ঢাকা ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খিঁচুনি মানেই কি মৃগী? জানুন করণীয়

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:১১:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১৮

মৃগী রোগ সম্পর্কে সচেতনতা ও খিঁচুনির সময় করণীয় জানা জরুরি।

মৃগী একটি স্নায়বিক রোগ, যেখানে মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের কারণে বারবার খিঁচুনি বা সিজার হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে কয়েক সেকেন্ডের জন্য জ্ঞান বা চারপাশের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা কমে যেতে পারে, আবার কারও শরীর শক্ত হয়ে গিয়ে হাত-পা কাঁপতে পারে। তবে একবার খিঁচুনি হলেই যে মৃগী হয়েছে, এমন নয়।

মৃগীর ধরন ও লক্ষণ সবার ক্ষেত্রে এক রকম হয় না। কারও চোখ স্থির হয়ে যেতে পারে, কথা বলতে সমস্যা হতে পারে বা হঠাৎ কিছু সময়ের জন্য সাড়া দেওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে খিঁচুনির পর কিছু সময় বিভ্রান্তি, দুর্বলতা বা ঘুমঘুম ভাব দেখা দিতে পারে।

মৃগী রোগের কারণ কী?

মস্তিষ্কে আঘাত, স্ট্রোক, কিছু জেনেটিক কারণ, মস্তিষ্কের সংক্রমণ বা জন্মের সময় মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতির মতো বিভিন্ন কারণে মৃগী হতে পারে। তবে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করেও নির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করা যায় না। তাই শুধু লক্ষণ দেখে রোগের কারণ নিশ্চিত করা ঠিক নয়।

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঘুমের ঘাটতি, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ওষুধ নিয়মিত না খাওয়া বা অতিরিক্ত অ্যালকোহল সিজারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে কোন বিষয়টি কার ক্ষেত্রে ট্রিগার হিসেবে কাজ করবে, তা ব্যক্তি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

খিঁচুনি উঠলে কী করবেন?

কেউ খিঁচুনিতে আক্রান্ত হলে তাকে নিরাপদ জায়গায় কাত করে শুইয়ে দিন এবং আশপাশের শক্ত বা ধারালো জিনিস সরিয়ে ফেলুন। মাথার নিচে নরম কিছু দেওয়া যেতে পারে এবং গলার আঁটসাঁট পোশাক ঢিলা করে দিতে হবে। খিঁচুনি কতক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে, সেটিও খেয়াল রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

মুখের ভেতর চামচ, পানি, খাবার বা অন্য কোনো বস্তু ঢোকানো উচিত নয়। জোর করে হাত-পা চেপে ধরে রাখাও ঠিক নয়। খিঁচুনি থামার পরও ব্যক্তি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকা এবং শ্বাস-প্রশ্বাস পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

কখন দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন?

প্রথমবার খিঁচুনি হলে, খিঁচুনি দীর্ঘ সময় চললে, পরপর একাধিকবার খিঁচুনি হলে বা খিঁচুনির পর স্বাভাবিক চেতনা ফিরে না এলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। পানিতে থাকা অবস্থায় খিঁচুনি, গুরুতর আঘাত বা শ্বাস নিতে সমস্যা হলেও দেরি করা উচিত নয়।

মৃগী রোগ শনাক্ত করতে চিকিৎসক রোগীর লক্ষণ ও পূর্ব ইতিহাস পর্যালোচনা করতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী EEG, মস্তিষ্কের স্ক্যান বা অন্যান্য পরীক্ষা করা হতে পারে। চিকিৎসার ধরন নির্ভর করে রোগীর বয়স, সিজারের ধরন, কারণ ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর।

মৃগী কি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব?

অনেক মানুষের ক্ষেত্রে নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে মৃগীর খিঁচুনি ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা বা ডোজ পরিবর্তন করা উচিত নয়। দীর্ঘদিন খিঁচুনি না হলেও নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ করলে আবার সিজার হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।

মৃগী কোনো লজ্জার বিষয় নয় এবং এটি আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবনযাপনের পথে সবসময় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। সঠিক চিকিৎসা, নিয়মিত ফলোআপ এবং পরিবারের সহযোগিতার মাধ্যমে অনেকেই পড়াশোনা, চাকরি ও দৈনন্দিন কাজ স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যেতে পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

খিঁচুনি মানেই কি মৃগী? জানুন করণীয়

Update Time : ০১:১১:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

মৃগী একটি স্নায়বিক রোগ, যেখানে মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের কারণে বারবার খিঁচুনি বা সিজার হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে কয়েক সেকেন্ডের জন্য জ্ঞান বা চারপাশের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা কমে যেতে পারে, আবার কারও শরীর শক্ত হয়ে গিয়ে হাত-পা কাঁপতে পারে। তবে একবার খিঁচুনি হলেই যে মৃগী হয়েছে, এমন নয়।

মৃগীর ধরন ও লক্ষণ সবার ক্ষেত্রে এক রকম হয় না। কারও চোখ স্থির হয়ে যেতে পারে, কথা বলতে সমস্যা হতে পারে বা হঠাৎ কিছু সময়ের জন্য সাড়া দেওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে খিঁচুনির পর কিছু সময় বিভ্রান্তি, দুর্বলতা বা ঘুমঘুম ভাব দেখা দিতে পারে।

মৃগী রোগের কারণ কী?

মস্তিষ্কে আঘাত, স্ট্রোক, কিছু জেনেটিক কারণ, মস্তিষ্কের সংক্রমণ বা জন্মের সময় মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতির মতো বিভিন্ন কারণে মৃগী হতে পারে। তবে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করেও নির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করা যায় না। তাই শুধু লক্ষণ দেখে রোগের কারণ নিশ্চিত করা ঠিক নয়।

আরও পড়ুন  নাটোরে শুভসংঘের উদ্যোগে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঘুমের ঘাটতি, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ওষুধ নিয়মিত না খাওয়া বা অতিরিক্ত অ্যালকোহল সিজারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে কোন বিষয়টি কার ক্ষেত্রে ট্রিগার হিসেবে কাজ করবে, তা ব্যক্তি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

খিঁচুনি উঠলে কী করবেন?

কেউ খিঁচুনিতে আক্রান্ত হলে তাকে নিরাপদ জায়গায় কাত করে শুইয়ে দিন এবং আশপাশের শক্ত বা ধারালো জিনিস সরিয়ে ফেলুন। মাথার নিচে নরম কিছু দেওয়া যেতে পারে এবং গলার আঁটসাঁট পোশাক ঢিলা করে দিতে হবে। খিঁচুনি কতক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে, সেটিও খেয়াল রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন  ১০ জেলায় আইসিইউ উদ্বোধন করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মুখের ভেতর চামচ, পানি, খাবার বা অন্য কোনো বস্তু ঢোকানো উচিত নয়। জোর করে হাত-পা চেপে ধরে রাখাও ঠিক নয়। খিঁচুনি থামার পরও ব্যক্তি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকা এবং শ্বাস-প্রশ্বাস পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

কখন দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন?

প্রথমবার খিঁচুনি হলে, খিঁচুনি দীর্ঘ সময় চললে, পরপর একাধিকবার খিঁচুনি হলে বা খিঁচুনির পর স্বাভাবিক চেতনা ফিরে না এলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। পানিতে থাকা অবস্থায় খিঁচুনি, গুরুতর আঘাত বা শ্বাস নিতে সমস্যা হলেও দেরি করা উচিত নয়।

মৃগী রোগ শনাক্ত করতে চিকিৎসক রোগীর লক্ষণ ও পূর্ব ইতিহাস পর্যালোচনা করতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী EEG, মস্তিষ্কের স্ক্যান বা অন্যান্য পরীক্ষা করা হতে পারে। চিকিৎসার ধরন নির্ভর করে রোগীর বয়স, সিজারের ধরন, কারণ ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর।

আরও পড়ুন  কিডনি ভালো রাখতে সকালে পান করুন এই ৫ স্বাস্থ্যকর পানীয়

মৃগী কি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব?

অনেক মানুষের ক্ষেত্রে নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে মৃগীর খিঁচুনি ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা বা ডোজ পরিবর্তন করা উচিত নয়। দীর্ঘদিন খিঁচুনি না হলেও নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ করলে আবার সিজার হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।

মৃগী কোনো লজ্জার বিষয় নয় এবং এটি আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবনযাপনের পথে সবসময় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। সঠিক চিকিৎসা, নিয়মিত ফলোআপ এবং পরিবারের সহযোগিতার মাধ্যমে অনেকেই পড়াশোনা, চাকরি ও দৈনন্দিন কাজ স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যেতে পারেন।