ঢাকা ১০:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোয়েসেলের রেকর্ড: বিদেশে গেল ১৯ হাজার কর্মী

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:৫৯:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৮

বোয়েসেলের মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ডসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গেছেন। | ছবি: সংগৃহীত

বোয়েসেল জনশক্তি রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড করেছে। বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড ১৯ হাজার ১৯৭ জন বাংলাদেশি কর্মীকে বিভিন্ন দেশে পাঠিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে এক বছরে এটিই সর্বোচ্চ কর্মী প্রেরণের রেকর্ড। আগের অর্থবছরে বোয়েসেলের মাধ্যমে বিদেশে গিয়েছিলেন ১৬ হাজার ৬৬ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কর্মী প্রেরণ বেড়েছে ৩ হাজার ১৩১ জন বা ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার এই প্রবৃদ্ধিকে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দেশভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি কর্মী গেছেন জর্ডানে। গত অর্থবছরে দেশটিতে বোয়েসেলের মাধ্যমে ১৪ হাজার ৫৪৩ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে। এরপর ব্রুনাইয়ে ১ হাজার ৮১২ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১ হাজার ৪০৪ জন এবং মালয়েশিয়ায় ১ হাজার ৭ জন কর্মসংস্থান পেয়েছেন। এ ছাড়া রাশিয়ায় ৩৪২ জন, ইরাকে ৬৪ জন, জাপানে ১১ জন, কুয়েতে ৫ জন, ফিজিতে ৫ জন এবং হংকংয়ে ৪ জন কর্মী গেছেন। অর্থাৎ কয়েকটি নির্দিষ্ট বাজারের ওপর বড় নির্ভরতা থাকলেও এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বোয়েসেল বিশ্বের প্রায় ৩৬টি দেশে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৩৮ জন বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। বর্তমানে জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রুনাই, মালয়েশিয়া, রাশিয়া, ইরাক, জাপান, কুয়েত ও ফিজিসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি পুরোনো বাজার ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন শ্রমবাজার খুঁজছে প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাবনাময় নতুন বাজার হিসেবে মঙ্গোলিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক জানিয়েছেন, আগের অর্থবছরের তুলনায় এবার কর্মী প্রেরণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিভিন্ন দেশের কাছে বোয়েসেলের প্রতি আস্থা বাড়ায় এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার-টু-সরকার বা জি-টু-জি ব্যবস্থায় বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। স্বল্প খরচে নিরাপদ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গেলে এই ব্যবস্থার পরিধি আরও বড় করা সম্ভব। একই সঙ্গে দক্ষ কর্মীদের জন্য নতুন ধরনের চাকরির বাজার তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরে আরও বড় লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে বোয়েসেল। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মো. শওকত আলী জানিয়েছেন, এবার ৪০ হাজার জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এই লক্ষ্য পূরণ হলে গত অর্থবছরের রেকর্ডের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হবে। ইতিমধ্যে জুলাই মাসে বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১ হাজার ৪৩১ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে। ফলে নতুন অর্থবছরের শুরুতেই কর্মী প্রেরণের ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে। তবে ৪০ হাজারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নতুন বাজার তৈরি এবং বিদ্যমান বাজারে সুযোগ বাড়ানো—দুই দিকেই জোর দিতে হবে।

বিদেশে কর্মসংস্থান বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাত। বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রতিবছর বিদেশে কাজের জন্য গেলেও মোট কর্মী প্রেরণের তুলনায় বোয়েসেল-এর অংশ এখনো তুলনামূলকভাবে ছোট। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া মোট কর্মীর মাত্র প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ তাদের মাধ্যমে গেছেন। তাই সরকারি ব্যবস্থায় আরও বেশি কর্মী পাঠাতে পারলে স্বচ্ছতা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কম খরচে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে। বিদ্যমান শ্রমবাজার শক্তিশালী করার পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া বাজার পুনরায় চালু এবং নতুন বাজার চিহ্নিত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে জনশক্তি রপ্তানিতে আরও বড় সম্ভাবনা তৈরি হবে। মঙ্গোলিয়াসহ নতুন বাজারে অগ্রগতি এবং চলতি অর্থবছরের ৪০ হাজার কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য কতটা সফল হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়েসেলের রেকর্ড: বিদেশে গেল ১৯ হাজার কর্মী

Update Time : ০৮:৫৯:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

বোয়েসেল জনশক্তি রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড করেছে। বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড ১৯ হাজার ১৯৭ জন বাংলাদেশি কর্মীকে বিভিন্ন দেশে পাঠিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে এক বছরে এটিই সর্বোচ্চ কর্মী প্রেরণের রেকর্ড। আগের অর্থবছরে বোয়েসেলের মাধ্যমে বিদেশে গিয়েছিলেন ১৬ হাজার ৬৬ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কর্মী প্রেরণ বেড়েছে ৩ হাজার ১৩১ জন বা ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার এই প্রবৃদ্ধিকে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দেশভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি কর্মী গেছেন জর্ডানে। গত অর্থবছরে দেশটিতে বোয়েসেলের মাধ্যমে ১৪ হাজার ৫৪৩ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে। এরপর ব্রুনাইয়ে ১ হাজার ৮১২ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১ হাজার ৪০৪ জন এবং মালয়েশিয়ায় ১ হাজার ৭ জন কর্মসংস্থান পেয়েছেন। এ ছাড়া রাশিয়ায় ৩৪২ জন, ইরাকে ৬৪ জন, জাপানে ১১ জন, কুয়েতে ৫ জন, ফিজিতে ৫ জন এবং হংকংয়ে ৪ জন কর্মী গেছেন। অর্থাৎ কয়েকটি নির্দিষ্ট বাজারের ওপর বড় নির্ভরতা থাকলেও এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

আরও পড়ুন  বাজেটে দাম কমতে ও বাড়তে পারে যেসব পণ্য

১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বোয়েসেল বিশ্বের প্রায় ৩৬টি দেশে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৩৮ জন বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। বর্তমানে জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রুনাই, মালয়েশিয়া, রাশিয়া, ইরাক, জাপান, কুয়েত ও ফিজিসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি পুরোনো বাজার ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন শ্রমবাজার খুঁজছে প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাবনাময় নতুন বাজার হিসেবে মঙ্গোলিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক জানিয়েছেন, আগের অর্থবছরের তুলনায় এবার কর্মী প্রেরণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিভিন্ন দেশের কাছে বোয়েসেলের প্রতি আস্থা বাড়ায় এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার-টু-সরকার বা জি-টু-জি ব্যবস্থায় বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। স্বল্প খরচে নিরাপদ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গেলে এই ব্যবস্থার পরিধি আরও বড় করা সম্ভব। একই সঙ্গে দক্ষ কর্মীদের জন্য নতুন ধরনের চাকরির বাজার তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন  নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার শঙ্কা: বৃষ্টি-বন্যায় সরবরাহে বড় সংকট

চলতি অর্থবছরে আরও বড় লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে বোয়েসেল। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মো. শওকত আলী জানিয়েছেন, এবার ৪০ হাজার জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এই লক্ষ্য পূরণ হলে গত অর্থবছরের রেকর্ডের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হবে। ইতিমধ্যে জুলাই মাসে বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১ হাজার ৪৩১ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে। ফলে নতুন অর্থবছরের শুরুতেই কর্মী প্রেরণের ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে। তবে ৪০ হাজারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নতুন বাজার তৈরি এবং বিদ্যমান বাজারে সুযোগ বাড়ানো—দুই দিকেই জোর দিতে হবে।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য, লাভবান কারা?

বিদেশে কর্মসংস্থান বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাত। বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রতিবছর বিদেশে কাজের জন্য গেলেও মোট কর্মী প্রেরণের তুলনায় বোয়েসেল-এর অংশ এখনো তুলনামূলকভাবে ছোট। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া মোট কর্মীর মাত্র প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ তাদের মাধ্যমে গেছেন। তাই সরকারি ব্যবস্থায় আরও বেশি কর্মী পাঠাতে পারলে স্বচ্ছতা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কম খরচে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে। বিদ্যমান শ্রমবাজার শক্তিশালী করার পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া বাজার পুনরায় চালু এবং নতুন বাজার চিহ্নিত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে জনশক্তি রপ্তানিতে আরও বড় সম্ভাবনা তৈরি হবে। মঙ্গোলিয়াসহ নতুন বাজারে অগ্রগতি এবং চলতি অর্থবছরের ৪০ হাজার কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য কতটা সফল হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।