ঢাকা ০২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাহিদ ইসলাম ভারত নিয়ে কী কড়া বার্তা দিলেন?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:৫৪:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১১

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

নাহিদ ইসলাম ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের ভূমিকা এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিপির প্রকাশিত পোস্টে নাহিদ ইসলাম বলেন, গত দুই বছর ধরে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, বিচারব্যবস্থা ও জনগণের গণতান্ত্রিক মতামতের প্রতি অবমাননা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে তিনি কীভাবে দেখতে চান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কোনো উদ্যোগ বাংলাদেশের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে তার এই অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে দেশের নিজস্ব স্বার্থ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এর আগে নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন, বাংলাদেশ কোনো দেশ, বিশেষ করে ভারত বা যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য মেনে নেবে না এবং জুলাই আন্দোলনের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও দেশের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা।

শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন নয়। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং তার রাজনৈতিক বক্তব্য ও বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা ও রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। নাহিদ ইসলামও আগে বলেছেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ প্রয়োজন। ফলে তার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে শুধু ভারতবিরোধী অবস্থান হিসেবে না দেখে শেখ হাসিনা ইস্যু, বিচারপ্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি বণ্টন, যোগাযোগ, জ্বালানি, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো অনেক বিষয় সরাসরি এই সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত। ফলে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে যে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে, সেটি হলো পারস্পরিক সম্মান ও বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যেও তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রভাব বা আধিপত্য গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের অন্য নেতারাও বক্তব্য দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ৮ আগস্ট বলেন, দিল্লিতে অবস্থান করে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করে এমন বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাওয়া পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। ফলে নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক সরকারি বক্তব্যের কিছু জায়গায় বিষয়গত মিলও দেখা যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে নাহিদ ইসলাম যে বার্তা দিয়েছেন, তার কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত, শেখ হাসিনা ইস্যুর সমাধান এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন ভিত্তি। তার বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক পর্যায়ে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পাশাপাশি বাণিজ্য, সীমান্ত, পানি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বাস্তব বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের মতামত ও দেশের জাতীয় স্বার্থকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে, সেটিও আগামী দিনের আলোচনায় বড় প্রশ্ন হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নাহিদ ইসলাম ভারত নিয়ে কী কড়া বার্তা দিলেন?

Update Time : ০১:৫৪:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

নাহিদ ইসলাম ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের ভূমিকা এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিপির প্রকাশিত পোস্টে নাহিদ ইসলাম বলেন, গত দুই বছর ধরে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, বিচারব্যবস্থা ও জনগণের গণতান্ত্রিক মতামতের প্রতি অবমাননা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে তিনি কীভাবে দেখতে চান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কোনো উদ্যোগ বাংলাদেশের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে তার এই অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে দেশের নিজস্ব স্বার্থ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এর আগে নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন, বাংলাদেশ কোনো দেশ, বিশেষ করে ভারত বা যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য মেনে নেবে না এবং জুলাই আন্দোলনের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও দেশের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুন  আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রাসঙ্গিকতা নেই: আসিফ মাহমুদের মন্তব্য

শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন নয়। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং তার রাজনৈতিক বক্তব্য ও বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা ও রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। নাহিদ ইসলামও আগে বলেছেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ প্রয়োজন। ফলে তার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে শুধু ভারতবিরোধী অবস্থান হিসেবে না দেখে শেখ হাসিনা ইস্যু, বিচারপ্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ভারতের কাছে হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইল বাংলাদেশ সরকার

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি বণ্টন, যোগাযোগ, জ্বালানি, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো অনেক বিষয় সরাসরি এই সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত। ফলে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে যে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে, সেটি হলো পারস্পরিক সম্মান ও বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যেও তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রভাব বা আধিপত্য গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের অন্য নেতারাও বক্তব্য দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ৮ আগস্ট বলেন, দিল্লিতে অবস্থান করে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করে এমন বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাওয়া পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। ফলে নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক সরকারি বক্তব্যের কিছু জায়গায় বিষয়গত মিলও দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন  আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে রংপুরে কফিন মিছিল, বিক্ষোভে ছাত্রশক্তি

সব মিলিয়ে নাহিদ ইসলাম যে বার্তা দিয়েছেন, তার কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত, শেখ হাসিনা ইস্যুর সমাধান এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন ভিত্তি। তার বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক পর্যায়ে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পাশাপাশি বাণিজ্য, সীমান্ত, পানি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বাস্তব বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের মতামত ও দেশের জাতীয় স্বার্থকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে, সেটিও আগামী দিনের আলোচনায় বড় প্রশ্ন হয়ে থাকবে।