বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় রদ্রিকে দলে ভিড়িয়ে বড় চমক দেখাল বার্সেলোনা। ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে দীর্ঘ সফল অধ্যায়ের ইতি টেনে কাতালান ক্লাবটিতে যোগ দিয়েছেন স্পেনের তারকা মিডফিল্ডার। ৩০ বছর বয়সী এই ফুটবলারের জন্য বার্সেলোনা দিচ্ছে ৬ কোটি ইউরো, যা বিভিন্ন শর্ত পূরণ হলে ৭ কোটি ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।
বার্সেলোনার সঙ্গে রদ্রির চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত। তাকে দলে নিতে আগ্রহী ছিল রিয়াল মাদ্রিদও। তবে শেষ পর্যন্ত স্পেনের রাজধানীর ক্লাবটিকে পেছনে ফেলে রদ্রিকে নিজেদের দলে আনতে সক্ষম হয়েছে বার্সেলোনা।
রদ্রির জন্য এবারের দলবদরটি এসেছে দারুণ এক সময়ের পর। ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনকে শিরোপা জেতানোর পথে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়ে জেতেন গোল্ডেন বল।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে স্পেন। পুরো টুর্নামেন্টে রদ্রির পাসিং, বল নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণ থেকে আক্রমণে দলকে তুলে নেওয়ার দক্ষতা স্পেনের সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখে। মাঠে তার নেতৃত্বও দলের জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
বার্সেলোনার মাঝমাঠে রদ্রির আগমন তাই শুধু তারকা একজন খেলোয়াড় যোগ করা নয়, বরং দলের ভারসাম্য বাড়ানোরও বড় পদক্ষেপ। বিশেষ করে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের চোটের পর মাঝমাঠে অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের প্রয়োজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।
কোচ হান্সি ফ্লিকের পরিকল্পনাতেও রদ্রির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বল দখলে রেখে খেলা, দ্রুত চাপ তৈরি করা এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ—ফ্লিকের কৌশলের সঙ্গে রদ্রির খেলার ধরন বেশ ভালোভাবেই মানিয়ে যায়। ফলে নতুন মৌসুমে বার্সার মাঝমাঠে আরও নিয়ন্ত্রণ দেখা যেতে পারে।
ম্যানচেস্টার সিটিতে রদ্রির অধ্যায়ও ছিল সাফল্যে ভরা। ২০১৯ সালে ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত হন। প্রিমিয়ার লিগের একাধিক শিরোপার পাশাপাশি ২০২৩ সালে সিটির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের নেপথ্যেও ছিল তার বড় অবদান।
ক্লাবের পাশাপাশি স্পেনের জার্সিতেও নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন রদ্রি। ইউরো ও বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ২০২৪ সালে ব্যালন ডি’অরও জেতেন তিনি। বিশ্বসেরা মিডফিল্ডারদের তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন এই পুরস্কারের মাধ্যমে।
এবার বার্সেলোনায় নতুন চ্যালেঞ্জ রদ্রির সামনে। ঘরোয়া সাফল্যের পাশাপাশি ইউরোপের মঞ্চে বার্সেলোনাকে আরও শক্তিশালী করাই হবে তার অন্যতম লক্ষ্য। বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে দলে এনে তাই নিজেদের নতুন প্রকল্পের প্রতি বড় বার্তাই দিল কাতালান ক্লাবটি।



























