জ্ঞান, সংলাপ ও উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। একই সঙ্গে দেশে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক সহনশীলতা প্রতিষ্ঠায় প্রমাণভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘সহিংস চরমপন্থা মোকাবেলায় করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ‘হিট’ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ‘ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি পলিসি ল্যাব’ সম্মেলনটির আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, সহিংস চরমপন্থা কেবল একটি নিরাপত্তাজনিত সমস্যা নয়; এটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সামাজিক সম্প্রীতি ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্যও বড় বাধা। তাই এ ধরনের প্রবণতা মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, অন্যায়, অবিচার ও সহিংসতা প্রতিরোধের পাশাপাশি দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মানুষের বৈচিত্র্যকে সম্মান এবং পারস্পরিক সহনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
ঢাবি উপাচার্য আরও বলেন, সহিংস চরমপন্থার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিক্রিয়া হতে হবে বিচক্ষণ, মানবিক এবং প্রমাণভিত্তিক। কোনো সমস্যার গভীরে না গিয়ে শুধু তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখালে দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। এজন্য গবেষণার মাধ্যমে সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে কার্যকর নীতি ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে তরুণ সমাজ, পরিবার, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, সামাজিক সংগঠন, সাংবাদিক এবং নীতিনির্ধারকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে কোন বিষয়গুলো বিপজ্জনক মতাদর্শকে আকর্ষণীয় করে তুলছে, সেসব কারণ চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সহিংস চরমপন্থা প্রতিরোধে সামাজিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে নিয়মিত সংলাপের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও বোঝাপড়ার পরিবেশ তৈরি করা গেলে বিভাজন ও উগ্রতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আবু সায়েম।
আয়োজকরা জানান, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি এবং সহনশীলতা তৈরির লক্ষ্যে বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগে একটি গবেষণা প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে।
এই গবেষণা প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো আন্তঃধর্মীয় সম্পৃক্ততার মাধ্যমে উগ্রবাদের বিভিন্ন কারণ চিহ্নিত করা। পাশাপাশি বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের পথ খুঁজে বের করা।
আয়োজকদের মতে, সহিংস চরমপন্থা মোকাবিলায় শুধু নিরাপত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে শিক্ষা, গবেষণা, সামাজিক সচেতনতা, আন্তঃধর্মীয় সংলাপ এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিতে হবে।
সম্মেলনে গবেষণা প্রকল্পে সার্বিক সহযোগিতার স্বীকৃতি হিসেবে ২১ জনকে সনদ দেওয়া হয়। দিনব্যাপী এই সম্মেলনে গবেষক, শিক্ষক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন সহিংস চরমপন্থা প্রতিরোধের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন।




























