৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডার নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার দাবিতে পিএসসির সামনে মানববন্ধন করেছেন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা। ফাইল পাঠাতে বিলম্বে জ্যেষ্ঠতা হারানোর শঙ্কা।৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডার নিয়োগ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে থাকায় এবং ফাইল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে না পাঠানোর প্রতিবাদে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সামনে মানববন্ধন করেছেন প্রায় তিন হাজার চাকরিপ্রার্থী।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিএসসি ভবনের সামনে আয়োজিত এই মানববন্ধনে অংশ নেন ৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা। তাঁদের দাবি, ফল প্রকাশের দুই মাস পার হলেও এখনো তাঁদের দাপ্তরিক ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়া চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা জানান, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডারের ফলাফল প্রকাশিত হয়। এরপর সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ১৫ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যেই ফাইল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা। কিন্তু এবার দুই মাস পার হয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
প্রার্থীদের অভিযোগ, পিএসসির ধীরগতির কারণে তাঁদের চাকরিতে যোগদান বিলম্বিত হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে জ্যেষ্ঠতা হারানোর আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। কারণ, ৪৫তম বিসিএসের স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময়সূচি ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি ৪৫তম বিসিএসের প্রার্থীরা আগে চাকরিতে যোগদান করেন, তাহলে ৪৪তম বিসিএসের নন-ক্যাডার সুপারিশপ্রাপ্তরা প্রশাসনিকভাবে পিছিয়ে পড়বেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একাধিক প্রার্থী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিসিএস পরীক্ষার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন তাঁরা। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার পরও এখন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অযথা বিলম্ব তাঁদের হতাশ করছে। দ্রুত ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে পুলিশ ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ করার দাবি জানান তাঁরা।
প্রার্থীরা আরও বলেন, দেশের হাজারো তরুণ-তরুণী সরকারি চাকরির আশায় বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেন। কিন্তু ফল প্রকাশের পরও যদি নিয়োগ কার্যক্রম আটকে থাকে, তাহলে তা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, কারিগরি পদসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। এজন্য কিছুটা সময় লাগছে। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফাইলগুলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
চাকরিপ্রার্থীরা মনে করছেন, প্রশাসনিক জটিলতা ও ধীরগতির কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া বারবার বিলম্বিত হচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি সময়মতো সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়, তাহলে চাকরিতে যোগদান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা দেশের দক্ষ জনশক্তির মধ্যে হতাশা তৈরি করে। এতে অনেক যোগ্য প্রার্থী বিদেশমুখী হয়ে পড়েন বা বেসরকারি খাতে চলে যেতে বাধ্য হন। তাই সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার প্রয়োজন রয়েছে।
৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডার নিয়োগে মোট ২ হাজার ৯৬৮ জন প্রার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে ইতিমধ্যে পরিবার ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন না হলে ভবিষ্যতে আরও জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।মানববন্ধনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা মে মাসের মধ্যেই পুলিশ ভেরিফিকেশন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চূড়ান্ত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁরা বলেন, প্রয়োজনে আরও বড় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতি বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে বিসিএসের মতো গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে দীর্ঘ বিলম্ব চাকরিপ্রার্থীদের হতাশ করে তুলছে।৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডার নিয়োগ নিয়ে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি এখন চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি এখন আরও জোরালো হয়ে উঠছে।
























