ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে মশালমিছিল করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। মঙ্গলবার সন্ধ্যার এ কর্মসূচি শেষে আয়োজিত সমাবেশ থেকে জাতীয় জ্বালানিসম্পদ ও বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা বেসরকারি খাতে না দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট দ্রুত সমাধান করে সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত এবং অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সরকারি মূল্য নিয়ন্ত্রণ কার্যকর রাখার দাবি তোলা হয়।
গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট নিরসন, জাতীয় জ্বালানিসম্পদ ও বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা বেসরকারীকরণের প্রতিবাদ এবং ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর এই মোর্চা। মশালমিছিল শেষে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা তিনটি দাবির কথা তুলে ধরেন।
সমাবেশ থেকে প্রথম দাবিতে বলা হয়, বেসরকারীকরণের নামে জাতীয় জ্বালানিসম্পদ ও বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা বসুন্ধরাসহ ‘মাফিয়া করপোরেট গোষ্ঠী’র হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। দ্বিতীয় দাবিতে অবিলম্বে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট দূর করে সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। তৃতীয় দাবিতে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সরকারি মূল্য নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা কার্যকর রাখার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও মানুষের প্রয়োজনীয় সেবার গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো ক্রমেই মুনাফাকেন্দ্রিক বেসরকারি পুঁজির নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, রেল ও ওষুধের মতো অপরিহার্য খাতকে মুনাফার ওপর নির্ভরশীল করা হলে সাধারণ মানুষের ওপর ব্যয়ের চাপ বাড়তে পারে। তাঁরা অতীতের বেসরকারীকরণের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন।
বক্তারা আরও বলেন, জনগণের সম্পদ ও জনসেবার খাত বেসরকারি মালিকানায় তুলে দেওয়ার পরিবর্তে এসব খাতের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁদের মতে, জাতীয় সম্পদ রক্ষা এবং মানুষের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে বেসরকারীকরণের নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন।
সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক ও গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক রাফিকুজ্জামান ফরিদ বলেন, মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি আমেরিকার স্বার্থ রক্ষায় করা হয়েছে এবং জ্বালানি তেল আমদানি ও বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা বেসরকারীকরণের উদ্যোগ দেশীয় করপোরেট গোষ্ঠীর স্বার্থে নেওয়া হচ্ছে বলে তাঁরা মনে করেন। তাঁর দাবি, এসব পদক্ষেপের প্রভাব জনজীবনে পড়বে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজিদ হায়দার চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রোনাল চাকমা, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের নেতা অরুণাভ আশরাফ, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ চৌধুরী এবং বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রাফিকুজ্জামান ফরিদ। এ সময় সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত। বক্তারা তাঁদের উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

























