ঢাকা ০৬:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সার সংকট নিয়ে কৃষিমন্ত্রীর বড় দাবি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:১৩:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২০

দেশে সার সংকট নেই বলে দাবি করেছেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ। | ছবি: সংগৃহীত

দেশে সার সংকট নেই, বরং প্রয়োজনের তুলনায় সার উদ্বৃত্ত রয়েছে বলে দাবি করেছেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ। তার অভিযোগ, দেশে সারের ঘাটতি রয়েছে—এমন আলোচনা পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে সার নিয়ে ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে সারের কোনো ঘাটতি নেই। বরং উদ্বৃত্ত সার রয়েছে। ফলে সার সংকট নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, সেটিকে তিনি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। যারা এ ধরনের ষড়যন্ত্রে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। কৃষকদের মধ্যে যাতে সার নিয়ে অযথা উদ্বেগ তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন মন্ত্রী।

কৃষিপণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন আমিন উর রশিদ। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত দেশে কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে প্রায় তিন লাখ টন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। এতে উৎপাদনের মৌসুমে কৃষকের পণ্য সংরক্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে বাজারে সরবরাহের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

কাঁচা মরিচের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ কার্যকর হয়েছে বলেও দাবি করেন কৃষিমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে বাজারে কাঁচা মরিচের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী বছর থেকে যেন কাঁচা মরিচ আমদানি করতে না হয়, সেই লক্ষ্যেও কাজ চলছে। দেশে উৎপাদন বাড়িয়ে স্থানীয় চাহিদা পূরণের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

টমেটো ও আদার ক্ষেত্রেও সরকার কিছু উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী। এসব কৃষিপণ্যের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার। কৃষকদের উৎপাদন ধরে রাখা এবং ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এদিকে কৃষকদের জন্য নতুন কার্ড দেওয়ার কর্মসূচির কথাও জানিয়েছেন আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতি মাসে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়া হবে। সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি কৃষককে সরকারি সহায়তা ও কৃষি-সংশ্লিষ্ট সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সার সরবরাহ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও কৃষক কার্ড—এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে কৃষি খাতের ব্যবস্থাপনায় আরও গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সার সংকট নিয়ে কৃষিমন্ত্রীর বড় দাবি

Update Time : ০৪:১৩:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

দেশে সার সংকট নেই, বরং প্রয়োজনের তুলনায় সার উদ্বৃত্ত রয়েছে বলে দাবি করেছেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ। তার অভিযোগ, দেশে সারের ঘাটতি রয়েছে—এমন আলোচনা পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে সার নিয়ে ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে সারের কোনো ঘাটতি নেই। বরং উদ্বৃত্ত সার রয়েছে। ফলে সার সংকট নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, সেটিকে তিনি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। যারা এ ধরনের ষড়যন্ত্রে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। কৃষকদের মধ্যে যাতে সার নিয়ে অযথা উদ্বেগ তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন মন্ত্রী।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ যেসব দেশের জন্য ভিসা স্থগিত করল

কৃষিপণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন আমিন উর রশিদ। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত দেশে কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে প্রায় তিন লাখ টন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। এতে উৎপাদনের মৌসুমে কৃষকের পণ্য সংরক্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে বাজারে সরবরাহের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  পেটে ভাত পড়তে কাজ করতে হবে : তরুণদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল

কাঁচা মরিচের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ কার্যকর হয়েছে বলেও দাবি করেন কৃষিমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে বাজারে কাঁচা মরিচের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী বছর থেকে যেন কাঁচা মরিচ আমদানি করতে না হয়, সেই লক্ষ্যেও কাজ চলছে। দেশে উৎপাদন বাড়িয়ে স্থানীয় চাহিদা পূরণের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

টমেটো ও আদার ক্ষেত্রেও সরকার কিছু উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী। এসব কৃষিপণ্যের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার। কৃষকদের উৎপাদন ধরে রাখা এবং ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আরও পড়ুন  আগামীকাল ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যে এলাকায়

এদিকে কৃষকদের জন্য নতুন কার্ড দেওয়ার কর্মসূচির কথাও জানিয়েছেন আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতি মাসে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়া হবে। সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি কৃষককে সরকারি সহায়তা ও কৃষি-সংশ্লিষ্ট সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সার সরবরাহ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও কৃষক কার্ড—এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে কৃষি খাতের ব্যবস্থাপনায় আরও গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।