যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে রাজনৈতিক ব্যস্ততা যখন বাড়ছে, তখন তার স্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রকাশ্য রাজনৈতিক উপস্থিতি তুলনামূলক কম হওয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প-মেলানিয়ার দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা ছড়াচ্ছে। তবে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন বা কোনো পরকীয়ার অভিযোগের বিষয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
নতুন করে আলোচনার অন্যতম কারণ হলো, আগামী সপ্তাহে টেক্সাসের ডালাসে অনুষ্ঠেয় রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনে মেলানিয়ার অনুপস্থিতি। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ওই সম্মেলনে মেলানিয়া অংশ নেবেন না বলে হোয়াইট হাউজের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
এই সম্মেলনটি রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দলীয় ঐক্য তুলে ধরা এবং ভোটারদের উজ্জীবিত করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। সম্মেলনে ট্রাম্প দুই রাতেই বক্তব্য দেবেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ রিপাবলিকান পার্টির অন্য নেতারাও এতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
রিপাবলিকানদের এই আয়োজনটি কিছুটা ব্যতিক্রমীও। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত জাতীয় দলীয় সম্মেলন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বছরেই বড় আকারে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ট্রাম্প এবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এমন একটি জাতীয় সম্মেলনের উদ্যোগ নিয়েছেন। ডালাসে ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
মেলানিয়ার অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনার পেছনে অবশ্য আরও একটি বিষয় কাজ করছে—সাম্প্রতিক সময়ে তার প্রকাশ্য উপস্থিতি সীমিত থাকা। বিশেষ করে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাকে নিয়মিত দেখা না যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের মন্তব্য ও অনুমান ছড়িয়েছে।
এর আগে ২৩ আগস্ট ওয়াশিংটন ডিসিতে Freedom 250 Grand Prix অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ও মেলানিয়াকে একসঙ্গে দেখা যায়। ওই অনুষ্ঠানে মেলানিয়া ট্রাম্পের পাশে ছিলেন এবং দুজনই আয়োজনে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের শারীরিক অঙ্গভঙ্গি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য শুরু হয়। ভিডিওতে দুজনকে পাশাপাশি দেখা গেলেও তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছিল বা তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রকৃত অবস্থা কী—তা ওই ভিডিও থেকে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
এদিকে ট্রাম্প নিজেকে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখছেন। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট–এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে নামার সময় ট্রাম্প নিজেই প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চাইছেন। ডালাসের সম্মেলনেও তিনি দুই রাত বক্তব্য দেবেন।
ফলে মেলানিয়ার অনুপস্থিতিকে কেউ কেউ রাজনৈতিক দূরত্বের ইঙ্গিত হিসেবে দেখলেও, এর পেছনে তার ব্যক্তিগত বা দাম্পত্য সম্পর্কের কারণ রয়েছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।
ট্রাম্প ও মেলানিয়ার সম্পর্ক নিয়ে এর আগেও বহুবার সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা হয়েছে। কিন্তু কোনো ছবি, ভিডিওতে কারও অভিব্যক্তি বা কোনো অনুষ্ঠানে অনুপস্থিতির ভিত্তিতে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
সুতরাং বর্তমানে নিশ্চিত তথ্য হলো—মেলানিয়া ট্রাম্প ডালাসের আসন্ন রিপাবলিকান মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনে থাকছেন না, আর এই সিদ্ধান্তকে ঘিরেই নতুন করে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। ‘পরকীয়া’ বা দাম্পত্য কলহের বিষয়টি এখনো গুঞ্জন ও অনুমানের পর্যায়েই রয়েছে।





























