ঢাকা ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo অফিসের ডেস্কে রাখুন এই গাছ, মন থাকবে ফুরফুরে Logo স্থানীয় উদ্যোক্তা ঋণ পেতে তরুণদের অর্থায়ন কর্মসূচি Logo আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির অভিযোগ ‘এনসিপিতে ওপেন সিক্রেট’: রাশেদ খান Logo ইরানে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে ইউনিসেফের নীরবতার সমালোচনা তেহরানের Logo মধ্যপ্রাচ্যকে বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যানের আহ্বান শি জিনপিংয়ের Logo নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা, ওয়ার্ডে ঠাঁই না পেয়ে বারান্দায় রাত কাটছে রোগীদের Logo যে কারণে নভেম্বর পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের পক্ষে না ট্রাম্পের সহযোগীরা Logo খুলনা নগরীর তাপদাহ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ ও জলাধার সংরক্ষণ Logo রান্নায় তেজপাতা কেন ব্যবহার করবেন, জানুন উপকারিতা Logo এআই দিয়ে লিখলে যে দক্ষতা হারাতে পারে শিক্ষার্থীরা

নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা, ওয়ার্ডে ঠাঁই না পেয়ে বারান্দায় রাত কাটছে রোগীদের

জেনারেল হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে স্থান সংকট থাকায় বারান্দায় রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন আশঙ্কাজনক ও মারাত্মক আকার ধারণ করছে, যার ফলে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে তীব্র শয্যা সংকটের কারণে এখন রোগীদের ঠাঁই হচ্ছে ওয়ার্ডের সামনের খোলা জায়গা ও বারান্দায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব খোলা জায়গায় ভর্তি থাকা রোগীদের জন্য নেই কোনো ফ্যান কিংবা পর্যাপ্ত মশারির সুবিধা। ফলে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েও তীব্র গরম আর মশার কামড়ে রোগীদের অবস্থা আরও কাবু হয়ে পড়ছে, যা তাদের স্বজনদের চরম দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছেন ৫০ জন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫২ জন। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর মাত্র দুই দিনেই জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৫ জনে। ফলে চলতি বছরে জেলাজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৪২৪ জনে গিয়ে ঠেকেছে এবং রূপগঞ্জের এক সরকারি কর্মচারীর মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

হাসপাতালে পর্যাপ্ত জায়গা ও চিকিৎসাসেবা না পেয়ে রোগীদের ঢাকামুখী রেফার করার প্রবণতা স্বজনদের উদ্বেগ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জের এক অভিভাবক জানান, তার ১৮ বছর বয়সী ছেলেকে হাসপাতালে দুই দিন ভর্তি রাখার পর হঠাৎ ঢাকার ডিএনসিসি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে দরিদ্র পরিবারের পক্ষে ঢাকায় গিয়ে ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি যতই নাজুক হোক না কেন, ঘরের পাশেই সঠিক সরকারি সেবা পাওয়ার অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্বজনদের আরও অভিযোগ, হাসপাতালে বিনামূল্যে সরকারি স্যালাইন সরবরাহের কথা থাকলেও রোগীদের চড়া দামে তা কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীরা জানান, সরকারি স্যালাইন নেই জানিয়ে বাইরের দোকান থেকে ৯৫০ টাকা দিয়ে স্যালাইন কেনার নির্দেশ দিচ্ছেন দায়িত্বরতরা। এর পাশাপাশি নার্স ও চিকিৎসকদের অবহেলা এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বেশ কিছু রোগীর দাবি, হাসপাতালের নিজস্ব ল্যাবে যেসব রক্ত পরীক্ষা বিনামূল্যে করার কথা, সেগুলো বাধ্য হয়ে চড়া মূল্যে বাইরের প্রাইভেট ক্লিনিক থেকে করাতে হচ্ছে।

হাসপাতালে তৈরি হওয়া এই চরম অব্যবস্থাপনা ও মশারির তীব্র অভাবের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন সদ্য যোগদান করা জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম সাখাওয়াৎ হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, হাসপাতালে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডেঙ্গু ওয়ার্ডে মশারির সংকট থাকার বিষয়টি তার জানা ছিল না। তবে বিষয়টি অবগত হওয়ার পর তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে এবং সাধারণ মানুষের বিনামূল্যে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সামগ্রিকভাবে স্থানীয় চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়ার উপক্রম হওয়ায় অবিলম্বে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য সুনির্দিষ্ট ডেডিকেটেড শয্যা ও পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে নিজ বাসাবাড়িতে মশারি ব্যবহার ও সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। ঢাকার পার্শ্ববর্তী এই শিল্পাঞ্চলে ডেঙ্গুর সার্বিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে তৈরি হতে পারে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি।

জনপ্রিয় সংবাদ

অফিসের ডেস্কে রাখুন এই গাছ, মন থাকবে ফুরফুরে

নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা, ওয়ার্ডে ঠাঁই না পেয়ে বারান্দায় রাত কাটছে রোগীদের

Update Time : ০৬:২৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন আশঙ্কাজনক ও মারাত্মক আকার ধারণ করছে, যার ফলে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে তীব্র শয্যা সংকটের কারণে এখন রোগীদের ঠাঁই হচ্ছে ওয়ার্ডের সামনের খোলা জায়গা ও বারান্দায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব খোলা জায়গায় ভর্তি থাকা রোগীদের জন্য নেই কোনো ফ্যান কিংবা পর্যাপ্ত মশারির সুবিধা। ফলে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েও তীব্র গরম আর মশার কামড়ে রোগীদের অবস্থা আরও কাবু হয়ে পড়ছে, যা তাদের স্বজনদের চরম দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছেন ৫০ জন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫২ জন। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর মাত্র দুই দিনেই জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৫ জনে। ফলে চলতি বছরে জেলাজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৪২৪ জনে গিয়ে ঠেকেছে এবং রূপগঞ্জের এক সরকারি কর্মচারীর মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন  রূপগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে হামলা, আহত ১০

হাসপাতালে পর্যাপ্ত জায়গা ও চিকিৎসাসেবা না পেয়ে রোগীদের ঢাকামুখী রেফার করার প্রবণতা স্বজনদের উদ্বেগ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জের এক অভিভাবক জানান, তার ১৮ বছর বয়সী ছেলেকে হাসপাতালে দুই দিন ভর্তি রাখার পর হঠাৎ ঢাকার ডিএনসিসি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে দরিদ্র পরিবারের পক্ষে ঢাকায় গিয়ে ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি যতই নাজুক হোক না কেন, ঘরের পাশেই সঠিক সরকারি সেবা পাওয়ার অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

আরও পড়ুন  রূপগঞ্জে পুকুরে নামার পর দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

স্বজনদের আরও অভিযোগ, হাসপাতালে বিনামূল্যে সরকারি স্যালাইন সরবরাহের কথা থাকলেও রোগীদের চড়া দামে তা কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীরা জানান, সরকারি স্যালাইন নেই জানিয়ে বাইরের দোকান থেকে ৯৫০ টাকা দিয়ে স্যালাইন কেনার নির্দেশ দিচ্ছেন দায়িত্বরতরা। এর পাশাপাশি নার্স ও চিকিৎসকদের অবহেলা এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বেশ কিছু রোগীর দাবি, হাসপাতালের নিজস্ব ল্যাবে যেসব রক্ত পরীক্ষা বিনামূল্যে করার কথা, সেগুলো বাধ্য হয়ে চড়া মূল্যে বাইরের প্রাইভেট ক্লিনিক থেকে করাতে হচ্ছে।

হাসপাতালে তৈরি হওয়া এই চরম অব্যবস্থাপনা ও মশারির তীব্র অভাবের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন সদ্য যোগদান করা জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম সাখাওয়াৎ হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, হাসপাতালে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডেঙ্গু ওয়ার্ডে মশারির সংকট থাকার বিষয়টি তার জানা ছিল না। তবে বিষয়টি অবগত হওয়ার পর তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে এবং সাধারণ মানুষের বিনামূল্যে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন  চমকপ্রদ রূপগঞ্জ ইউপি প্রশাসক নিয়োগ: সদস্যদের সবাই বিএনপির নেতা

সামগ্রিকভাবে স্থানীয় চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়ার উপক্রম হওয়ায় অবিলম্বে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য সুনির্দিষ্ট ডেডিকেটেড শয্যা ও পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে নিজ বাসাবাড়িতে মশারি ব্যবহার ও সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। ঢাকার পার্শ্ববর্তী এই শিল্পাঞ্চলে ডেঙ্গুর সার্বিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে তৈরি হতে পারে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি।