জলবায়ু পরিবর্তন কোনো দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাই এই সংকট মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।
ভুটানে অনুষ্ঠিত ‘সাউথ এশিয়ান পার্লামেন্টারি ডায়ালগ অন এনভায়রনমেন্ট, ক্লাইমেট অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’-এ অংশ নিতে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। বৈঠকে ভুটানের জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার সাংয়ে খান্ডুও উপস্থিত ছিলেন।
দুই দিনের এই উচ্চপর্যায়ের সংলাপে দক্ষিণ এশিয়ার জলবায়ু সংকট, পরিবেশ সুরক্ষা, টেকসই জ্বালানি ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সরকারি প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন।
সংলাপে বক্তব্য দিতে গিয়ে সাঈদ আল নোমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো আন্তঃসীমান্ত সংকট কোনো একক দেশের বিচ্ছিন্ন উদ্যোগে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তাঁর ভাষায়, জলবায়ু সংকট কোনো সীমান্ত মানে না, তাই এর সমাধানের উদ্যোগও সীমান্তে আটকে থাকা উচিত নয়।
তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ক্রমেই বন্যা, ভূমিধস, খরা, পরিবেশের অবক্ষয় এবং খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার মতো অভিন্ন ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় বিচ্ছিন্ন জাতীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সমন্বিত ও আন্তঃসংযুক্ত আঞ্চলিক কৌশল প্রয়োজন।
সাঈদ আল নোমান দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত জলবায়ু শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতি, জলবায়ু সহনশীলতা, টেকসই উন্নয়ন, আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা এবং পরিবেশবান্ধব আচরণে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
সংলাপে দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক জলবায়ু দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে নেপালের সাম্প্রতিক দুর্যোগের বিষয়টি উঠে আসে। বক্তারা সতর্ক করেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বিপুলসংখ্যক মানুষ জলবায়ুজনিত সংকটে পড়তে পারেন।
দুই দিনের সংলাপের সভাপতিত্ব করেন সাউথ এশিয়ান পার্লামেন্টারিয়ানস ফোরামের (SARPF) চেয়ারম্যান ড. সঞ্জয় জয়েসওয়াল। এতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারপারসন জাহারাত আদিব চৌধুরী, ভুটানের জলবায়ু ও পরিবেশবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী লিয়নপো ইয়ুনতেন ফুনশোসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
থিম্পুর এই সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা একমত হন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন পুরো দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন সংকট। তাই দুর্যোগের পর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার পাশাপাশি আগে থেকেই দুর্যোগ প্রতিরোধ, জলবায়ু সহনশীলতা ও সমন্বিত প্রস্তুতিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। জলবায়ুর কোনো সীমান্ত নেই—তাই এর মোকাবিলার উদ্যোগও সীমান্তের গণ্ডিতে আবদ্ধ রাখা যাবে না।





























