ঢাকা ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেবা খাতে বড় উত্থান, এক বছরে বাড়ল ৩ লাখ কোটি টাকা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৩৪:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০২

বিদায়ী অর্থবছরে বাংলাদেশের সেবা খাতের আকার বেড়েছে ১১.৫ শতাংশ।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সেবা খাতের পরিধি আরও বড় হয়েছে। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খাতটির আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ২৮ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে সেবা খাতের আকার বেড়েছে প্রায় ৩ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা বা ১১ দশমিক ৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। সেবা খাতের মধ্যে রয়েছে পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য, পরিবহন, আর্থিক সেবা, আবাসন, রিয়েল এস্টেট ও তথ্যপ্রযুক্তি। এর পাশাপাশি হোটেল-রেস্তোরাঁ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও বিভিন্ন পেশাগত সেবাও এ খাতের অন্তর্ভুক্ত।

গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে সেবা খাত। ২০২০-২১ অর্থবছরে এর আকার ছিল ১৮ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। এরপর ২০২১-২২ অর্থবছরে ২০ লাখ ২৭ হাজার কোটি, ২০২২-২৩-এ ২২ লাখ ৯৫ হাজার কোটি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে ২৫ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়।

পরের অর্থবছরেও প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেবা খাতের আকার দাঁড়ায় ২৮ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। এরপর এক বছরের ব্যবধানে তা ৩২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। ফলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সেবা খাতের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মানুষের আয়, অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের পরিবর্তনের সঙ্গে সেবা খাতের বিস্তারের সম্পর্ক রয়েছে। অর্থায়ন, পরিবহন, যোগাযোগসহ বিভিন্ন সেবার ওপর মানুষের ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নির্ভরতা বাড়ায় এ খাতের পরিধিও বাড়ছে। কৃষি ও শিল্পের পাশাপাশি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে সেবা খাত।

তবে শুধু আকার বাড়লেই সেবা খাত আরও শক্তিশালী হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি দূর করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। ডিজিটাল সেবা, বিপিও, ফিনটেক, লজিস্টিকস, পর্যটন ও স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতে সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির আকার প্রথমবারের মতো ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের সম্প্রসারণের মধ্যেই সামনে এসেছে এ পূর্বাভাস।

জনপ্রিয় সংবাদ

সেবা খাতে বড় উত্থান, এক বছরে বাড়ল ৩ লাখ কোটি টাকা

Update Time : ১২:৩৪:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সেবা খাতের পরিধি আরও বড় হয়েছে। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খাতটির আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ২৮ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে সেবা খাতের আকার বেড়েছে প্রায় ৩ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা বা ১১ দশমিক ৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। সেবা খাতের মধ্যে রয়েছে পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য, পরিবহন, আর্থিক সেবা, আবাসন, রিয়েল এস্টেট ও তথ্যপ্রযুক্তি। এর পাশাপাশি হোটেল-রেস্তোরাঁ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও বিভিন্ন পেশাগত সেবাও এ খাতের অন্তর্ভুক্ত।

আরও পড়ুন  জ্বালানি নিরাপত্তা: শক্তিশালী পরিকল্পনায় শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুতের আশ্বাস

গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে সেবা খাত। ২০২০-২১ অর্থবছরে এর আকার ছিল ১৮ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। এরপর ২০২১-২২ অর্থবছরে ২০ লাখ ২৭ হাজার কোটি, ২০২২-২৩-এ ২২ লাখ ৯৫ হাজার কোটি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে ২৫ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়।

পরের অর্থবছরেও প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেবা খাতের আকার দাঁড়ায় ২৮ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। এরপর এক বছরের ব্যবধানে তা ৩২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। ফলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সেবা খাতের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।

আরও পড়ুন  আইএমএফের পূর্বাভাস, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩.৫%

অর্থনীতিবিদদের মতে, মানুষের আয়, অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের পরিবর্তনের সঙ্গে সেবা খাতের বিস্তারের সম্পর্ক রয়েছে। অর্থায়ন, পরিবহন, যোগাযোগসহ বিভিন্ন সেবার ওপর মানুষের ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নির্ভরতা বাড়ায় এ খাতের পরিধিও বাড়ছে। কৃষি ও শিল্পের পাশাপাশি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে সেবা খাত।

তবে শুধু আকার বাড়লেই সেবা খাত আরও শক্তিশালী হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি দূর করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। ডিজিটাল সেবা, বিপিও, ফিনটেক, লজিস্টিকস, পর্যটন ও স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতে সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন  অক্টোবর–ডিসেম্বরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে ৩ শতাংশে, বৈশ্বিক সংকটে বাড়ছে দুশ্চিন্তা

এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির আকার প্রথমবারের মতো ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের সম্প্রসারণের মধ্যেই সামনে এসেছে এ পূর্বাভাস।