ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাকিরা-পিকের প্রাসাদ কিনলেন ইয়ামাল, দাম ১ কোটি ইউরোর বেশি

শাকিরা-পিকের প্রাসাদ কিনলেন ইয়ামাল

বার্সেলোনার অভিজাত এলাকায় শাকিরা ও জেরার্ড পিকের পুরোনো বিলাসবহুল প্রাসাদ কিনে নিয়েছেন লামিনে ইয়ামাল। ১ কোটি ইউরোরও বেশি মূল্যের এই বিশাল বাড়িটিই এখন বার্সেলোনা ও স্পেনের তরুণ তারকার নতুন ঠিকানা। একসময় শাকিরা ও পিকের পারিবারিক স্মৃতির সাক্ষী থাকা বাড়িতে এবার নিজের সাম্রাজ্য গড়তে যাচ্ছেন ইয়ামাল। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই এমন বিলাসবহুল সম্পত্তির মালিক হয়ে ফের আলোচনায় উঠে এসেছেন এই ফুটবল তারকা।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্সেলোনার অন্যতম অভিজাত এলাকা এস্প্লুগেস দে ইয়োব্রেগাতের সিউদাদ দিয়াগোনাল আবাসিক কমপ্লেক্সে অবস্থিত বাড়িটি। ২০১২ সালে স্থপতি মিরিয়া আদমেতলের নকশায় তৈরি হয়েছিল বিশাল এই সম্পত্তি। প্রায় ৩৮০০ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে নির্মিত বাড়িটিতে রয়েছে তিনটি মূল তলা ও দুটি ভূগর্ভস্থ তলা। পুরো স্থাপনাটির নকশা ও সুযোগ-সুবিধা একে বার্সেলোনার অন্যতম বিলাসবহুল আবাসনে পরিণত করেছে।

বাড়িটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি হলো এর বিশাল সুইমিং পুল, যার সঙ্গে রয়েছে জলপ্রপাতের নকশা। এর পাশাপাশি রয়েছে একটি ইনডোর সুইমিং পুল, আধুনিক জিমনেসিয়াম, প্যাডেল কোর্ট এবং ব্যক্তিগত ফুটবল মাঠ। বিনোদনের জন্য রয়েছে বড় সিনেমা হল ও ওয়াইন সেলার। এমনকি পেশাদার মানের একটি রেকর্ডিং স্টুডিওও আছে, যেটি একসময় শাকিরা নিজেই ব্যবহার করতেন।

বাড়িটির বিশাল কাঁচের জানালা দিয়ে ভূমধ্যসাগর ও বার্সেলোনা শহরের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। পাহাড়ের উঁচু অবস্থানে থাকা এই প্রাসাদ থেকে শহরের বিস্তৃত অংশ এক নজরে উপভোগ করা সম্ভব। শাকিরা ও পিকের সময়কার আধুনিক ও উজ্জ্বল অভ্যন্তরীণ নকশার বড় অংশই ইয়ামাল অপরিবর্তিত রেখেছেন। তবে নিজের পছন্দ অনুযায়ী বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় ব্যক্তিগত স্মৃতি ও অর্জনের ছোঁয়া যোগ করেছেন তিনি।

ইয়ামালের সংগ্রহে থাকা ট্রফি, পুরস্কার ও বিভিন্ন স্মারকচিহ্নও জায়গা পেয়েছে বাড়িটির বিভিন্ন অংশে। মাত্র কয়েক বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে পাওয়া সাফল্যগুলোকে এভাবেই নিজের নতুন ঠিকানায় তুলে ধরেছেন তরুণ এই ফুটবলার। মাঠে ধারাবাহিক সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও যে তিনি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন, বাড়িটি তারই বড় উদাহরণ। ১৮ বছর বয়সেই এমন সম্পত্তির মালিক হওয়া তাঁর তারকাখ্যাতির আরেকটি প্রতিচ্ছবি।

পুরো কমপ্লেক্সটিতে রয়েছে চারটি আলাদা বাড়ি। এর মধ্যে একটি ছিল জেরার্ড পিকের বাবা-মায়ের জন্য এবং আরেকটি ছিল শাকিরার বাবা-মায়ের জন্য। মূল প্রাসাদটিতেই এখন থেকে থাকার কথা ইয়ামালের। আর চতুর্থ বাড়িটির সংস্কারকাজ এখনো শেষ হয়নি বলে জানা গেছে।

শাকিরা ও পিকের সম্পর্কের সময় এই বাড়িটি ছিল তাদের পারিবারিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ঠিকানা। সেই বাড়িই এখন ইয়ামালের জীবনের নতুন অধ্যায়ের অংশ হয়ে উঠেছে। ফুটবল ক্যারিয়ারে একের পর এক রেকর্ড গড়া এই তরুণ তারকা এবার ব্যক্তিগত জীবনেও নিজের অবস্থান জানান দিলেন। রোকাপোন্দার সাধারণ জীবন থেকে এমন রাজকীয় প্রাসাদে ইয়ামালের উত্থান তাই অনেকের কাছেই রূপকথার মতো।

বাড়িটি ইয়ামালের কাছে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় তিন মাস সময় লেগেছে। দুই পক্ষের আইনজীবীদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে পুরো লেনদেন ও মালিকানা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা। এতে শাকিরা বা পিকের সরাসরি উপস্থিত থাকার প্রয়োজন হয়নি। সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ঐতিহ্যবাহী এই প্রাসাদের নতুন মালিক হিসেবে ইয়ামালের নাম যুক্ত হয়েছে।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেকের পর থেকেই ফুটবল বিশ্বে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন ইয়ামাল। স্পেনের জাতীয় দলের হয়েও একের পর এক রেকর্ড গড়ে তিনি এখন বিশ্বের অন্যতম আলোচিত তরুণ ফুটবলার। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তাঁর জীবনযাপন নিয়েও তাই ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই। শাকিরা ও পিকের পুরোনো এই প্রাসাদ কেনা সেই আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শাকিরা-পিকের প্রাসাদ কিনলেন ইয়ামাল, দাম ১ কোটি ইউরোর বেশি

Update Time : ০৯:০৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

বার্সেলোনার অভিজাত এলাকায় শাকিরা ও জেরার্ড পিকের পুরোনো বিলাসবহুল প্রাসাদ কিনে নিয়েছেন লামিনে ইয়ামাল। ১ কোটি ইউরোরও বেশি মূল্যের এই বিশাল বাড়িটিই এখন বার্সেলোনা ও স্পেনের তরুণ তারকার নতুন ঠিকানা। একসময় শাকিরা ও পিকের পারিবারিক স্মৃতির সাক্ষী থাকা বাড়িতে এবার নিজের সাম্রাজ্য গড়তে যাচ্ছেন ইয়ামাল। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই এমন বিলাসবহুল সম্পত্তির মালিক হয়ে ফের আলোচনায় উঠে এসেছেন এই ফুটবল তারকা।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্সেলোনার অন্যতম অভিজাত এলাকা এস্প্লুগেস দে ইয়োব্রেগাতের সিউদাদ দিয়াগোনাল আবাসিক কমপ্লেক্সে অবস্থিত বাড়িটি। ২০১২ সালে স্থপতি মিরিয়া আদমেতলের নকশায় তৈরি হয়েছিল বিশাল এই সম্পত্তি। প্রায় ৩৮০০ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে নির্মিত বাড়িটিতে রয়েছে তিনটি মূল তলা ও দুটি ভূগর্ভস্থ তলা। পুরো স্থাপনাটির নকশা ও সুযোগ-সুবিধা একে বার্সেলোনার অন্যতম বিলাসবহুল আবাসনে পরিণত করেছে।

বাড়িটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি হলো এর বিশাল সুইমিং পুল, যার সঙ্গে রয়েছে জলপ্রপাতের নকশা। এর পাশাপাশি রয়েছে একটি ইনডোর সুইমিং পুল, আধুনিক জিমনেসিয়াম, প্যাডেল কোর্ট এবং ব্যক্তিগত ফুটবল মাঠ। বিনোদনের জন্য রয়েছে বড় সিনেমা হল ও ওয়াইন সেলার। এমনকি পেশাদার মানের একটি রেকর্ডিং স্টুডিওও আছে, যেটি একসময় শাকিরা নিজেই ব্যবহার করতেন।

আরও পড়ুন  ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড

বাড়িটির বিশাল কাঁচের জানালা দিয়ে ভূমধ্যসাগর ও বার্সেলোনা শহরের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। পাহাড়ের উঁচু অবস্থানে থাকা এই প্রাসাদ থেকে শহরের বিস্তৃত অংশ এক নজরে উপভোগ করা সম্ভব। শাকিরা ও পিকের সময়কার আধুনিক ও উজ্জ্বল অভ্যন্তরীণ নকশার বড় অংশই ইয়ামাল অপরিবর্তিত রেখেছেন। তবে নিজের পছন্দ অনুযায়ী বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় ব্যক্তিগত স্মৃতি ও অর্জনের ছোঁয়া যোগ করেছেন তিনি।

ইয়ামালের সংগ্রহে থাকা ট্রফি, পুরস্কার ও বিভিন্ন স্মারকচিহ্নও জায়গা পেয়েছে বাড়িটির বিভিন্ন অংশে। মাত্র কয়েক বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে পাওয়া সাফল্যগুলোকে এভাবেই নিজের নতুন ঠিকানায় তুলে ধরেছেন তরুণ এই ফুটবলার। মাঠে ধারাবাহিক সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও যে তিনি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন, বাড়িটি তারই বড় উদাহরণ। ১৮ বছর বয়সেই এমন সম্পত্তির মালিক হওয়া তাঁর তারকাখ্যাতির আরেকটি প্রতিচ্ছবি।

আরও পড়ুন  আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ র‌্যাঙ্কিং অভিশাপ: ইতিহাস কি এবার বদলাবে?

পুরো কমপ্লেক্সটিতে রয়েছে চারটি আলাদা বাড়ি। এর মধ্যে একটি ছিল জেরার্ড পিকের বাবা-মায়ের জন্য এবং আরেকটি ছিল শাকিরার বাবা-মায়ের জন্য। মূল প্রাসাদটিতেই এখন থেকে থাকার কথা ইয়ামালের। আর চতুর্থ বাড়িটির সংস্কারকাজ এখনো শেষ হয়নি বলে জানা গেছে।

শাকিরা ও পিকের সম্পর্কের সময় এই বাড়িটি ছিল তাদের পারিবারিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ঠিকানা। সেই বাড়িই এখন ইয়ামালের জীবনের নতুন অধ্যায়ের অংশ হয়ে উঠেছে। ফুটবল ক্যারিয়ারে একের পর এক রেকর্ড গড়া এই তরুণ তারকা এবার ব্যক্তিগত জীবনেও নিজের অবস্থান জানান দিলেন। রোকাপোন্দার সাধারণ জীবন থেকে এমন রাজকীয় প্রাসাদে ইয়ামালের উত্থান তাই অনেকের কাছেই রূপকথার মতো।

আরও পড়ুন  ভোজিনিয়ার ম্যাচ দেখতে মাঠে থাকবেন তার মা

বাড়িটি ইয়ামালের কাছে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় তিন মাস সময় লেগেছে। দুই পক্ষের আইনজীবীদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে পুরো লেনদেন ও মালিকানা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা। এতে শাকিরা বা পিকের সরাসরি উপস্থিত থাকার প্রয়োজন হয়নি। সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ঐতিহ্যবাহী এই প্রাসাদের নতুন মালিক হিসেবে ইয়ামালের নাম যুক্ত হয়েছে।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেকের পর থেকেই ফুটবল বিশ্বে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন ইয়ামাল। স্পেনের জাতীয় দলের হয়েও একের পর এক রেকর্ড গড়ে তিনি এখন বিশ্বের অন্যতম আলোচিত তরুণ ফুটবলার। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তাঁর জীবনযাপন নিয়েও তাই ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই। শাকিরা ও পিকের পুরোনো এই প্রাসাদ কেনা সেই আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।