হজ স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রক্রিয়া আরও কঠোর করেছে সৌদি আরব। আগামী আসরের পবিত্র হজ পালনে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তীর্থযাত্রীদের শারীরিক নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী ভিসা ইস্যু করার আগেই প্রতিটি প্রার্থীকে হেলথ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে। সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘নুসুক মাসার’-এর মাধ্যমে এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। সঠিক নিয়মে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফল জমা দেওয়ার পরই কেবল ভিসা অনুমোদিত হবে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষার মূল লক্ষ্য হলো কোনো গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে কি না তা যাচাই করা। ডায়ালাইসিস-নির্ভর কিডনি রোগ, তীব্র হৃদরোগ, বা কৃত্রিম অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় এমন ফুসফুসের রোগ থাকলে আবেদনকারীরা অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন। এছাড়া সক্রিয় ক্যানসার বা সংক্রামক রোগও এর অন্তর্ভুক্ত।
শারীরিক সক্ষমতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন এই নির্দেশিকায়। সম্পূর্ণভাবে হুইলচেয়ার বা ইলেকট্রিক স্কুটার চালনার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরা হজ পালনের অনুমতি পাবেন না। তবে হাঁটার সময় সামান্য সহায়তার জন্য লাঠি ব্যবহারের অনুমতি বজায় থাকবে।
হেলথ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পাওয়ার পাশাপাশি প্রচলিত টিকাদানের নিয়মগুলোও বহাল থাকবে। বিশেষ করে কোয়াড্রিভ্যালেন্ট মেনিনজোকোক্কাল এসিডব্লিউওয়াই (ACWY) টিকাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। স্বাস্থ্য সনদ ও টিকা প্রাপ্তি দুটি ভিন্ন অথচ আবশ্যিক শর্ত হিসেবে গণ্য হবে।
নিজ নিজ দেশের জাতীয় হজ কমিটির তত্ত্বাবধানে স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। অননুমোদিত কোনো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সরকারি প্ল্যাটফর্মের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সঠিক সময়ে নিয়ম মেনে প্রস্তুতি নিলে পবিত্র যাত্রা আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।



























