ঢাকা ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

মেট্রোরেল কতটা নিরাপদ? ২৭ বেয়ারিং প্যাড ক্রিটিক্যাল, ৪৬ পিয়ারে ফাটল

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:২৮:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৬

ঢাকার মেট্রোরেল, সামনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ইনসেটে বেয়ারিং প্যাডের ত্রুটির দৃশ্য ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল রুটের ২৭টি বেয়ারিং প্যাডে গুরুতর বা ‘ক্রিটিক্যাল’ ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে।
একই সঙ্গে ৪৬টি পিয়ারে বিভিন্ন মাত্রার ফাটল বা ক্র্যাক পাওয়া গেছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
স্বাধীন সেফটি অডিট কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব তথ্য সামনে এসেছে।
এরপর থেকেই মেট্রোরেলের নিরাপত্তা ও যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য দেন মন্ত্রী।
অডিট প্রতিবেদনে উত্তরা-মতিঝিল রুটের মোট ৭৩০টি বেয়ারিং প্যাডে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
তবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এই ৭৩০টির সবগুলোই গুরুতর বা ক্রিটিক্যাল অবস্থায় নেই।
এর মধ্যে ২৭টি বেয়ারিং প্যাডকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ১৪৭টি বেয়ারিং প্যাডের ত্রুটি তুলনামূলকভাবে কম গুরুতর বা মাইনর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আর ২৯৭টি প্যাডের ক্ষেত্রে সমস্যার প্রধান কারণ হিসেবে স্থাপনের সময় কাজের মান বা ‘ওয়ার্কম্যানশিপ’-সংক্রান্ত বিষয় পাওয়া গেছে।
একই অডিটে মেট্রোরেলের ৪৬টি পিয়ারে বিভিন্ন মাত্রার ফাটল শনাক্ত হয়েছে।
এসব ফাটলের প্রকৃত ঝুঁকি ও প্রয়োজনীয় মেরামত পদ্ধতি নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।

যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে কয়েকটি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।
বেয়ারিং প্যাড স্থানচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এমন ১০টি স্থানে স্টিল ব্র্যাকেট বসানো হয়েছে।
এ ছাড়া ২৭টি জায়গায় বেয়ারিং প্যাডের অবস্থান ও বসে যাওয়ার মাত্রা পর্যবেক্ষণে ‘সেটেলমেন্ট মার্কার’ স্থাপন করা হয়েছে।
ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত ২৭টি বেয়ারিং প্যাড আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

৪৬টি পিয়ারে পাওয়া ফাটল কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা নির্ধারণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) অবকাঠামোগত পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।
ফাটলের আকার ও পরিবর্তন নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য ১০২টি স্থানে ‘স্ট্রাকচারাল ক্র্যাক গেজ’ বসানোর কাজও শুরু হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এসব ক্র্যাক গেজ বসানোর কাজ শেষ করা।
এরপর পর্যবেক্ষণের ফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মেরামত কৌশল নির্ধারণ করা হবে।

তবে বর্তমান তথ্য থেকে সাধারণ যাত্রীদের জন্য ঝুঁকির মাত্রা নির্দিষ্ট সংখ্যায় বলা সম্ভব নয়।
অডিটে ২৭টি বেয়ারিং প্যাডকে ক্রিটিক্যাল বলা এবং ৪৬ পিয়ারে ফাটল পাওয়ায় বিষয়টি অবশ্যই নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
এর আগে ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের বেয়ারিং প্যাড পড়ে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
সে কারণেই এবার ত্রুটি শনাক্তের পর দ্রুত প্রতিস্থাপন, পর্যবেক্ষণ ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য মেট্রোরেলের ওপর নির্ভর করেন।
তাই অবকাঠামোগত যেকোনো ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত ও মেরামতের পাশাপাশি যাত্রীদের নিয়মিত তথ্য জানানোও গুরুত্বপূর্ণ।
সরকার বলছে, সেফটি অডিটের সুপারিশ বাস্তবায়নে ডিএমটিসিএল গত ১৬ জুলাই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে।
এখন মূল নজর থাকবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্রিটিক্যাল বেয়ারিং প্যাড প্রতিস্থাপন এবং পিয়ারের ফাটল মেরামতে কী অগ্রগতি হয় তার ওপর।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেট্রোরেল কতটা নিরাপদ? ২৭ বেয়ারিং প্যাড ক্রিটিক্যাল, ৪৬ পিয়ারে ফাটল

মেট্রোরেল কতটা নিরাপদ? ২৭ বেয়ারিং প্যাড ক্রিটিক্যাল, ৪৬ পিয়ারে ফাটল

Update Time : ১২:২৮:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল রুটের ২৭টি বেয়ারিং প্যাডে গুরুতর বা ‘ক্রিটিক্যাল’ ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে।
একই সঙ্গে ৪৬টি পিয়ারে বিভিন্ন মাত্রার ফাটল বা ক্র্যাক পাওয়া গেছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
স্বাধীন সেফটি অডিট কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব তথ্য সামনে এসেছে।
এরপর থেকেই মেট্রোরেলের নিরাপত্তা ও যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য দেন মন্ত্রী।
অডিট প্রতিবেদনে উত্তরা-মতিঝিল রুটের মোট ৭৩০টি বেয়ারিং প্যাডে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
তবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এই ৭৩০টির সবগুলোই গুরুতর বা ক্রিটিক্যাল অবস্থায় নেই।
এর মধ্যে ২৭টি বেয়ারিং প্যাডকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  নিষিদ্ধ হচ্ছে আওয়ামী লীগের রাজনীতি, সংসদে সংশোধিত অধ্যাদেশ

মন্ত্রী জানান, ১৪৭টি বেয়ারিং প্যাডের ত্রুটি তুলনামূলকভাবে কম গুরুতর বা মাইনর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আর ২৯৭টি প্যাডের ক্ষেত্রে সমস্যার প্রধান কারণ হিসেবে স্থাপনের সময় কাজের মান বা ‘ওয়ার্কম্যানশিপ’-সংক্রান্ত বিষয় পাওয়া গেছে।
একই অডিটে মেট্রোরেলের ৪৬টি পিয়ারে বিভিন্ন মাত্রার ফাটল শনাক্ত হয়েছে।
এসব ফাটলের প্রকৃত ঝুঁকি ও প্রয়োজনীয় মেরামত পদ্ধতি নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।

যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে কয়েকটি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।
বেয়ারিং প্যাড স্থানচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এমন ১০টি স্থানে স্টিল ব্র্যাকেট বসানো হয়েছে।
এ ছাড়া ২৭টি জায়গায় বেয়ারিং প্যাডের অবস্থান ও বসে যাওয়ার মাত্রা পর্যবেক্ষণে ‘সেটেলমেন্ট মার্কার’ স্থাপন করা হয়েছে।
ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত ২৭টি বেয়ারিং প্যাড আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  এলপিজি কার্ড নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত

৪৬টি পিয়ারে পাওয়া ফাটল কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা নির্ধারণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) অবকাঠামোগত পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।
ফাটলের আকার ও পরিবর্তন নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য ১০২টি স্থানে ‘স্ট্রাকচারাল ক্র্যাক গেজ’ বসানোর কাজও শুরু হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এসব ক্র্যাক গেজ বসানোর কাজ শেষ করা।
এরপর পর্যবেক্ষণের ফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মেরামত কৌশল নির্ধারণ করা হবে।

তবে বর্তমান তথ্য থেকে সাধারণ যাত্রীদের জন্য ঝুঁকির মাত্রা নির্দিষ্ট সংখ্যায় বলা সম্ভব নয়।
অডিটে ২৭টি বেয়ারিং প্যাডকে ক্রিটিক্যাল বলা এবং ৪৬ পিয়ারে ফাটল পাওয়ায় বিষয়টি অবশ্যই নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
এর আগে ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের বেয়ারিং প্যাড পড়ে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
সে কারণেই এবার ত্রুটি শনাক্তের পর দ্রুত প্রতিস্থাপন, পর্যবেক্ষণ ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনের নতুন দায়িত্ব, প্রজ্ঞাপন জারি

ঢাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য মেট্রোরেলের ওপর নির্ভর করেন।
তাই অবকাঠামোগত যেকোনো ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত ও মেরামতের পাশাপাশি যাত্রীদের নিয়মিত তথ্য জানানোও গুরুত্বপূর্ণ।
সরকার বলছে, সেফটি অডিটের সুপারিশ বাস্তবায়নে ডিএমটিসিএল গত ১৬ জুলাই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে।
এখন মূল নজর থাকবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্রিটিক্যাল বেয়ারিং প্যাড প্রতিস্থাপন এবং পিয়ারের ফাটল মেরামতে কী অগ্রগতি হয় তার ওপর।