মায়ের মৃত্যুতে কারাবন্দী সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক এই প্যারোল মঞ্জুরের আদেশ দেন। এর আগে চিন্ময়ের পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা হয়েছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা সন্ধ্যা রানী ধর (৭২) মৃত্যুবরণ করেন। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্যই তাঁর এই প্যারোলের আবেদন করা হয়।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা গণমাধ্যমকে জানান, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়ম অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁর প্যারোল আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল হোসেন জানান, প্যারোল মঞ্জুরের বিষয়টি তারা শুনেছেন। দাপ্তরিক লিখিত আদেশটি কারা কর্তৃপক্ষের হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মুক্তি দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ওই মামলার বাদী ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে দলীয়ভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
ওই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গত ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ২৬ নভেম্বর তাঁকে আদালতে তোলার দিন তাঁর জামিন নামঞ্জুরকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে ব্যাপক সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
ওই সংঘর্ষের একপর্যায়ে আদালত ভবনের অদূরে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে এ হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে এসব মামলাতেই কারাগারে বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।




























