ঢাকা ০১:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিক শিক্ষায় বড় পরিবর্তন, ২–৩ বছরেই নতুন পরিকল্পনা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৪৩:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৭

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার দিকে এগোচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা। ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দৃশ্যমান বড় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য আরও আধুনিক, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করাই হবে এই পরিবর্তনের অন্যতম লক্ষ্য।

রোববার (১৬ আগস্ট) ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পরিকল্পনা, পাইলটিং ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমে অগ্রগতি হয়েছে।

নতুন পরিকল্পনায় কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক নীতিমালা এবং মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, খেলাধুলা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও জানানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে ভবিষ্যৎ কারিকুলামে ইংরেজির লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি স্পিকিং টেস্ট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে শুধু লিখিত পরীক্ষার ফল নয়, শিক্ষার্থীদের বাস্তব যোগাযোগ দক্ষতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রতিটি শিক্ষার্থীর তথ্য এক জায়গায় সংরক্ষণের জন্য একটি সমন্বিত আইটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতেও থাকছে বিশেষ উদ্যোগ। প্রতিটি প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য পুষ্টিকর মিড-ডে মিল, বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

শুধু নতুন ভবন নির্মাণ নয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে রূপান্তরের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্কুলের প্রয়োজনীয় ওয়াশ ব্লকসহ বিভিন্ন মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিদ্যালয়কে শুধু শিক্ষক-শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠান হিসেবে না দেখে স্থানীয় মানুষেরও প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চান সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণকে বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় পাঠদানের পদ্ধতি, প্রযুক্তির ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে পরিকল্পনাগুলো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তার ওপর।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাথমিক শিক্ষায় বড় পরিবর্তন, ২–৩ বছরেই নতুন পরিকল্পনা

Update Time : ১০:৪৩:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দৃশ্যমান বড় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য আরও আধুনিক, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করাই হবে এই পরিবর্তনের অন্যতম লক্ষ্য।

রোববার (১৬ আগস্ট) ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পরিকল্পনা, পাইলটিং ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমে অগ্রগতি হয়েছে।

নতুন পরিকল্পনায় কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক নীতিমালা এবং মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, খেলাধুলা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও জানানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে ভবিষ্যৎ কারিকুলামে ইংরেজির লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি স্পিকিং টেস্ট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে শুধু লিখিত পরীক্ষার ফল নয়, শিক্ষার্থীদের বাস্তব যোগাযোগ দক্ষতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রতিটি শিক্ষার্থীর তথ্য এক জায়গায় সংরক্ষণের জন্য একটি সমন্বিত আইটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতেও থাকছে বিশেষ উদ্যোগ। প্রতিটি প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য পুষ্টিকর মিড-ডে মিল, বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

শুধু নতুন ভবন নির্মাণ নয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে রূপান্তরের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্কুলের প্রয়োজনীয় ওয়াশ ব্লকসহ বিভিন্ন মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিদ্যালয়কে শুধু শিক্ষক-শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠান হিসেবে না দেখে স্থানীয় মানুষেরও প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চান সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণকে বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় পাঠদানের পদ্ধতি, প্রযুক্তির ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে পরিকল্পনাগুলো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তার ওপর।