ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo প্রধানমন্ত্রীকে ট্রাম্পের চিঠি: ৫টি অসাধারণ বার্তায় উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশা Logo ইমরান খান নিয়ে হাইকোর্টের বড় নির্দেশ, মিলবে পরিবার-সাক্ষাৎ Logo টেকনো ক্যামন স্লিম ৫জি দাম: ৫৯৯৯৯ টাকায় ৫টি অসাধারণ ফিচার যা মন জয় করবে Logo চন্দনাইশে জমির নামজারি নিয়ে এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ Logo কুড়িগ্রামে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য আয়োজন Logo বলিউডে দ্যুতি ছড়াতে আসছেন এই দক্ষিণী সুন্দরী Logo বিয়ের পাঁচ মাসের মধ্যেই বিচ্ছেদের ঘোষণা বাদশাহ-রিখির Logo শিল্প কি পাপ? সাদিয়া জাহান প্রভার স্পষ্ট বক্তব্য Logo কুলাউড়ায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশাল র‍্যালি Logo মেসিকে বিদায় জানাতে কী পরিকল্পনা আর্জেন্টিনার?

সাদা নাকি বাদামি ডিম কোনটি পুষ্টিগুণে এগিয়ে?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:০৬:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১৬

ডিমের পুষ্টিগুণে খোসার রঙের চেয়ে মুরগির খাবার ও পালনের পরিবেশ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ছবি: সংগৃহীত

বাদামি ডিম দেখলেই অনেকের মনে হয়, এটি বুঝি সাদা ডিমের চেয়ে বেশি প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর। আবার কারও ধারণা, সাদা ডিম বেশি পরিষ্কার কিংবা স্বাদেও ভালো। বাজারে দুই ধরনের ডিমই সহজে পাওয়া যায় বলে কেনার সময় খোসার রং অনেকের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। কিন্তু সত্যিই কি বাদামি ডিম বেশি স্বাস্থ্যকর? নাকি এটি শুধুই প্রচলিত একটি ধারণা?

ডিমের খোসার রং মূলত নির্ভর করে মুরগির জাতের ওপর। বাদামি খোসার ডিমে ‘প্রোটোপর্ফিরিন IX’ নামের একটি রঞ্জক থাকে, যা খোসাকে বাদামি রং দেয়। একই জাতের মুরগির ক্ষেত্রেও বয়স, জিনগত পার্থক্য ও অন্যান্য পরিবেশগত কারণে রঙের হালকা-গাঢ় পার্থক্য দেখা যেতে পারে। মুরগির খাবার, মানসিক চাপ ও পরিবেশও কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি কিছু জাত নীল বা নীলচে-সবুজ খোসার ডিমও দেয়। অর্থাৎ খোসার রং দেখে ডিমের পুষ্টিমান বিচার করা ঠিক নয়।

পুষ্টির দিক থেকে সাধারণ বাদামি ও সাদা ডিমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই। একটি বড় ডিমে সাধারণত প্রায় ৭০ ক্যালরি, ৬ গ্রামের বেশি উচ্চমানের প্রোটিন এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ থাকে। এতে ভিটামিন এ, বি১২, ফোলেট, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক ও কোলিনের মতো পুষ্টি উপাদানও পাওয়া যায়। ডিমের পুষ্টিমান বাড়াতে খোসার রঙের চেয়ে মুরগি কী খাবার খেয়েছে এবং কী পরিবেশে বড় হয়েছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে বাদামি ডিম কেন অনেক সময় বেশি দামে বিক্রি হয়? এর পেছনে খোসার রংকে দায়ী করা ঠিক নয়। অনেক বাদামি ডিম দেওয়া মুরগির জাত তুলনামূলক বড় হওয়ায় তাদের খাবারের প্রয়োজনও বেশি হতে পারে। উৎপাদন খরচের পার্থক্য এবং বাজারে সরবরাহের পরিমাণও দামের ওপর প্রভাব ফেলে। আবার অনেক সময় ফ্রি-রেঞ্জ, অর্গানিক বা বিশেষ ধরনের ডিম বাদামি হওয়ায় ক্রেতারা রংকেই স্বাস্থ্যকর হওয়ার প্রমাণ মনে করেন। কিন্তু শুধু বাদামি রং মানেই অর্গানিক বা বেশি পুষ্টিকর—এমনটা নয়।

স্বাদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বাদামি ও সাদা ডিমের খোসার রং নিজে থেকে ডিমের স্বাদ নির্ধারণ করে না। ডিম কতটা তাজা, মুরগির খাবার কী ছিল, কী পরিবেশে পালন করা হয়েছে এবং কীভাবে রান্না করা হচ্ছে—এসব বিষয় স্বাদে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বাড়ির মুরগির ডিম অনেকের কাছে বেশি সুস্বাদু মনে হওয়ার একটি কারণ হতে পারে সেটি তুলনামূলক তাজা থাকা। তাই স্বাদের পার্থক্য থাকলেও সেটিকে সরাসরি খোসার রঙের সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক নয়।

ডিম কেনার সময় তাই শুধু বাদামি ডিম নাকি সাদা ডিম—এই প্রশ্নে আটকে না থেকে লেবেল ও উৎপাদনের তথ্য দেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ‘ফ্রি-রেঞ্জ’, ‘অর্গানিক’, ‘কেজ-ফ্রি’ কিংবা ‘ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ’—প্রতিটি লেবেলের আলাদা অর্থ রয়েছে। মুরগির খাবারে ওমেগা-৩ বা ভিটামিন ডি যুক্ত থাকলে ডিমেও সেই পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ বাড়তে পারে। একইভাবে মুরগির জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস ডিমের পুষ্টিতে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে, বাদামি ডিম ও সাদা ডিমের মধ্যে খোসার রং ছাড়া বড় কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই। দুটিই স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ হতে পারে। ডিমে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে, আর কুসুমে থাকা কোলিন মস্তিষ্কসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা রাখে। তাই পরেরবার বাজারে ডিম কিনতে গেলে শুধু রং দেখে বেশি টাকা খরচ করার প্রয়োজন নেই। বরং ডিমের সতেজতা, সংরক্ষণ, উৎপাদন পদ্ধতি ও পুষ্টির তথ্য দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

প্রধানমন্ত্রীকে ট্রাম্পের চিঠি: ৫টি অসাধারণ বার্তায় উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশা

সাদা নাকি বাদামি ডিম কোনটি পুষ্টিগুণে এগিয়ে?

Update Time : ০৪:০৬:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাদামি ডিম দেখলেই অনেকের মনে হয়, এটি বুঝি সাদা ডিমের চেয়ে বেশি প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর। আবার কারও ধারণা, সাদা ডিম বেশি পরিষ্কার কিংবা স্বাদেও ভালো। বাজারে দুই ধরনের ডিমই সহজে পাওয়া যায় বলে কেনার সময় খোসার রং অনেকের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। কিন্তু সত্যিই কি বাদামি ডিম বেশি স্বাস্থ্যকর? নাকি এটি শুধুই প্রচলিত একটি ধারণা?

ডিমের খোসার রং মূলত নির্ভর করে মুরগির জাতের ওপর। বাদামি খোসার ডিমে ‘প্রোটোপর্ফিরিন IX’ নামের একটি রঞ্জক থাকে, যা খোসাকে বাদামি রং দেয়। একই জাতের মুরগির ক্ষেত্রেও বয়স, জিনগত পার্থক্য ও অন্যান্য পরিবেশগত কারণে রঙের হালকা-গাঢ় পার্থক্য দেখা যেতে পারে। মুরগির খাবার, মানসিক চাপ ও পরিবেশও কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি কিছু জাত নীল বা নীলচে-সবুজ খোসার ডিমও দেয়। অর্থাৎ খোসার রং দেখে ডিমের পুষ্টিমান বিচার করা ঠিক নয়।

আরও পড়ুন  গরমে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কতটা? লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

পুষ্টির দিক থেকে সাধারণ বাদামি ও সাদা ডিমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই। একটি বড় ডিমে সাধারণত প্রায় ৭০ ক্যালরি, ৬ গ্রামের বেশি উচ্চমানের প্রোটিন এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ থাকে। এতে ভিটামিন এ, বি১২, ফোলেট, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক ও কোলিনের মতো পুষ্টি উপাদানও পাওয়া যায়। ডিমের পুষ্টিমান বাড়াতে খোসার রঙের চেয়ে মুরগি কী খাবার খেয়েছে এবং কী পরিবেশে বড় হয়েছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে বাদামি ডিম কেন অনেক সময় বেশি দামে বিক্রি হয়? এর পেছনে খোসার রংকে দায়ী করা ঠিক নয়। অনেক বাদামি ডিম দেওয়া মুরগির জাত তুলনামূলক বড় হওয়ায় তাদের খাবারের প্রয়োজনও বেশি হতে পারে। উৎপাদন খরচের পার্থক্য এবং বাজারে সরবরাহের পরিমাণও দামের ওপর প্রভাব ফেলে। আবার অনেক সময় ফ্রি-রেঞ্জ, অর্গানিক বা বিশেষ ধরনের ডিম বাদামি হওয়ায় ক্রেতারা রংকেই স্বাস্থ্যকর হওয়ার প্রমাণ মনে করেন। কিন্তু শুধু বাদামি রং মানেই অর্গানিক বা বেশি পুষ্টিকর—এমনটা নয়।

আরও পড়ুন  হামে শিশু মৃত্যু বাড়ছে: টিকা ও ভিটামিন এ ঘাটতিতে বাড়ছে ঝুঁকি

স্বাদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বাদামি ও সাদা ডিমের খোসার রং নিজে থেকে ডিমের স্বাদ নির্ধারণ করে না। ডিম কতটা তাজা, মুরগির খাবার কী ছিল, কী পরিবেশে পালন করা হয়েছে এবং কীভাবে রান্না করা হচ্ছে—এসব বিষয় স্বাদে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বাড়ির মুরগির ডিম অনেকের কাছে বেশি সুস্বাদু মনে হওয়ার একটি কারণ হতে পারে সেটি তুলনামূলক তাজা থাকা। তাই স্বাদের পার্থক্য থাকলেও সেটিকে সরাসরি খোসার রঙের সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক নয়।

ডিম কেনার সময় তাই শুধু বাদামি ডিম নাকি সাদা ডিম—এই প্রশ্নে আটকে না থেকে লেবেল ও উৎপাদনের তথ্য দেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ‘ফ্রি-রেঞ্জ’, ‘অর্গানিক’, ‘কেজ-ফ্রি’ কিংবা ‘ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ’—প্রতিটি লেবেলের আলাদা অর্থ রয়েছে। মুরগির খাবারে ওমেগা-৩ বা ভিটামিন ডি যুক্ত থাকলে ডিমেও সেই পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ বাড়তে পারে। একইভাবে মুরগির জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস ডিমের পুষ্টিতে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন  চিংড়ি লাউশাকের রেসিপি, ঘরোয়া স্বাদের পুষ্টিকর রান্না

সব মিলিয়ে, বাদামি ডিম ও সাদা ডিমের মধ্যে খোসার রং ছাড়া বড় কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই। দুটিই স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ হতে পারে। ডিমে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে, আর কুসুমে থাকা কোলিন মস্তিষ্কসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা রাখে। তাই পরেরবার বাজারে ডিম কিনতে গেলে শুধু রং দেখে বেশি টাকা খরচ করার প্রয়োজন নেই। বরং ডিমের সতেজতা, সংরক্ষণ, উৎপাদন পদ্ধতি ও পুষ্টির তথ্য দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।