হবিগঞ্জে অসহনীয় লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতিকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সদস্যসচিব মাহদী হাসানসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক অপর দুজন হলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মির্জা সুমন ও রাকিব।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে কোর্ট মসজিদ এলাকায় অবস্থানকালে প্রথমে মির্জা সুমন ও রাকিবকে আটক করে পুলিশ। এরপর প্রায় ৩০ মিনিট পর, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে একই এলাকা থেকে সংগঠনটির জেলা সদস্যসচিব মাহদী হাসানকে আটক করা হয়।
আটকের সময় কোর্ট মসজিদ এলাকায় আন্দোলনকারীদের বড় কোনো জমায়েত দেখা যায়নি বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে ‘সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মসূচির জন্য প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়নি। এ কারণে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে কয়েকজন সেখানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ‘ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল আয়োজনের চেষ্টা করা হচ্ছিল। এতে সার্বিক বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকায় কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিক্ষোভ কর্মসূচির মূল দাবিগুলোর মধ্যে ছিল বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং বন্ধ করা, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ, গ্যাস সংকটের সমাধান এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণে আনা। এসব বিষয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য থেকে জানা যায়।
ঘটনাটি নিয়ে হবিগঞ্জে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে আটক তিনজনের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে পুলিশের পরবর্তী বক্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে।





























