায় এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। তাই লজ্জাবতী গাছের পাতা গুটিয়ে যাওয়া আসলে লজ্জার কারণে নয়; এটি বিজ্ঞানের ভাষায় উদ্ভিদের একটি স্বাভাবিক প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া।

জনপ্রিয় সংবাদ

পেট ভরে খেয়েও কেন আবার ক্ষুধা? জানুন ৪ কারণ

লজ্জাবতী গাছ স্পর্শ করলে কুঁকড়ে যায় কেন?

Update Time : ০৩:০০:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

লজ্জাবতী গাছ এমন একটি উদ্ভিদ, যার পাতায় হালকা স্পর্শ লাগলেই মুহূর্তের মধ্যে তা কুঁকড়ে যায়। অনেকেই মনে করেন, গাছটি যেন লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে। বাস্তবে এটি কোনো অনুভূতির প্রকাশ নয়, বরং আত্মরক্ষার একটি প্রাকৃতিক কৌশল।

​লজ্জাবতী গাছের কাণ্ড ও পাতাগুলো খুবই নরম এবং স্পর্শ-সংবেদনশীল। কোনো মানুষ, প্রাণী বা অন্য বস্তুর স্পর্শ লাগলে গাছের ভেতরে দ্রুত একটি সংকেত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর পাতার কোষে থাকা পানি পাশের কোষে সরে যেতে শুরু করে।

আরও পড়ুন  প্রকৃতির নানা রং ও জাতের ফলফলাদি আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত

পাতার এই দ্রুত প্রতিক্রিয়ার পেছনে মূলত এক ধরনের বৈদ্যুতিক ও রাসায়নিক সংকেত কাজ করে। বিজ্ঞানীরা একে প্রাণীদের স্নায়ুতন্ত্রের সাথে তুলনা করেন। স্পর্শের পরপরই পাতার কোষ থেকে পটাসিয়াম আয়ন দ্রুত বেরিয়ে যায়। আর এই আয়নের পরিবর্তনের কারণেই পানি এক কোষ থেকে অন্য কোষে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হয়।

এই পানির স্থানান্তরের কারণে পাতার কোষ সাময়িকভাবে স্ফীতি বা শক্তি হারায়। ফলে পাতাগুলো ঢিলে হয়ে ভাঁজ হয়ে যায় বা কুঁকড়ে পড়ে। এতে গাছটি ছোট ও নিস্তেজ দেখায়, যা অনেক সময় তৃণভোজী প্রাণীদের কাছে এটিকে কম আকর্ষণীয় করে তোলে। এভাবেই লজ্জাবতী গাছ সম্ভাব্য বিপদ থেকে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে।

আরও পড়ুন  নিয়ম ভেঙে পোষ মেনেছে সজারু, কেমন তার আসল স্বভাব?

শুধু মানুষের স্পর্শ নয়, প্রবল বাতাস, অতিরিক্ত উত্তাপ কিংবা ভারী বৃষ্টির আঘাত পেলেও গাছটি একইভাবে সাড়া দেয়। রাতের বেলায় আলো কমে গেলেও এর পাতাগুলো নিজে থেকেই গুটিয়ে যায়। পাতা দ্রুত গুটিয়ে ফেলার কারণে ক্ষতিকর পোকামাকড় এর ওপর সহজে বসতে বা ডিম পাড়তে পারে না, যা এর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

আরও পড়ুন  হারানো আইফোন বন্ধ থাকলেও খুঁজে পাওয়ার সহজ উপায় ও প্রয়োজনীয় সেটিংস

কিছু সময় পর যখন আর কোনো বিপদের সংকেত থাকে না, তখন কোষে আবার পানি ফিরে আসে। ধীরে ধীরে পাতাগুলো আগের মতো খুলে যায় এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। তাই লজ্জাবতী গাছের পাতা গুটিয়ে যাওয়া আসলে লজ্জার কারণে নয়; এটি বিজ্ঞানের ভাষায় উদ্ভিদের একটি স্বাভাবিক প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া।