আমাদের শরীরের অন্যতম প্রধান এবং অপরিহার্য অঙ্গ হলো লিভার বা যকৃৎ। এটি রক্ত থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ ছেঁকে বের করে দেওয়া, হজমে সাহায্য করা এবং শরীরের প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরি করাসহ শত শত গুরুত্বপূর্ণ কাজ প্রতিদিন সম্পন্ন করে। একটি সুস্থ লিভার সাধারণত কোনো সমস্যা ছাড়াই কাজ করে যায়। তবে লিভার যখন ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে, তখন অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভারের রোগ বা ক্ষতি যখন বাড়তে থাকে, তখন শরীর কিছু নির্দিষ্ট সংকেত দিতে শুরু করে যা আমাদের কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়।
লিভার নষ্ট হওয়ার ১০টি প্রধান লক্ষণ
জন্ডিস: ত্বক এবং চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া লিভারের সমস্যার অন্যতম প্রধান লক্ষণ।
পেটে ব্যথা বা ফোলাভাব: পেটে অস্বস্তি, ব্যথা বা অস্বাভাবিক ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।
সহজেই কালশিটে পড়া: সামান্য আঘাতেই শরীরে কালশিটে পড়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া।
ত্বকে চুলকানি: কোনো কারণ ছাড়াই ত্বকে অতিরিক্ত চুলকানি অনুভব করা।
পা বা গোড়ালি ফুলে যাওয়া: শরীরের নিচের অংশ বিশেষ করে পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া লিভার ক্ষতির লক্ষণ হতে পারে।
অপ্রত্যাশিত ওজন হ্রাস: ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই হঠাৎ শরীরের ওজন কমে যাওয়া।
ক্ষুধামন্দা: খাবারে অনীহা বা ক্ষুধা কমে যাওয়া।
বমি বমি ভাব এবং বমি: প্রায়ই বমি বমি ভাব হওয়া বা বমি হওয়া।
দুর্বলতা ও নিম্ন রক্তচাপ: সবসময় দুর্বল অনুভব করা এবং রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়া।
ফ্যাকাশে মল: মলের রঙ সাদা বা চকের মতো ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া।
কেন লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
লিভারের সমস্যার পেছনে বিভিন্ন ক্ষতিকর কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে প্রধান কারণগুলো হলো—
ভাইরাল হেপাটাইটিস: এ, বি বা সি ভাইরাসের আক্রমণ।
সিরোসিস: লিভারের টিস্যু বা কোষগুলো ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাওয়া।
ফ্যাটি লিভার ডিজিজ: বর্তমান সময়ে অত্যন্ত সাধারণ একটি সমস্যা, যা অতিরিক্ত মদ্যপান অথবা স্থূলতার কারণে লিভারে চর্বি জমে তৈরি হয়।
মারাত্মক জটিলতা: এ ছাড়া সময়মতো চিকিৎসা না করালে লিভার ক্যানসার এবং লিভার ফেইলিউরের মতো মারাত্মক পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।




























