ঢাকা ০৮:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পানি না থাকলে তায়াম্মুম করার সঠিক নিয়ম

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:২৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৩

পানি না থাকলে শরিয়তসম্মতভাবে তায়াম্মুমের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা যায়। ছবি: সংগৃহীত

ইবাদতের আগে পবিত্রতা অর্জন করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। তবে পানি না পাওয়া গেলে, পানি ব্যবহারে গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে বা পানি ব্যবহারের বাস্তব সুযোগ না থাকলে ইসলাম বিকল্প ব্যবস্থা রেখেছে। এ অবস্থায় পবিত্র মাটি বা মাটিজাতীয় বস্তু ব্যবহার করে তায়াম্মুম করা যায়। তায়াম্মুমের মাধ্যমে ওজু বা ফরজ গোসলের পরিবর্তে শরিয়তসম্মত পবিত্রতা অর্জন করে নামাজসহ নির্ধারিত ইবাদত করা সম্ভব।

‘তায়াম্মুম’ আরবি শব্দ। এর অর্থ কোনো কিছুর দিকে ইচ্ছা বা সংকল্প করা। ইসলামী পরিভাষায় পবিত্রতা অর্জনের নিয়তে পবিত্র মাটি বা মাটির উপাদানযুক্ত বস্তু দিয়ে মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করাকে তায়াম্মুম বলা হয়। কোরআনে পানি না পাওয়ার ক্ষেত্রে তায়াম্মুমের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং এটি মুসলমানদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সহজীকরণ।

সুরা মায়েদার ৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, অসুস্থতা, সফর বা অন্য কোনো কারণে পানি না পাওয়া গেলে পবিত্র মাটি দিয়ে মুখ ও হাত মাসেহ করার নির্দেশ রয়েছে। একই আয়াতে আল্লাহ তায়াম্মুমের বিধান উল্লেখ করে জানিয়েছেন, তিনি মানুষের ওপর কষ্ট চাপিয়ে দিতে চান না; বরং তাদের পবিত্র করতে চান। এ আয়াত থেকেই তায়াম্মুমের শরিয়তসম্মত ভিত্তি স্পষ্ট হয়।

শুধু পানি না থাকলেই যে সব অবস্থায় তায়াম্মুম করতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। পানি খুঁজে পাওয়া না গেলে বা প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি না থাকলে তায়াম্মুমের সুযোগ রয়েছে। আবার কোনো অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে পানি ব্যবহার করলে রোগ বেড়ে যাওয়ার বা শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও তায়াম্মুম করা বৈধ। তবে এ ধরনের বিষয়ে বাস্তব ক্ষতির আশঙ্কা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া প্রচণ্ড ঠান্ডায় পানি ব্যবহারে গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে এবং পানি গরম করার কোনো ব্যবস্থা না থাকলেও তায়াম্মুমের অনুমতি রয়েছে। একইভাবে পানি সংগ্রহ করতে গেলে নিজের জীবন বা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা থাকলে কিংবা সংরক্ষিত পানি পান করার মতো জরুরি প্রয়োজনে প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ তায়াম্মুম মূলত বাস্তব ও গ্রহণযোগ্য ওজরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

তায়াম্মুম করার আগে পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত করতে হয়। এরপর পবিত্র মাটি বা শরিয়তসম্মত মাটিজাতীয় উপাদানে হাত লাগিয়ে মুখমণ্ডল মাসেহ করতে হয়। এরপর আবার হাত লাগিয়ে দুই হাত মাসেহ করা হয়। তায়াম্মুমের বিস্তারিত পদ্ধতিতে মাজহাবভেদে কিছু পার্থক্য রয়েছে, তাই নিজের অনুসৃত মাজহাবের নির্ভরযোগ্য আলেমের কাছ থেকে পদ্ধতিটি জেনে নেওয়া উত্তম।

তায়াম্মুমের সুযোগ থাকলেও পানি পাওয়া গেলে এবং তা ব্যবহার করার মতো কোনো শরিয়তসম্মত বাধা না থাকলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ওজু বা গোসল করতে হবে। পানি পাওয়ার পর তায়াম্মুমের প্রয়োজন থাকে না। তাই তায়াম্মুমকে পানির স্থায়ী বিকল্প হিসেবে নয়, বরং নির্দিষ্ট ওজরের সময় শরিয়ত অনুমোদিত বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে দেখা উচিত।

ইসলামে মানুষের সক্ষমতা ও বাস্তব পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই পানি ব্যবহারে অসুবিধা বা ক্ষতির আশঙ্কার মতো পরিস্থিতিতে ইবাদত ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে তায়াম্মামের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে তায়াম্মুমের শর্ত, উপকরণ ও পদ্ধতি নিয়ে মাজহাবভেদে কিছু মতপার্থক্য থাকায় ব্যক্তিগত পরিস্থিতিতে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

জনপ্রিয় সংবাদ

পানি না থাকলে তায়াম্মুম করার সঠিক নিয়ম

Update Time : ০৫:২৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

ইবাদতের আগে পবিত্রতা অর্জন করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। তবে পানি না পাওয়া গেলে, পানি ব্যবহারে গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে বা পানি ব্যবহারের বাস্তব সুযোগ না থাকলে ইসলাম বিকল্প ব্যবস্থা রেখেছে। এ অবস্থায় পবিত্র মাটি বা মাটিজাতীয় বস্তু ব্যবহার করে তায়াম্মুম করা যায়। তায়াম্মুমের মাধ্যমে ওজু বা ফরজ গোসলের পরিবর্তে শরিয়তসম্মত পবিত্রতা অর্জন করে নামাজসহ নির্ধারিত ইবাদত করা সম্ভব।

‘তায়াম্মুম’ আরবি শব্দ। এর অর্থ কোনো কিছুর দিকে ইচ্ছা বা সংকল্প করা। ইসলামী পরিভাষায় পবিত্রতা অর্জনের নিয়তে পবিত্র মাটি বা মাটির উপাদানযুক্ত বস্তু দিয়ে মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করাকে তায়াম্মুম বলা হয়। কোরআনে পানি না পাওয়ার ক্ষেত্রে তায়াম্মুমের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং এটি মুসলমানদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সহজীকরণ।

আরও পড়ুন  ইসলামে উৎসাহিত খেলাধুলা: সুস্থতা, দক্ষতা ও আত্মরক্ষার শিক্ষা

সুরা মায়েদার ৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, অসুস্থতা, সফর বা অন্য কোনো কারণে পানি না পাওয়া গেলে পবিত্র মাটি দিয়ে মুখ ও হাত মাসেহ করার নির্দেশ রয়েছে। একই আয়াতে আল্লাহ তায়াম্মুমের বিধান উল্লেখ করে জানিয়েছেন, তিনি মানুষের ওপর কষ্ট চাপিয়ে দিতে চান না; বরং তাদের পবিত্র করতে চান। এ আয়াত থেকেই তায়াম্মুমের শরিয়তসম্মত ভিত্তি স্পষ্ট হয়।

শুধু পানি না থাকলেই যে সব অবস্থায় তায়াম্মুম করতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। পানি খুঁজে পাওয়া না গেলে বা প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি না থাকলে তায়াম্মুমের সুযোগ রয়েছে। আবার কোনো অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে পানি ব্যবহার করলে রোগ বেড়ে যাওয়ার বা শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও তায়াম্মুম করা বৈধ। তবে এ ধরনের বিষয়ে বাস্তব ক্ষতির আশঙ্কা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন  স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান নিয়ে কোরআন-হাদিস কী বলে?

এ ছাড়া প্রচণ্ড ঠান্ডায় পানি ব্যবহারে গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে এবং পানি গরম করার কোনো ব্যবস্থা না থাকলেও তায়াম্মুমের অনুমতি রয়েছে। একইভাবে পানি সংগ্রহ করতে গেলে নিজের জীবন বা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা থাকলে কিংবা সংরক্ষিত পানি পান করার মতো জরুরি প্রয়োজনে প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ তায়াম্মুম মূলত বাস্তব ও গ্রহণযোগ্য ওজরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

তায়াম্মুম করার আগে পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত করতে হয়। এরপর পবিত্র মাটি বা শরিয়তসম্মত মাটিজাতীয় উপাদানে হাত লাগিয়ে মুখমণ্ডল মাসেহ করতে হয়। এরপর আবার হাত লাগিয়ে দুই হাত মাসেহ করা হয়। তায়াম্মুমের বিস্তারিত পদ্ধতিতে মাজহাবভেদে কিছু পার্থক্য রয়েছে, তাই নিজের অনুসৃত মাজহাবের নির্ভরযোগ্য আলেমের কাছ থেকে পদ্ধতিটি জেনে নেওয়া উত্তম।

আরও পড়ুন  নবীদের জীবন থেকে শেখার ৫টি শিক্ষা, জানুন কোরআনের আলোকে

তায়াম্মুমের সুযোগ থাকলেও পানি পাওয়া গেলে এবং তা ব্যবহার করার মতো কোনো শরিয়তসম্মত বাধা না থাকলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ওজু বা গোসল করতে হবে। পানি পাওয়ার পর তায়াম্মুমের প্রয়োজন থাকে না। তাই তায়াম্মুমকে পানির স্থায়ী বিকল্প হিসেবে নয়, বরং নির্দিষ্ট ওজরের সময় শরিয়ত অনুমোদিত বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে দেখা উচিত।

ইসলামে মানুষের সক্ষমতা ও বাস্তব পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই পানি ব্যবহারে অসুবিধা বা ক্ষতির আশঙ্কার মতো পরিস্থিতিতে ইবাদত ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে তায়াম্মামের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে তায়াম্মুমের শর্ত, উপকরণ ও পদ্ধতি নিয়ে মাজহাবভেদে কিছু মতপার্থক্য থাকায় ব্যক্তিগত পরিস্থিতিতে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।