ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মেট্রোরেলে ভাড়া ফাঁকি দিতে গেটের নিচ দিয়ে ঢুকলেন কয়েক নারী Logo রাতে মেট্রোরেলের সময় বাড়ছে, সেপ্টেম্বরে চলবে ১১টা পর্যন্ত Logo জীবন বদলে গেলেও প্রথম প্রেম কেন থেকে যায় হৃদয়ের কোণে! Logo প্রতিদিন রোদ পোহান কিন্তু জানেন কি শরীরের জন্য ঠিক কতটা রোদ প্রয়োজন Logo ওজন কমাতে কঠিন ডায়েট নয় প্রতিদিনের খাবারে আনুন এই ছয়টি বদল Logo তীব্র গরমে বাড়ছে উদ্বেগ ও মানসিক চাপ নিজেকে শান্ত রাখতে যা করবেন Logo আমেরিকায় পুলিশ গাড়ি থামালে ৪ কথা এড়িয়ে চলুন Logo টমেটো পরিষ্কারের কার্যকর উপায় জানুন Logo ১০ মাসের শিশুকে কোলে নিয়ে ঢাকার রাস্তায় মা আফরোজার কঠিন লড়াই Logo ‘এই অন্ধকার সরকারের তৈরি’: বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট নিয়ে নাহিদ ইসলামের ফেসবুক স্ট্যাটাস

আজ আন্তর্জাতিক যুব দিবস

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:২৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১৭

ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণদের সৃজনশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। | ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক যুব দিবস আজ। প্রতি বছর ১২ আগস্ট বিশ্বজুড়ে দিনটি পালিত হয় তরুণদের অধিকার, সম্ভাবনা ও অবদানকে সামনে রেখে। ১৯৯৮ সালে পর্তুগালের লিসবনে অনুষ্ঠিত যুববিষয়ক বিশ্ব সম্মেলনে ১২ আগস্টকে যুব দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব করা হয়। পরের বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দিনটিকে আন্তর্জাতিক যুব দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে তরুণদের সমস্যা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতনতা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে উঠেছে দিনটি। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, মানবাধিকার, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও সামাজিক উন্নয়নে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই দিবসটির অন্যতম মূল উদ্দেশ্য।

আন্তর্জাতিক যুব দিবসের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি উপলব্ধি করা যায় বিশ্বের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর দিকে তাকালে। তরুণরা শুধু একটি দেশের ভবিষ্যৎ নয়, বর্তমানেরও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তাদের মেধা, শ্রম, সৃজনশীলতা ও নতুন চিন্তাভাবনা অর্থনীতি থেকে শুরু করে সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনতে পারে। তবে সম্ভাবনাময় এই জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ। শিক্ষার সুযোগ, দক্ষতা অর্জন, মানসম্মত কর্মসংস্থান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করা না গেলে তারুণ্যের শক্তিকে পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব নয়।

সময়ের সঙ্গে তরুণদের জীবনযাত্রাতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর। স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন শিক্ষা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তাদের চিন্তা ও যোগাযোগের ধরন বদলে দিয়েছে। এই প্রযুক্তি যেমন জ্ঞান ও সুযোগের নতুন দরজা খুলেছে, তেমনি অতিরিক্ত নির্ভরতা, ভুল তথ্য, অনলাইন হয়রানি ও আসক্তির মতো ঝুঁকিও তৈরি করেছে। তাই তরুণদের শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে তুললেই হবে না, তাদের ডিজিটাল সচেতনতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের শিক্ষা দিতে হবে। খেলাধুলা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়ানোও জরুরি।

বাংলাদেশের ইতিহাসেও তরুণদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের বিভিন্ন আন্দোলন—দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময় তরুণ প্রজন্ম সামনে থেকে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সময়েও সেই শক্তিকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করা প্রয়োজন। উদ্যোক্তা হওয়া, গবেষণা করা, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, পরিবেশ রক্ষা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে তরুণদের অংশগ্রহণ দেশের অগ্রগতিকে আরও গতিশীল করতে পারে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈষম্য, বেকারত্ব ও মানসিক চাপের মতো সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের মতামত ও নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

তরুণদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো কর্মসংস্থান। শিক্ষাজীবন শেষ করার পর যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ না পাওয়া অনেক তরুণের হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ এবং নতুন দক্ষতা অর্জনের ব্যবস্থা বাড়ানো প্রয়োজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল ব্যবসা ও সবুজ অর্থনীতির মতো নতুন খাতে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা গেলে তরুণদের কর্মজীবনের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে মাদক, উগ্রবাদ, সহিংসতা ও অপরাধ থেকে তরুণদের দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তারুণ্য মানেই সম্ভাবনা, সাহস ও পরিবর্তনের শক্তি। তাই আন্তর্জাতিক যুব দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; এটি তরুণদের জন্য কী ধরনের ভবিষ্যৎ তৈরি করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন সামনে আনার দিন। তরুণদের কথা শোনা, তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দেওয়া এবং যোগ্যতা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সামাজিক সম্প্রীতি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তাই নিরাপদ পরিবেশ, মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করে তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলেই গড়ে উঠতে পারে আরও মানবিক, উদ্ভাবনী ও সমৃদ্ধ সমাজ। আন্তর্জাতিক যুব দিবসের মূল বার্তাও হোক—তরুণদের জন্য সুযোগ তৈরি করা এবং তাদের হাতেই আগামীর পৃথিবী গড়ার শক্তি তুলে দেওয়া।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেট্রোরেলে ভাড়া ফাঁকি দিতে গেটের নিচ দিয়ে ঢুকলেন কয়েক নারী

আজ আন্তর্জাতিক যুব দিবস

Update Time : ০৮:২৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক যুব দিবস আজ। প্রতি বছর ১২ আগস্ট বিশ্বজুড়ে দিনটি পালিত হয় তরুণদের অধিকার, সম্ভাবনা ও অবদানকে সামনে রেখে। ১৯৯৮ সালে পর্তুগালের লিসবনে অনুষ্ঠিত যুববিষয়ক বিশ্ব সম্মেলনে ১২ আগস্টকে যুব দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব করা হয়। পরের বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দিনটিকে আন্তর্জাতিক যুব দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে তরুণদের সমস্যা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতনতা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে উঠেছে দিনটি। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, মানবাধিকার, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও সামাজিক উন্নয়নে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই দিবসটির অন্যতম মূল উদ্দেশ্য।

আন্তর্জাতিক যুব দিবসের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি উপলব্ধি করা যায় বিশ্বের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর দিকে তাকালে। তরুণরা শুধু একটি দেশের ভবিষ্যৎ নয়, বর্তমানেরও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তাদের মেধা, শ্রম, সৃজনশীলতা ও নতুন চিন্তাভাবনা অর্থনীতি থেকে শুরু করে সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনতে পারে। তবে সম্ভাবনাময় এই জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ। শিক্ষার সুযোগ, দক্ষতা অর্জন, মানসম্মত কর্মসংস্থান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করা না গেলে তারুণ্যের শক্তিকে পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন  ওয়ালটন চাকরি ২০২৬: সিনিয়র এক্সিকিউটিভ পদে আবেদন অনলাইনে

সময়ের সঙ্গে তরুণদের জীবনযাত্রাতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর। স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন শিক্ষা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তাদের চিন্তা ও যোগাযোগের ধরন বদলে দিয়েছে। এই প্রযুক্তি যেমন জ্ঞান ও সুযোগের নতুন দরজা খুলেছে, তেমনি অতিরিক্ত নির্ভরতা, ভুল তথ্য, অনলাইন হয়রানি ও আসক্তির মতো ঝুঁকিও তৈরি করেছে। তাই তরুণদের শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে তুললেই হবে না, তাদের ডিজিটাল সচেতনতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের শিক্ষা দিতে হবে। খেলাধুলা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়ানোও জরুরি।

বাংলাদেশের ইতিহাসেও তরুণদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের বিভিন্ন আন্দোলন—দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময় তরুণ প্রজন্ম সামনে থেকে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সময়েও সেই শক্তিকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করা প্রয়োজন। উদ্যোক্তা হওয়া, গবেষণা করা, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, পরিবেশ রক্ষা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে তরুণদের অংশগ্রহণ দেশের অগ্রগতিকে আরও গতিশীল করতে পারে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈষম্য, বেকারত্ব ও মানসিক চাপের মতো সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের মতামত ও নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

আরও পড়ুন  খেলাধুলা তরুণ-কিশোরদের মাদক থেকে দূরে রাখে : মীর হেলাল

তরুণদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো কর্মসংস্থান। শিক্ষাজীবন শেষ করার পর যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ না পাওয়া অনেক তরুণের হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ এবং নতুন দক্ষতা অর্জনের ব্যবস্থা বাড়ানো প্রয়োজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল ব্যবসা ও সবুজ অর্থনীতির মতো নতুন খাতে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা গেলে তরুণদের কর্মজীবনের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে মাদক, উগ্রবাদ, সহিংসতা ও অপরাধ থেকে তরুণদের দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

আরও পড়ুন  ওয়ালটন চাকরি: এক্সিকিউটিভ পদে নিয়োগ, থাকছে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও বিমা

তারুণ্য মানেই সম্ভাবনা, সাহস ও পরিবর্তনের শক্তি। তাই আন্তর্জাতিক যুব দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; এটি তরুণদের জন্য কী ধরনের ভবিষ্যৎ তৈরি করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন সামনে আনার দিন। তরুণদের কথা শোনা, তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দেওয়া এবং যোগ্যতা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সামাজিক সম্প্রীতি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তাই নিরাপদ পরিবেশ, মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করে তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলেই গড়ে উঠতে পারে আরও মানবিক, উদ্ভাবনী ও সমৃদ্ধ সমাজ। আন্তর্জাতিক যুব দিবসের মূল বার্তাও হোক—তরুণদের জন্য সুযোগ তৈরি করা এবং তাদের হাতেই আগামীর পৃথিবী গড়ার শক্তি তুলে দেওয়া।