ঢাকা ১২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিসে ৫৭ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রের সামার বক্স অফিসে তৈরি হয়েছে নতুন আয়ের রেকর্ড। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিসে এবারের গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে তৈরি হয়েছে নতুন ইতিহাস। ১ মে থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটির সিনেমা হলগুলোতে টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্য দিয়ে ২০১৩ সালে তৈরি হওয়া গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসের সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড ভেঙে গেছে। দীর্ঘ ১৩ বছর পর হলিউডের সামার বক্স অফিসে এমন বড় সাফল্য দেখা গেল।

২০১৩ সালে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে সিনেমা হল থেকে আয় হয়েছিল ৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। সে সময় আয়রনম্যান ৩, ডেসপিকেবল মি ২ এবং ম্যান অব স্টিলের মতো জনপ্রিয় সিনেমা দর্শক টেনেছিল। এবার সেই অঙ্ক সামান্য ছাড়িয়ে গেছে। তবে নতুন রেকর্ড বিশ্লেষণের সময় কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০১৩ সালের আয় মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি। পাশাপাশি এবার সামার বক্স অফিসের সময়কাল ছিল ১৩০ দিন, যেখানে ২০১৩ সালে ছিল ১২৩ দিন। লেবার ডে ছুটির অবস্থানের কারণেই এবার মৌসুম কিছুটা দীর্ঘ হয়েছে।

এবারের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি হলো চার মাসের প্রতিটিতেই এক বিলিয়ন ডলারের বেশি আয়। মে মাসে সিনেমা হলগুলো আয় করেছে ১ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলার। জুনে সেই আয় দাঁড়ায় ১ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলারে। জুলাইয়ে আয় আরও বেড়ে হয় ১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার এবং আগস্টে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার। সাধারণত মে মাসের শুরু থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সোমবারের লেবার ডে পর্যন্ত সময়কে হলিউডের সামার বক্স অফিস মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

করোনাভাইরাস মহামারির পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিস ৪ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করল। এর আগে ২০২৩ সালে বার্বি ও ওপেনহাইমারকে ঘিরে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে আয় হয়েছিল ৪ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার। মহামারির আগে ২০১৯ সালে অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেমসহ একাধিক বড় সিনেমার সাফল্যে সামার বক্স অফিসে আয় হয়েছিল ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। ফলে এবারের রেকর্ডকে হলিউডের সিনেমা ব্যবসায় ঘুরে দাঁড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

রেকর্ড আয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির সিনেমাগুলো। টয় স্টোরি ৫ এবং দ্য ডেভিলস ওয়্যারস প্রাডা ২-এর মতো সিকুয়েলের পাশাপাশি অবসেশন ও ব্যাকরুমসের মতো সিনেমাও দর্শকদের আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে স্পাইডার–ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে থেকে। সনির মার্ভেল সিনেমাটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯২৩ মিলিয়ন ডলার এবং বিশ্বব্যাপী প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। অন্যদিকে ক্রিস্টোফার নোলানের দ্য অডিসিও প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ব্যবসা করেছে। উত্তর আমেরিকায় সিনেমাটির আয় ৫৮৯ মিলিয়ন ডলার এবং বিশ্বব্যাপী আয় ১ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

লেবার ডে ছুটির চার দিনের সপ্তাহান্তেও যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিসের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে স্পাইডার–ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে। টানা ছয় সপ্তাহ ধরে শীর্ষে থাকা সিনেমাটি মার্কিন বাজারে আরও এগিয়ে গেলে স্টার ওয়ার্স: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেনসের ৯৩৬ মিলিয়ন ডলারের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে। সব মিলিয়ে এবারের গ্রীষ্মকাল হলিউডের জন্য ছিল দারুণ সফল। বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি, জনপ্রিয় চরিত্র এবং দর্শকদের হলে ফেরার আগ্রহ মিলিয়ে সিনেমা ব্যবসায় নতুন আশার বার্তা দিয়েছে এই রেকর্ড আয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিসে ৫৭ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড

Update Time : ১১:১১:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিসে এবারের গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে তৈরি হয়েছে নতুন ইতিহাস। ১ মে থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটির সিনেমা হলগুলোতে টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্য দিয়ে ২০১৩ সালে তৈরি হওয়া গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসের সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড ভেঙে গেছে। দীর্ঘ ১৩ বছর পর হলিউডের সামার বক্স অফিসে এমন বড় সাফল্য দেখা গেল।

২০১৩ সালে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে সিনেমা হল থেকে আয় হয়েছিল ৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। সে সময় আয়রনম্যান ৩, ডেসপিকেবল মি ২ এবং ম্যান অব স্টিলের মতো জনপ্রিয় সিনেমা দর্শক টেনেছিল। এবার সেই অঙ্ক সামান্য ছাড়িয়ে গেছে। তবে নতুন রেকর্ড বিশ্লেষণের সময় কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০১৩ সালের আয় মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি। পাশাপাশি এবার সামার বক্স অফিসের সময়কাল ছিল ১৩০ দিন, যেখানে ২০১৩ সালে ছিল ১২৩ দিন। লেবার ডে ছুটির অবস্থানের কারণেই এবার মৌসুম কিছুটা দীর্ঘ হয়েছে।

আরও পড়ুন  মাত্র ৩৬ বছরের জীবন, কিন্তু আজও বিশ্বজুড়ে অমর মেরিলিন মনরো।

এবারের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি হলো চার মাসের প্রতিটিতেই এক বিলিয়ন ডলারের বেশি আয়। মে মাসে সিনেমা হলগুলো আয় করেছে ১ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলার। জুনে সেই আয় দাঁড়ায় ১ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলারে। জুলাইয়ে আয় আরও বেড়ে হয় ১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার এবং আগস্টে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার। সাধারণত মে মাসের শুরু থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সোমবারের লেবার ডে পর্যন্ত সময়কে হলিউডের সামার বক্স অফিস মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আরও পড়ুন  ১৮ রুপি থেকে বলিউডের তারকা, রাজকুমার রাওয়ের সংগ্রামের গল্প

করোনাভাইরাস মহামারির পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিস ৪ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করল। এর আগে ২০২৩ সালে বার্বি ও ওপেনহাইমারকে ঘিরে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে আয় হয়েছিল ৪ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার। মহামারির আগে ২০১৯ সালে অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেমসহ একাধিক বড় সিনেমার সাফল্যে সামার বক্স অফিসে আয় হয়েছিল ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। ফলে এবারের রেকর্ডকে হলিউডের সিনেমা ব্যবসায় ঘুরে দাঁড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

রেকর্ড আয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির সিনেমাগুলো। টয় স্টোরি ৫ এবং দ্য ডেভিলস ওয়্যারস প্রাডা ২-এর মতো সিকুয়েলের পাশাপাশি অবসেশন ও ব্যাকরুমসের মতো সিনেমাও দর্শকদের আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে স্পাইডার–ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে থেকে। সনির মার্ভেল সিনেমাটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯২৩ মিলিয়ন ডলার এবং বিশ্বব্যাপী প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। অন্যদিকে ক্রিস্টোফার নোলানের দ্য অডিসিও প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ব্যবসা করেছে। উত্তর আমেরিকায় সিনেমাটির আয় ৫৮৯ মিলিয়ন ডলার এবং বিশ্বব্যাপী আয় ১ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন  ঘোস্ট রাইডার সিনেমায় রায়ান গসলিংয়ের দুর্দান্ত চমক

লেবার ডে ছুটির চার দিনের সপ্তাহান্তেও যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিসের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে স্পাইডার–ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে। টানা ছয় সপ্তাহ ধরে শীর্ষে থাকা সিনেমাটি মার্কিন বাজারে আরও এগিয়ে গেলে স্টার ওয়ার্স: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেনসের ৯৩৬ মিলিয়ন ডলারের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে। সব মিলিয়ে এবারের গ্রীষ্মকাল হলিউডের জন্য ছিল দারুণ সফল। বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি, জনপ্রিয় চরিত্র এবং দর্শকদের হলে ফেরার আগ্রহ মিলিয়ে সিনেমা ব্যবসায় নতুন আশার বার্তা দিয়েছে এই রেকর্ড আয়।