ঢাকা ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সালাহ মামলা: আদালতে হাজিরার নির্দেশ, সামনে বড় পরীক্ষা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৫৮:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১০

বকেয়া আইনি ফি নিয়ে মামলায় আদালতে হাজির হতে হবে সালাহকে। | ছবি: সংগৃহীত

সালাহ মামলা নিয়ে নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়েছেন মিসরীয় তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ। ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় শুরুর প্রস্তুতির মধ্যেই তাঁকে পুরোনো একটি মামলায় আদালতে সশরীর হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বকেয়া আইনি ফি পরিশোধের দাবি ঘিরে করা এই মামলায় মিসরের নিউ কায়রো কোর্ট অব ফার্স্ট ইনস্ট্যান্সের দেওয়ানি বেঞ্চ সম্প্রতি এ নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর সালাহকে সশরীর উপস্থিত হয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।

মামলাটি করেছেন আইনজীবী আমর ফারাগ আল্লাহ মোর্সি আবদেল তাওয়াব। তাঁর অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে সালাহর হয়ে তিনি বিভিন্ন আইনি, প্রশাসনিক ও পরামর্শমূলক কাজ করেছেন। আদালতের নথিপত্রসহ নানা ধরনের আইনি কার্যক্রমও পরিচালনা করেছেন তিনি। কিন্তু এসব কাজের বিনিময়ে যে পারিশ্রমিক পাওয়ার কথা ছিল, তার একটি অংশ এখনো পরিশোধ করা হয়নি বলে দাবি আইনজীবীর। সেই বকেয়া অর্থ আদায়ের লক্ষ্যেই ২০২৫ সালে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।

তবে আইনজীবীর অভিযোগ মেনে নেননি সালাহ। মামলার আরজিতে যে কাজগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেসবের বিপরীতে তাঁর কাছে অর্থ পাওনা রয়েছে—এই দাবিও তিনি অস্বীকার করেছেন। ফলে বিষয়টি এখন দাঁড়িয়েছে দুই পক্ষের বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের পর্যায়ে। আদালত সেই কারণেই সালাহকে সরাসরি হাজির হয়ে শপথ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ লিখিত জবাবে তিনি যে অবস্থান নিয়েছেন, আদালতে শপথের মাধ্যমে সেটিই সত্য বলে নিশ্চিত করতে হবে তাঁকে।

আদালতের এই নির্দেশের গুরুত্বও কম নয়। সালাহ নির্ধারিত সময়ে হাজির হয়ে শপথ নিতে ব্যর্থ হলে কিংবা যথাযথ কারণ ছাড়া তা করতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে শপথ গ্রহণে অস্বীকৃত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আদালত ধরে নিতে পারেন, মামলার অপর পক্ষের দাবি তিনি মেনে নিয়েছেন। তখন রায় তাঁর বিপক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে। তবে বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার রায় স্থগিত রেখেছেন বিচারক।

সালাহ মামলাটির সূত্রপাত অবশ্য আরও আগে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বকেয়া ফি পাওয়ার দাবি জানিয়ে সালাহর বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই আইনজীবী। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালে সালাহ তাঁকে একটি সাধারণ অফিশিয়াল পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছিলেন। সেই ক্ষমতার ভিত্তিতে তিনি সালাহর হয়ে বিভিন্ন কাজ পরিচালনা করতেন। ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সেই ক্ষমতা কার্যকর ছিল। পরে তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বকেয়া পারিশ্রমিকের পাশাপাশি আর্থিক ও মানসিক ক্ষতিপূরণও চেয়েছেন আইনজীবী।

এদিকে মাঠের বাইরের এই ঝামেলার মধ্যেই সালাহর ক্যারিয়ারে এসেছে বড় পরিবর্তন। লিভারপুল অধ্যায় শেষ করে তুর্কি ক্লাব ত্রাবজোনস্পোরে যোগ দিয়েছেন মিসরীয় তারকা। ১৫ আগস্ট কাশিমপাশার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তুর্কি লিগে তাঁর অভিষেক হতে পারে। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর গেনচলেরবিরলিগির বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সূচি রয়েছে তাঁর নতুন ক্লাবের। মজার ব্যাপার হলো, একই দিন তাঁকে মিসরের আদালতেও হাজির হতে হবে। অর্থাৎ নতুন ক্লাব, নতুন লিগ ও নতুন চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি আদালতের লড়াইও সামলাতে হবে সালাহকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সালাহ মামলা: আদালতে হাজিরার নির্দেশ, সামনে বড় পরীক্ষা

Update Time : ১১:৫৮:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

সালাহ মামলা নিয়ে নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়েছেন মিসরীয় তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ। ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় শুরুর প্রস্তুতির মধ্যেই তাঁকে পুরোনো একটি মামলায় আদালতে সশরীর হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বকেয়া আইনি ফি পরিশোধের দাবি ঘিরে করা এই মামলায় মিসরের নিউ কায়রো কোর্ট অব ফার্স্ট ইনস্ট্যান্সের দেওয়ানি বেঞ্চ সম্প্রতি এ নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর সালাহকে সশরীর উপস্থিত হয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।

মামলাটি করেছেন আইনজীবী আমর ফারাগ আল্লাহ মোর্সি আবদেল তাওয়াব। তাঁর অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে সালাহর হয়ে তিনি বিভিন্ন আইনি, প্রশাসনিক ও পরামর্শমূলক কাজ করেছেন। আদালতের নথিপত্রসহ নানা ধরনের আইনি কার্যক্রমও পরিচালনা করেছেন তিনি। কিন্তু এসব কাজের বিনিময়ে যে পারিশ্রমিক পাওয়ার কথা ছিল, তার একটি অংশ এখনো পরিশোধ করা হয়নি বলে দাবি আইনজীবীর। সেই বকেয়া অর্থ আদায়ের লক্ষ্যেই ২০২৫ সালে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।

আরও পড়ুন  ইরানের অপেক্ষা বাড়াল ভিএআর, নকআউটে মিশর

তবে আইনজীবীর অভিযোগ মেনে নেননি সালাহ। মামলার আরজিতে যে কাজগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেসবের বিপরীতে তাঁর কাছে অর্থ পাওনা রয়েছে—এই দাবিও তিনি অস্বীকার করেছেন। ফলে বিষয়টি এখন দাঁড়িয়েছে দুই পক্ষের বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের পর্যায়ে। আদালত সেই কারণেই সালাহকে সরাসরি হাজির হয়ে শপথ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ লিখিত জবাবে তিনি যে অবস্থান নিয়েছেন, আদালতে শপথের মাধ্যমে সেটিই সত্য বলে নিশ্চিত করতে হবে তাঁকে।

আদালতের এই নির্দেশের গুরুত্বও কম নয়। সালাহ নির্ধারিত সময়ে হাজির হয়ে শপথ নিতে ব্যর্থ হলে কিংবা যথাযথ কারণ ছাড়া তা করতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে শপথ গ্রহণে অস্বীকৃত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আদালত ধরে নিতে পারেন, মামলার অপর পক্ষের দাবি তিনি মেনে নিয়েছেন। তখন রায় তাঁর বিপক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে। তবে বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার রায় স্থগিত রেখেছেন বিচারক।

আরও পড়ুন  ভিনি পেলেন ৮, রাফিনিয়া ৬—ব্রাজিলের সেরা-খারাপ কারা?

সালাহ মামলাটির সূত্রপাত অবশ্য আরও আগে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বকেয়া ফি পাওয়ার দাবি জানিয়ে সালাহর বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই আইনজীবী। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালে সালাহ তাঁকে একটি সাধারণ অফিশিয়াল পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছিলেন। সেই ক্ষমতার ভিত্তিতে তিনি সালাহর হয়ে বিভিন্ন কাজ পরিচালনা করতেন। ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সেই ক্ষমতা কার্যকর ছিল। পরে তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বকেয়া পারিশ্রমিকের পাশাপাশি আর্থিক ও মানসিক ক্ষতিপূরণও চেয়েছেন আইনজীবী।

আরও পড়ুন  ক্লোসা-রোনালদোকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন মেসি

এদিকে মাঠের বাইরের এই ঝামেলার মধ্যেই সালাহর ক্যারিয়ারে এসেছে বড় পরিবর্তন। লিভারপুল অধ্যায় শেষ করে তুর্কি ক্লাব ত্রাবজোনস্পোরে যোগ দিয়েছেন মিসরীয় তারকা। ১৫ আগস্ট কাশিমপাশার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তুর্কি লিগে তাঁর অভিষেক হতে পারে। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর গেনচলেরবিরলিগির বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সূচি রয়েছে তাঁর নতুন ক্লাবের। মজার ব্যাপার হলো, একই দিন তাঁকে মিসরের আদালতেও হাজির হতে হবে। অর্থাৎ নতুন ক্লাব, নতুন লিগ ও নতুন চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি আদালতের লড়াইও সামলাতে হবে সালাহকে।