স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে না এবং প্রার্থীরা কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নিতে পারবেন না।
আইন অনুযায়ী যোগ্য যে কোনো প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।
সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে কোন প্রার্থী কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত, তা সাধারণ মানুষের জানা থাকতে পারে।
তবে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অর্থাৎ দলীয় প্রতীক বাদ গেলেও স্থানীয় রাজনীতিতে রাজনৈতিক সমর্থনের বিষয়টি পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে না।
নতুন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন ও প্রতীক ব্যবহার করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থাকবে না।
প্রার্থীরা নিজেদের নামে এবং নির্বাচন কমিশন থেকে বরাদ্দ পাওয়া স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়ে ভোটারদের কাছে যাবেন।
ফলে একই রাজনৈতিক মতাদর্শের একাধিক প্রার্থীও একটি এলাকায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।
এতে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা ও স্থানীয় কর্মকাণ্ড ভোটের মাঠে বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।
বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের ব্যবস্থা চালু হয়েছিল ২০১৫ সালে আইন সংশোধনের মাধ্যমে।
এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন মূলত নির্দলীয় পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হতো এবং প্রার্থীরা রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক প্রতীক ব্যবহার করতেন না।
২০২৫ সালে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়ে দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ও স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশের পর এ পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
নির্বাচন কমিশনও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে নির্দলীয় কাঠামোয় আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না রাখার বিষয়টি নতুন বিধিমালায় রাখা হয়েছে।
কমিশনের খসড়া বিধি ও আচরণবিধিতেও দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন আয়োজনের বিধান রাখা হয়েছে।
এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আবারও গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে দলীয় প্রতীক না থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় সমর্থন বা প্রভাব পুরোপুরি বন্ধ হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, স্থানীয়ভাবে বিএনপি সমর্থিত নির্দিষ্ট প্রার্থী থাকতে পারেন এবং ভোটাররা প্রার্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবেন।
ফলে ব্যালটে দলীয় প্রতীক দেখা না গেলেও মাঠের রাজনীতিতে বিভিন্ন দলের সমর্থিত প্রার্থীদের প্রতিযোগিতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ কারণে নির্বাচন কতটা নির্দলীয় চরিত্র বজায় রাখতে পারে, সেটিও ভোটের সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।
এদিকে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টিও রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রার্থীর যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়টি প্রচলিত আইন ও নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।
অর্থাৎ শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়, আইনি যোগ্যতাই প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য হবে।
চূড়ান্তভাবে কারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, তা মনোনয়ন যাচাই ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আইনের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।
দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচলিত রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচিতি, এলাকার সঙ্গে সম্পর্ক, আগের কাজ এবং ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবার আরও বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।
একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং মাঠপর্যায়ে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এখন নজর থাকবে দলীয় প্রতীক ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন বাস্তবে কতটা প্রতিযোগিতামূলক, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হয় তার দিকে।




























